চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

অন্যজেলাকে সমালোচনা করা থেকে চট্টগ্রাম মুক্ত থাকা চাই

আহমদুল ইসলাম চৌধুরী

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ | ৯:১৪ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি বিভিন্নভাবে অবহিত হতে থাকি দেশে এক জেলার লোকজন আরেক জেলার লোকজনকে তাদের জেলার নানা বিষয় নিয়ে কঠোর সমালোচনায় রত। তৎমধ্যে কৃষ্টি, কালচার, ঐতিহ্য, সামাজিক অবস্থা তথা নানা বিষয় নিয়ে । এভাবে এক জেলা আরেক জেলাকে নানা বিষয়ের উপর ঘায়েল করতে কুন্ঠিত হচ্ছে না। এতে নোয়াখালী ও বরিশালের মধ্যে বেশি হচ্ছে বলে জানতে পারি। পরবর্তীতে সিলেট ঢাকাকেও যোগ করা হয়।
সিলেট চট্টগ্রাম থেকে ভাগ হয়ে পৃথক বিভাগ হওয়ার পর কুমিল্লা বিভাগ দাবি করতেছে। চার জেলা নিয়ে সিলেট বিভাগ। তৎমধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ। তিন জেলা নিয়ে বৃহত্তর কুমিল্লা। তৎমধ্যে কুমিল্লা, ব্রাক্ষণবাড়িয়া ও চাঁদপুর। কুমিল্লা বিভাগ প্রস্তাবের মধ্যে নোয়াখালীও সংযুক্ত করা হয়। যা ক’বছর আগের কথা। ঐ সময় সম্ভবত ঢাকার নোয়াখালী সমিতি বিবৃতি দিয়েছিল নোয়াখালীকে পৃথকভাবে বিভাগ দেয়া হউক। যদি দেয়া না হয় তাহলে কুমিল্লা বিভাগের সাথে না রেখে সাবেক নিয়মে চট্টগ্রাম বিভাগের সাথে রাখা হয়। তিনটি জেলা নিয়ে বৃহত্তর নোয়াখালী। তৎমধ্যে নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও যোগাযোগ মন্ত্রী নোয়াখালীর, তেমনিভাবে জাতীয় সংসদের স্পীকারও নোয়াখালীর। ফলে বৃহত্তর নোয়াখালী বাসী বিভাগ পেতে মরিয়া। এতে নতুনভাবে শুরু হয় নোয়াখালী ও কুমিল্লার মধ্যে কঠোর সমালোচনার প্রতিযোগিতা। ঐতিহ্য, কৃস্টিতে সামাজিক অবস্থানে বিভিন্নভাবে কোন জেলা অপর জেলা থেকে উত্তম। কুমিল্লা ও নোয়াখালীর অবস্থান একদম কাছাকাছি। তথা কুমিল্লা সদর নোয়াখালীর জেলা সদর মাইজদী থেকে প্রায় ৪০/৪৫ এর কি.মি বেশি হবে বলে মনে করিনা।
বিভিন্ন ভাবে আরও জানতে পারি দেশের প্রায় ৩০/৪০টি প্রাইভেট টেলিভিশনের মধ্যে একাধিক এবং ইন্টারনেটের প্রচার যন্ত্রের মাধ্যমে জেলা ভিত্তিক এক জেলা অপর জেলাকে গায়েল করতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
উক্ত বিষয়টি কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ক্ষতিকর বাদে কল্যাণ আছে বলে মনে করি না। অপরদিকে চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের সমস্ত জেলার মানুষ একটি ঐতিহ্যশীল জেলা হিসেবে সম্মানের সহিত মূল্যায়ন করে থাকে। প্রকৃতই সাগর পাহাড় নিয়ে ইহা একটি ঐতিহ্যশীল জেলা। এ জেলা শহর তথা চট্টগ্রাম শহরের রয়েছে প্রাচীনকাল থেকে ইতিহাস। চট্টগ্রাম কোন ভাবেই উক্ত জেলা ভিত্তিক আলোচনা সমালোচনায় জড়িত হওয়া মারাতœক ভূল হবে। এতে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের উপর, সম্মানের উপর আঘাত আসবে। আমরা চট্টগ্রামবাসী অপর জেলার সমালোচনা করলে তারা ও খুচায়ে খুচায়ে আমাদের কোননা কোন দুর্বলতা বের করার চেষ্ঠা করবে এবং তা প্রকাশ করে আমাদের আভিজাত্যের উপর আঘাত আনতে চাওয়া স্বাভাবিক।
রাজধানী ঢাকা নিজেকে আভিজাত্যে আমাদের চেয়ে এগিয়ে দাবি করতে চায়। যা আমাদের কাছে হাস্য কর হবে। শোষন করেও পাকিস্তানীরা চট্টগ্রামকে মূল্যায়ন করেছিল, তেমনি ব্রিটিশ মোঘলারও । মোঘল বাদ শাহ জাহাঙ্গীরের আমলে ইসলাম খান সোনারগাঁও থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বাংলার রাজধানী প্রতিষ্ঠা করে। তা সে দিনমাত্র ৪০০ বছরের কথা। মূল ঢাকাবাসী ঢাকঢোল পিটিয়ে ঢাকার ৪০০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করেতেছে। আমাদের করতে হলে কত হাজার বছরের পূর্তি হবে তাও ভাবতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে একে একে সব সদর দপ্তর নিয়ে গিয়ে ঢাকা আজ বসবাসের কত উপযোগী ভাবতে হবে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর আজ পর্যন্ত আমাদের মানসিকতা সব কিছু রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক করা। ফলে ঢাকায় ভয়াবহ যানজট, বসবাসকারীদের নানা প্রতিকূলতা, সেই বুড়িগঙ্গা নদীর সচ্ছ পানি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মাত্র ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশ হলেও জনসংখ্যা ১৭ কোটির উপরে। সরকারগুলো জনসংখ্যাকে গুরুত্ব না দিয়ে দেশের এরিয়াকে গুরুত্ব দিয়ে সব কিছু ঢাকাকেন্দ্রিক করা মনে করি। সেই ব্রিটিশ পাকিস্তান আমলে চট্টগ্রামের আভিজাত্য ঐতিহ্যকে আমাদের দেশের সরকারগুলো গুরুত্ব দিলে দেশেরই কল্যাণ হবে।
একটি কথা আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত তা হল-বিশ্বে দুবাই দুইটি। একটি আরবের দুবাই আরেকটি বাংলাদেশের দুবাই। বাংলাদেশের দুবাই বলতে চট্টগ্রামকে বুঝায়। সারা বাংলাদেশের লোক টাকা উপার্জনের লক্ষে চট্টগ্রাম এসে থাকে।
আকাশ, ট্রেন ও স্থলপথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাতায়াতকালে যাত্রীদের মধ্যে শতকরা ৮/১০ জন চট্টগ্রামের থাকতে পারে। স্থলে পথে সারা বাংলাদেশের জেলা শহর গুলোত বটেই উপজেলা পর্যায়ও চট্টগ্রামের সাথে বাস চলাচলরয়েছে। দেশের ২/১ টি বাদে সারা দেশের এমন কোন জেলা উপজেলা নাই যে উপজেলা বা জেলার এক বা একাধিক বাস কোম্পানী দৈনিক ভিত্তিতে চট্টগ্রামের সাথে বাস সার্ভিস চালু রাখেনি। এতে যাত্রী বলতে সকলই ঐ সমস্ত জেলা উপজেলার লোকজন। টাকা উপার্জনের লক্ষে এখানে আসা যাওয়া করতেছে। কেউবা চাকুরী, কেউবা ব্যবসা, কেউবা গরীব দুঃখী কুলি মজুর। ঢাকা রাজধানী বাদে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষ দেশের বিভাগীয় বা জেলা সদরে বা অন্য কোথাও বসতি স্থাপন করেছে বলে মনে হয় না, থাকলেও বিশেষ কারণে খুবই নগণ্য।
মূল কথায় ফিরে আসি। আমরা চট্টগ্রাম বাসী অন্যান্য জেলার সমালোচনা থেকে মুক্ত থাকা চায়। দেশের বেসরকারী টিভিগুলোর চট্টগ্রামে স্টেডিও রয়েছে। এখানে চট্টগ্রাম নিয়ে অন্য কোন জেলার সাথে তুলনামূলক বিতর্ক অবশ্যই না হওয়া চায়। এত চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের উপরই আঘাত আসবে। আমরা মমত্ববোধ, উদারতার পরিচয় দিই। আমরা কারও সমালোচনা করা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি। এতে আমাদের ঐতিহ্যের আভিজাত্যের কল্যাণ হবে, সম্মান হবে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট