চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪

সর্বশেষ:

বাংলা ও ইংরেজী ভার্সানে

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ক্যাম্পাস

এম. মোরশেদ

১৩ মে, ২০১৯ | ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

গেল বছরের মত এবারও অনলাইনে চলছে কলেজ ভর্তির আবেদন। গতবারের মত
আবারও নানা জটিলতার আশঙ্কায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। পছন্দের কলেজে ভর্তি সম্ভব হবে তো? ২০১৯ সালের এসএসসিতে চট্টগ্রাম বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭,৩৯৩ জন। নগরীর সরকারী কলেজগুলোতে মাত্র ২২০০ আসনে গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্তরাই কেবল সুযোগ পাবে। ফলে এবারও হাজারো মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে ভর্তি হতে হবে প্রাইভেট কলেজসমূহে। এক্ষেত্রে সচেতন
অভিভাবকবৃন্দের প্রথম পছন্দ পাঁচলাইশ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বাংলা ভার্সন ও ইংরেজী ভার্সনে (ন্যাশনাল কারিকুলাম) পরিচালিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত কলেজ অব সায়েন্স, বিজনেস এন্ড হিউমেনিটিজ (ঈঝইঐ) (ঊওওঘ-১৩৪৭৮০)। কারণ গতানুগতিক পাঠ পদ্ধতি এবং বাণিজ্যিক মানসিকতার বিপরীত ¯্র্েরাতে এগিয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, গবেষণালব্ধ সুনির্দিষ্ট পাঠ পদ্ধতি এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর সময়োপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে সচেতন মহলের আস্থা অর্জন করেছে কলেজটি।
কলেজ প্রতিষ্ঠাতা স্বনামখ্যাত ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ সেন্টার ঊীবপঁঃরাবদং ঈধৎব এর কর্ণধার শিক্ষাবিদ মেহরাব মাসুক এম.বি.এ (আই.বি.এ) এ প্রসঙ্গে নানা আলাপচারিতায় তুলে ধরেন কলেজের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্টসমূহ।
অভিজ্ঞ শিক্ষক : ঈঝইঐ এ রয়েছে দুই স্তর বিশিষ্ট শিক্ষকম-লী। ১ম স্তরে স্ব-স্ব বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী নবীন শিক্ষক-শিক্ষিকাগণকে নির্বাচিত করা হয়েছে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে। এছাড়াও স্টুডেন্ট সাইকোলজীতে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে প্রত্যেক শিক্ষককে। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছেন খ্যাতিমান কলেজের স্বনামধন্য শিক্ষকবৃন্দ যেমন, অধ্যাপক মোঃ সিরাজউদ্দৌলা (অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, সরকারী হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ), অধ্যাপক মোঃ শহীদুল্লাহ (প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, প্রাণীবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ), প্রফেসর দীপক দাশ (প্রাক্তন অধ্যাপক, গণিত বিভাগ, সরকারী হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ, চট্টগ্রাম), প্রফেসর মো. মুজাহিদ হোসেন (প্রাক্তন
বিভাগীয় প্রধান, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, চট্টগ্রাম সরকারী কমার্স কলেজ), প্রফেসর সুবির দাশ (প্রাক্তন অধ্যাপক, রসায়ন বিজ্ঞান, চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ), যাঁদের পাঠদান শিক্ষার্থীদের জ্ঞান স্তরকে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়। অধ্যক্ষ রূপে রয়েছেন চট্টগ্রাম সরকারী কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক অজিত কুমার শীল ।
পাঠদান পদ্ধতিঃ শিক্ষাপদ্ধতি সম্মন্ধে অধ্যক্ষ জানান, “আমাদের শিক্ষাপদ্ধতি সুশৃঙ্খল, বিজ্ঞানসম্মত ও প্রযুক্তিনির্ভর। প্রতিটি বিষয়ের পাঠ্যসমূহকে জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও বিশ্লেষণ অনুক্রমে বিন্যস্ত করেছি আমরা। গতানুগতিক লেকচার এর পরিবর্তে প্রতিটি শিক্ষক পাঠ্য বিষয়ের উপর বাংলা ও ইংরেজী ভার্সনে তৈরি করেন সমৃদ্ধ লেকচারশীট ও এম সি কিউ প্র্যাকটিস শীট। ডিজিটাল কনটেন্ট এর মাধ্যমে বিষয় উপস্থাপন, পর্যালোচনা, এসাইনমেন্ট, কুইজ প্রতিযোগিতা ও প্রজেক্ট এনালাইসিসের মাধ্যমে পাঠকে করা হয় সহজবোধ্য যাতে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্ন সহজে সমাধান করতে পারে। ওভারহেড প্রজেক্টর ও মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে লেকচারশীট ভেসে ওঠে পর্দায়। একই সময়ে হোয়াইট বোর্ডে শিক্ষক তা বুঝিয়ে দেন ডায়াগ্রাম এর মাধ্যমে। ৩০ জনের প্রতিটি ক্লাসে প্রত্যেক ছাত্রের নিবিড় যতœ নেন শিক্ষকগণ। লেকচারশীট ও এম সি কিউ প্র্যাকটিস শীট সলভ করার পর অধ্যায় ভিত্তিক হ্যান্ডনোট পায় শিক্ষার্থীরা। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় সহজে অনুধাবন করার জন্য সকল শিক্ষার্থীকে তাদের ট্যাব-এ পাঠ্য সংশ্লিষ্ট অ্যানিমেশন, ভিডিও ক্লিপস, প্রেজেন্টেশন স্লাইড ইত্যাদি দেয়া হয় যাতে ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যতবার খুশি ক্লাস লেকচারটি পুনরায় দেখতে পারে। এভাবে ডিজিটাল ক্লাসগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠ্যবিষয়কে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে, শিক্ষার্থীরা হয়ে ওঠে অধিকতর মনোযোগী। এর পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস পরীক্ষা, পাক্ষিক, সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষা ইত্যাদি অবিরাম নিরীক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদক্ষতা মূল্যায়ন করা হয় এবং সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দের কাছে পৌঁছে দেয়া হয় মাসিক মূল্যায়ন পত্র। প্রতিদিন সন্তানের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির খবরও এস, এম, এস এলার্টের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয় তাঁকে। এ ছাড়া স্বল্পমেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে এক্সট্রা কেয়ার ক্লাস। এভাবে সবকিছু মিলে একটি আদর্শ শিক্ষা পরিবেশে গড়ে উঠছে ঈঝইঐ এর শিক্ষার্থীরা”।
আধুনিক ল্যাব : অত্যন্ত আধুনিক ও সমৃদ্ধ প্র্যাকটিক্যাল ল্যাব এই কলেজের অনন্য বৈশিষ্ট্য। পদার্থ, রসায়ন,জীব,গণিত এবং আইসিটির পৃথক ৫টি ল্যাব রয়েছে এখানে। প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র ইনস্ট্রুমেন্ট সেট। ইন্টারনেট সংযোগ সহ ২৫টি কম্পিউটার এবং ৬টি ল্যাপটপ দিয়ে সুসজ্জিত কম্পিউটার ল্যাব ডিজিটাল শিক্ষাঙ্গনের দাবী শতভাগ পূরণ করেছে।
হিসাব বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, হিসাববিজ্ঞান একটি বিজ্ঞান হলেও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় থিওরীতেই সীমাবদ্ধ। ঈঝইঐ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এখানে আমরা প্রত্যেকটি অধ্যায়ের সাথে প্র্যাক্টিকেল টুলস পাই যার ফলে একাউন্টিং আমাদের কাছে আকর্ষণীয় একটি বিষয়। আর কেবল সূত্র নয় টেক্সট বইয়ের প্রতিটি গাণিতিক সমস্যা করে দেখান স্যাররা। ফলে আমাদের প্রাইভেট কোচিং এ পড়তে হয় না।
সহশিক্ষা : শুধুই কি লেখাপড়া! এর পাশাপাশি নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ইনডোর গেমস,বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও শিক্ষা সফর শিক্ষার্থীদের মননকে বিকশিত করছে। জাতীয় দিবস সমূহ এখানে উদ্যাপিত হয় সাড়ম্বরে।
সবশেষে মেহরাব মাসুক বলেন, ক্লাসের চারদেয়ালের বাইরে আরও কিছু দেয়ার প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের। আমরা আন্তর্জাতিক মানের ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ সেন্টার পরিচালনা করি বিধায় ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে ঝঢ়ড়শবহ ঊহমষরংয ্ ডৎরঃঃবহ ঊহমষরংয ঈষঁন যেখানে শিক্ষার্থীরা খরংঃবহরহম, ডৎরঃরহম,জবধফরহম ্ ঝঢ়বধশরহম দক্ষতা উন্নয়নের সাথে সাথে তারা প্রায় ৩৫০০ ঝঅঞ ভোকাবিউলারী সম্পন্ন করে। এই জ্ঞান তাদেরকে এইচ.এস.সি পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়নে বিশেষ সহায়তা করে। কম্পিউটার ক্লাবে ওঈঞ-র আধুনিক কোর্সগুলোও শেখানো হয় তাদের। ফলে দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাসী ঈঝইঐ এর চৌকষ শিক্ষার্থীরা আজ দেশ ও বিদেশের মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ মেরিন একাডেমী, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে সদর্পে ঠাঁই করে নিয়েছে। ফ্রী অনলাইন আবেদন করা যাবে কলেজ ক্যাম্পাসে। ২২, পাঁচলাইশ (চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সন্নিকটে) চট্টগ্রাম, এই ঠিকানায় এবং ০১৯৭৬-৭৭৭৬৭৭-৯ ফোন নম্বরে যোগাযোগ এবং এই সাইটে লগ ইন করে বিস্তারিত জানা যাবে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট