
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
জাভেদের মৃত্যর খবর নিশ্চিত করেছেন তার চিত্রনায়িকা স্ত্রী ডলি চৌধুরী। তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন।
ডলি চৌধুরী বললেন, ‘আজ সকালে উনার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। এমনিতে তো তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। একটা সময় বাসায় রেখে তাঁর চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও দুজন নার্স এসে বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন। আজ সকালে দুজন নার্স এসে জানান, তাঁর সারা শরীর ঠান্ডা। এরপর অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে তার চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
১৯৬৪ সালে উর্দু ছবি ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে অভিষেক হয় জাভেদের। তবে ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার পর দর্শকপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এই নায়কের। এই সিনেমায় তার নায়িকা ছিলেন শাবানা।
এছাড়া তিনি ছিলেন একজন নৃত্য পরিচালকও। তার আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটলেও পরবর্তিতে নায়ক হিসেবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। তিনি তার অনেক কাজের মধ্যে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রের জন্য বেশি পরিচিত।
তার চলচ্চিত্রে প্রথম নৃত্য পরিচালনা ছিল কায়সার পাশার পরিচালনায় উর্দু সিনেমা ‘মালান’–এ। ১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু হয় জাভেদের। তার অভিনীত আলোচিত ছবির তালিকায় রয়েছে ‘মালকা বানু’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘শাহজাদী’, ‘নিশান’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রবান’, ‘কাজল রেখা’, ‘সাহেব বিবি’ ইত্যাদি।
জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি স্বপরিবারে সেখান থেকে পাঞ্জাবে চলে আসেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন।
পূর্বকোণ/পিআর