চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

সর্বশেষ:

‘সুস্থ হয়ে একসঙ্গে আবারও গান করব দাদা’

৮ মে, ২০১৯ | ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

বরেণ্য সুরকার, সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যামের হাত ধরে ১৯৭৬ সালে ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে প্লেব্যাক জগতে পা রেখেছিলেন সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। এরপর এ সুরকারের সুরে ‘তুমি তো আমার তুমি তো আমার’ ‘আমি জীবনের আয়োজন সাজিয়েছি শুধু’, ‘ভালোবাসা কিছু আশা’সহ অর্ধশতাধিক গান কণ্ঠে তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার ভোরে সুবীর নন্দীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইতি ঘটল বাংলা সংগীতের এ জনপ্রিয় জুটির। জীবদ্দশায় প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একসঙ্গে গান বেঁধেছেন তারা।
মৃত্যুর সাত মাস আগেও সুজেয় শ্যামের সুরে পান্না লাল দত্তের লেখা ‘রাজ প্রাসাদের ঝাড়বাতিটা’ শিরোনামে একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সুবীর নন্দী। তার কয়েকমাস পর ভারতের বেঙ্গালুরে দেখা হয় দুইজনের। সুজেয় শ্যাম ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন সেখানে। কথায় কথায় সুবীর নন্দী তাকে বলেছিলেন, ‘সুস্থ হয়ে একসঙ্গে আবারও গান করব দাদা। সুজেয় শ্যাম অভয় দিয়েছিলেন, চিন্তা করিস না। অবশ্যই গান করব’। কিন্তু সেই গান আর বাঁধা হল না।
দীর্ঘদিনের সহশিল্পীকে হারিয়ে ‘ব্যথিত’ সুজেয় শ্যাম স্মৃতিচারণ করলেন পুরনো দিনের। উঠে এলো সুবীর নন্দীর শিল্পী হয়ে উঠা ও সংগ্রামের গল্প। ১৯৬৭ সালে সিলেট বেতারে প্রথম গান করেন। গত শতকের সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে বাংলাদেশ বেতারে গানের সুযোগ পেয়ে ঢাকায় এসে সুজেয় শ্যামের মগবাজারের বাসায় উঠেছিলেন তিনি। সুজেয় শ্যামের ভাষ্যে, বাসাটি সুবীর নন্দীর কাছে ‘সরাইখানা’ ছিল। বাসার ব্যালকনি, ছাদজুড়ে গানের সঙ্গে বিচরণ করতেন তিনি। বেতারে গাওয়ার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ খুঁজছিলেন সুবীর। সুজেয় শ্যামের হাত ধরেই ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদের ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের সুযোগ পেলেন।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট