চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৮ মে, ২০১৯ | ৩:০৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘মনে রেখ’কে যুগ ধরে মনে রেখেছে ক্রেতারা

টেরীবাজারে শাড়ি ও থ্রি-পিসের জন্য প্রসিদ্ধ

নামকরণেরও একটা মাহাত্ম্য আছে। মানুষ যাতে প্রতিষ্ঠানটি মনে রাখে সেই বিষয়টি মাথায় রেখে নাম রাখলাম ‘মনে রেখ’। সেই কারণে শহর ছাড়িয়ে গ্রামের সবশ্রেণির ক্রেতা সাধারণের কাছে এ নামটা এখন মুখে মুখে। শুধু নামের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি ধরে রাখতে চাইনি। এর পেছনে রয়েছে আমাদের নিরন্তর পরিশ্রম, সততা এবং কম লাভের মনোবৃত্তি। মূলত এই তিন কারণেই ‘মনে রেখ’কে আজ সবাই মনে রেখেছে। প্রতিষ্ঠানের এক যুগ পূর্তিতে আমার সেইসব ক্রেতা সাধারণের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা ও অফুরন্ত শ্রদ্ধা রইল। দৈনিক পূর্বকোণকে দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ওসমান গণি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় একথা বলেন। নগরীর টেরী বাজারের মেইন রোডের পাশে ‘মনে রেখ’র অবস্থান। ২০০৭ সালে এটির যাত্রা শুরু করেন বিশিষ্ট কাপড় ব্যবসায়ী ওসমান গণি। তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে পাইকারি কাপড় ব্যবসার সাথে জড়িত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘মনে রেখ’ এখন শাড়ি, থ্রি-পিস, জুয়েলারি ও কসমেটিকসের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। বিশেষ করে নারী ক্রেতাদের পছন্দের। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে আধুনিক রুচিশীল নিত্য নতুন কাপড়ের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান অভিজাত বস্ত্র বিপণী ‘মনে রেখ’। ঈদ উপলক্ষে সময় বাড়িয়ে রাত ২টা পর্যন্ত খোলা থাকছে এটি। মনে রেখ’তে এবারের ঈদেও বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের শাড়িতে যতটুকু না থাকে ঐতিহ্য তার চেয়ে বেশি থাকে বৈচিত্র্য। ঐতিহ্য আর বৈচিত্র্যকে ধারণ করে শাড়িকে নারীর কাছে আরো বেশি জনপ্রিয় করে তুলতে এ বছর মনে রেখ বাজারে এনেছে দেশীয় জামদানি শাড়ি, কাঞ্চিবরণ, টাঙ্গাইলের বিখ্যাত তাঁতের ক্যাটলগ শাড়ি, যা শুধুমাত্র মনে রেখ’র ক্রেতাদের জন্যই তৈরি করা। এ বছরের উল্লেখযোগ্য শাড়ির তালিকায় রয়েছে হান্ডি কাতান, গাদোয়ান, ইন্ডিয়ান অপেরা, ব্যাঙ্গালোর সিল্ক, বেলগাঁও কাতান, জারদৌসি, নেট বুটিকস, চেন্নাই

কাতান সিল্ক। রয়েছে বেনারসী, জামদানি, বালুচরি, জুট পার্টি শাড়ি, ফ্যান্সি শাড়ি, অ্যাপল, বাসু ও নটরাজসহ বিভিন্ন ডিজাইনের নামী-দামি কোম্পানির সুতি শাড়ি। বিয়ের পাত্রীর জন্য আছে ব্রাইডেল ডিজাইনিং গাউন, ব্রাইডেল ডিজাইনিং শাড়ি, পার্টি শাড়ি প্রভৃতি।
এখানে রয়েছে মেয়েদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রি পিস, যার মধ্যে আছে বিভিন্ন ডিজাইনের ইন্ডিয়ান দিল্লী বুটিকস, পাকিস্তানী থ্রি পিস ও দেশীয় বিভিন্ন প্রোডাকশন। আছে দিল্লী ও মুম্বাইয়ের বিখ্যাত লেহেঙ্গার রমরমা পসরা। প্রতিষ্ঠানে থাকা প্রতিটি শাড়ি ও পোশাকের ওপর রয়েছে রংয়ের বৈচিত্র্যময় উপস্থিতি। যা দেখলে সহজেই কিনতে ইচ্ছে হয়। এছাড়াও আছে মুম্বাই ও দুবাইয়ের কসমেটিকস ও জুয়েলারি সামগ্রী। এ প্রতিষ্ঠানে নিত্য ব্যবহারের জন্য রয়েছে সর্বনি¤œ ৪০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকার থ্রি পিস। এছাড়া অনুষ্ঠান কিংবা পার্টিতে যাওয়ার মতো রয়েছে সর্বনি¤œ দুই হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকার থ্রি পিস। এছাড়া নিত্য ব্যবহারের শাড়ি রয়েছে ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫০০ টাকার এবং পার্টি শাড়ি রয়েছে সর্বনি¤œ তিন হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকার।
এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ওসমান গণি বলেন, ‘২০০৭ সালে আগস্টে ‘মনে রেখ’র যাত্রা শুরু হয়। সম্পূর্ণ পারিবারিক পরিবেশে কেনাকাটার সুবিধা সমেত এ প্রতিষ্ঠানে শুরুতে ছিল দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত। ওই সময়ে টেরী বাজারের এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম শপিং মল। বর্তমানে এটি ষষ্ঠ তলায় উন্নীত হয়েছে। বিগত ১২ বছরে মনে রেখ’র মতো অন্তত ২০টা শপিং মল হয়েছে টেরী বাজারে। কিন্তু মনে রেখ’র আবেদন এতটুকু কমেনি। বরং দিনে দিনে বিক্রি বাড়ছে। মনে রেখ পণ্য কিনে সরাসরি যেখানে উৎপাদিত হচ্ছে সেখান থেকেই। এজন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের পণ্যের গুণগত মান স্বতন্ত্র।
এদিকে মনে রেখ’র ১ যুগ পূর্তি উপলক্ষে বিক্রয় উৎসব চলছে মাসব্যাপী। ৫ হাজার টাকার পণ্য কিনলেই পাওয়া যাবে একটি স্ক্যাচ কার্ড। সাথে সাথেই কার্ড ঘষে নিজের ভাগ্যের পুরস্কার নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখানে প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কার থাকছে একটি করে মোটর সাইকেল, তৃতীয় থেকে দশম পুরস্কার ৮টি ডিপ ফ্রিজ, ১১ থেকে ২৬তম পুরস্কার ১৬টি ওভেন, ২৭ থেকে ৪২তম পুরস্কার ১৫টি টেবিল ফ্যান, ৪২ থেকে ৭১তম পুরস্কার ৩০টি রাইস কুকার এবং সান্ত¡না পুরস্কার মগ। এগুলো পুরস্কার নয়, ১২ বছর ধরে মনে রেখকে মনে রাখার জন্য ক্রেতা সাধারণকে উপহার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে এসব সামগ্রী, বললেন- মনে রেখ’র কর্ণধার ওসমান গণি।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট