চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪

আমরা কোন কৌশল অবলম্বন করিনি: প্রবাসীদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইউএই প্রতিনিধি

১০ মার্চ, ২০২৪ | ৬:৫২ অপরাহ্ণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেছেন, আমরা কোন কৌশল অবলম্বন করিনি, তারা (বিএনপি) নিজেই নির্বাচন থেকে নিজেদের বাইরে রেখেছে। আমরা চেয়েছিলাম তারা নির্বাচনে আসুক।

 

শনিবার (৯ মার্চ) রাতে আবুধাবি আগমন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি আবুধাবির উদ্যোগে আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুলে দেয়া এক গণসংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেন, বিগত নির্বাচনের পর সবাই তাকিয়ে ছিলেন নির্বাচন নিয়ে আমেরিকা কি বলে, ইউরোপ কি বলে, বিএনপিও উঁকি মেরেছিল। কিন্তু এই পর্যন্ত ৮০টি দেশের সরকার প্রধান, ৩২টি আন্তর্জাতিক সংস্থা শেখ হাসিনার সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দু’দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। বর্তমান সরকারকে সমগ্র পৃথিবী গ্রহণ করেছে, এ সরকারের সাথে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে।

 

পরিষদ সভাপতি ইফতেখার হোসেন বাবুলের সভাপতিতে এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির তালুকদারের পরিচালনায় আয়োজিত এ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাইমুম সরোয়ার কমল এমপি, ইউএইতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবু জাফর ও আওয়ামী লীগের ধর্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলেন শেখ হাসিনা। জেলেনস্কি তার সাথে সাক্ষাৎ করলে প্রধানমন্ত্রী তাকে মুখের উপর বলেছেন, আমরা তো কোন যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধ বন্ধের উপায় বের করুন। গাজা হত্যাকাণ্ডের জোরালো প্রতিবাদ করেছি আমরা। শেখ হাসিনা আজ কেবল বাংলাদেশের নেতা নন, তিনি একজন  বিশ্ব নেতাও।

 

তিনি বলেন, যারা ১০ বছর পর দেশে যাবেন তারা এখন তাদের গ্রাম চিনতে পারবেন না। এখন শহরের অলিতে গলিতে বাসি ভাতের ডাক শোনা যায় না, গ্রামেও না। মুষ্টি চাল ভিক্ষা দেবেন সেটি এখন উঠে গেছে। আকাশ থেকে ঢাকা শহরকে চেনা যায় না, চট্টগ্রাম শহর চেনা যায় না। মানব উন্নয়নের, সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের, স্বাস্থ্য উন্নয়নের প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ আজ পাকিস্তানকে কোনোটিতে ১২-১৪ বছর আগে এবং সবগুলোতে ৭-৮ বছর আগে পেছনে ফেলে এসেছে। ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হয়ে বললেন, আমাকে ১০ বছর সময় দেন পাকিস্তানকে সুইডেনে পরিণত করব। তখন আলোচনার ঝড় বইলো জনগণ বলল, সুইডেন নয়- ১০ বছরে বাংলাদেশে পরিণত করুন। ২০২১ সালে আমরা মাথাপিছু আয়ে ভারতকে অতিক্রম করেছি। এটা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছে। আমরা একটি মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করতে চাই, যেখানে দরিদ্র-দুঃস্থদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।

 

তিনি প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স বৈধ পথে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বৈধ পথে টাকা পাঠালে তা দেশের অর্থনীতি মজবুত করে। রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়, সিআইপি মর্যাদা দেয়া হয়।। বৈধ পথে ক্ষুদ্র রেমিট্যান্স প্রেরণকারীরাও যাতে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান সেজন্য তিনি সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, প্রবাসীরা আজ যেসব সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন তা ১০ বছর আগে ছিল না। শেখ হাসিনার সরকার প্রবাসীদের মূল্যায়ন করেন কারণ প্রধানমন্ত্রী নিজেও দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।

 

তিনি বলেন, সৌদি আরব ও আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে তার ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাংলাদেশের কর্মীদের কাজের প্রশংসা করেছেন। আমরা তাদের বাংলাদেশে কর্মী ভিসা খোলার জন্য অনুরোধ করেছি, তারা তা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে তিনি প্রবাসীদেরকেও অনৈতিক কার্যক্রম, জাল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতি করে এমন কোন আচরণ না করারও পরামর্শ দেন।

 

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. হাবিবুল হক খন্দকার, শাহজাদা মহিউদ্দিন, বদিউল আলম বদি, ইয়াছিন চৌধুরী সিআইপি, ইমরাদ হোসেন ইমু, শওকত আকবর প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ আবুধাবীর পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়। মন্ত্রী আবুধাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিটি স্কুলকে সরকারি সহায়তা প্রদান, চট্টগ্রামে বিমানের সুপরিসর ফ্লাইট চালুসহ প্রবাসীদের সমস্যা নিরসনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

 

 

পূর্বকোণ/বাপ্পি/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট