চট্টগ্রাম বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

২৫ মে, ২০২২ | ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

বৈশ্বিক সংকট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব

বৈশ্বিক অতিমারি কোভিড-১৯ থেকে বের হয়ে আসার প্রচেষ্টার মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট বিশ্ব-সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে চারটি প্রস্তাব পেশ করেছেন তা খুবই তাৎপর্যবহ ও আমলযোগ্য।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আহ্বানে গত শুক্রবার রাতে খাদ্য, জ্বালানি ও অর্থসংক্রান্ত ‘গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপের (জিসিআরজি)’ প্রথম বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে খাদ্য, বিদ্যুৎ ও আর্থিক সংকট মোকাবেলায় সু-সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করেন। প্রদত্ত বক্তব্য ও প্রস্তাবনায় তিনি নিত্যপণ্য সরবরাহব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।

বিশ্বে খাদ্যসংকট ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে করণীয় সম্পর্কে সুচিন্তিত ও সুচারু মত ব্যক্ত করেন। তাঁর এ বক্তব্য ও প্রস্তাবনা খুবই সময়োপযোগী। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে কি করা উচিৎ, তা সুনির্দিষ্টভাবে বিধৃত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও প্রস্তাবকে আমরা স্বাগত জানাই। তাঁর প্রস্তাবগুলো আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে বিশ্বসম্প্রদায় ব্রতী হলে বিদ্যমান সংকট নিরসনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে, সন্দেহ নেই।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে সৃষ্ট চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলার লক্ষ্যে জিসিআরজি গ্রুপটি গঠন করেছেন। ইউক্রেনের যুদ্ধ এমন এক সময় শুরু হয়েছে যখন বিশ্ব কোভিড-১৯ মহামারী থেকে উদ্ধার পেতে লড়াই করছে। এ যুদ্ধ ইতিমধ্যে নাজুক বিশ্ব-অর্থনীতিতে গুরুতর চাপ যুক্ত করেছে। সংগতকারণে কার্যকরভাবে সংকট মোকাবিলায় উন্নত অর্থনীতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যেখানে খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের স্বল্প সরবরাহ এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে তিনি উন্নত দেশসমূহ ও বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুল্কমুক্ত-কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার এবং আরও সহজলভ্য অর্থায়নের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য চারটি প্রস্তাব রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম প্রস্তাবে বলেছেন, আমাদের অবশ্যই বিশ্বব্যাপী সংহতি জোরদার করতে হবে এবং একটি সুসমন্বিত প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে। জি-৭, জি-২০, ওইসিডি, এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে অবিলম্বে বিশ্বব্যাপী লজিস্টিক এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধাগুলো মোকাবেলা করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এ প্রয়াস পণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির বৈশ্বিক বাণিজ্য ও রপ্তানি আয় পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সমর্থনও থাকতে হবে। উন্নত অর্থনীতি এবং বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে এবং শুল্ক-মুক্ত-কোটা-মুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার এবং আরও সহজলভ্য অর্থায়ন প্রদান করতে হবে। তৃতীয় প্রস্তাবে কার্যকর খাদ্যসঞ্চয় ও বিতরণব্যবস্থার জন্য কৃষিখাতের জন্য প্রযুক্তিসহায়তা এবং বিনিয়োগের উপর আরও বেশি গুরুত্ব প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

তাঁর মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিক্ষেত্রে বিশেষ করে এলডিসিতে অনেক সম্ভাব্য ব্যবসার সুযোগ রয়েছে। এই এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে তিনি বিদ্যমান উত্তর-দক্ষিণ, দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ট্রায়াঙ্গুলার সহযোগিতার সুবিধার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই বিষয়ে বেসরকারি খাতের সাথে সম্পৃক্ততাও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হবে। তিনি উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র ও সাগরপৃষ্ঠের কাছাকাছি উচ্চতায় অবস্থিত জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ন্যায্য স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলেন।

৪৮ সদস্যের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতি হিসেবে তিনি বলেন, এসব দেশে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা গুরুতর চাপের মধ্যে রয়েছে। এ ব্যাপারে যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে সমগ্রবিশ্বকেই এর মাসুল দিতে হতে পারে। শেখ হাসিনা তাঁর বক্তৃতার শেষদিকে আরেকটি প্রস্তাবে চলমান বৈশ্বিক সংকট উত্তরণে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, আমাদের জাতীয় উন্নয়নযাত্রা অনেক উদ্ভাবনী জলবায়ু কর্মের নেতৃত্ব দিয়েছে। আমরা অন্যদের সুবিধার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের জ্ঞান, বোঝাপড়া এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চাই।

আমরা মনে করি, করোনার ছোবল শেষ না হতেই গুটিকয় দেশের অবিমৃষ্যকারী সিদ্ধান্ত এবং যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার কারণে বিশ্ব যে বহুমাত্রিক সংকটে পড়েছে তা থেকে উত্তরণে প্রদত্ত প্রস্তাবগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতাদের কার্যকর ভূমিকা দেখতে চাই আমরা। আমরা আশা করতে চাই, বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষের হাতছানিসহ আগামীর সব দুর্দশা থেকে বিশ্ববাসীকে মুক্তি ও স্বস্থি দিতে বিশ্বসম্প্রদায় প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে সুচিন্তিত উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট