চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬

মেয়রের ঘোষণা আমলে নিচ্ছে না ভেন্ডর- পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা

মেয়রের ঘোষণা আমলে নিচ্ছে না ভেন্ডর- পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা

ইমরান বিন ছবুর

৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

দেড় মাস আগে (২৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ঘোষণা দেন-এপ্রিল থেকে বাসাবাড়ির ময়লার জন্য নগরবাসীকে আর কোনো টাকা দিতে হবে না। কিন্তু সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না মাঠপর্যায়ে। মেয়রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ময়লা অপসারণে টাকা দাবি করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (ভেন্ডর) ও চসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাসাবাড়িতেই পড়ে থাকছে ময়লা। ফলে আগের মতই ময়লা ফেলতে টাকা গুনতে হচ্ছেই। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নগরবাসী। 

 

ময়লা অপসারণের বিষয়ে কথা হয় নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের (দক্ষিণ বাকলিয়া) ইসহাক সওদাগর পুল সংলগ্ন সততা টাওয়ারের কেয়ারটেকারের সাথে। তিনি বলেন, ‘মেয়রের ঘোষণা শুনে সবাই খুশি হয়েছিলাম। ময়লা নিতে আসা লোকজন এই এপ্রিল মাসেও টাকা দাবি করলে মেয়রের ঘোষণার কথা জানাই। উত্তরে ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান টাকা না দিলে ময়লা ডাস্টবিনে ফেলে আসতে হবে। পরে বাধ্য হয়েই পূর্বের মত প্রতি ফ্ল্যাট থেকে ৭০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।’  

 

৪ নম্বর ওয়ার্ডের (চান্দগাঁও) বিসমিল্লাহ হাউজিং আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আমেনা বেগমও একই কথা বলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভেন্ডররা টাকা নিতে আসলে আমরা মেয়র মহোদয়ের ঘোষণার কথা জানাই। তখন তারা বলেন, তাহলে চসিকের লোকজনকে এসে ময়লা নিয়ে যেতে বলেন। মেয়র মহোদয় চট্টগ্রাম নগরীর অভিভাবক। তার কথাই যদি বাস্তবায়ন না হয় আমরা কার কাছে যাব?’

 

ময়লা সংগ্রহের বিনিময়ে অর্থ দাবি করলে ওয়ার্ডের সুপারভাইজারকে জানাতে নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘নগরবাসীর বিভিন্ন অভিযোগ এবং আপত্তির কারণেই আমরা বাসাবাড়ির ময়লা অপসারণে টাকা নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের চসিকের কর্মীরাই প্রতিটি বাসাবাড়ি গিয়ে গিয়ে ময়লা সংগ্রহ করবেন। ময়লা সংগ্রহের বিনিময়ে কেউ যদি অর্থ দাবি করেন ওই ওয়ার্ডের সুপারভাইজারকে জানালে আমরা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

 

ভেন্ডরদের কার্যক্রমও ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, ‘ভেন্ডররা কোন বাসাবাড়িতে গিয়ে ময়লা সংগ্রহ করতে পারবে না। আমি নগরবাসীকে অনুরোধ করবো ময়লা অপসারণে কেউ যাতে একটি টাকাও না দেন।’  

    

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নগরীর টাইগার পাসস্থ চসিক কার্যালয়ে ডোর-টু-ডোর কার্যক্রম বিষয়ে ভেন্ডরদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এপ্রিল মাস থেকে আর ভেন্ডরদের টাকা দিতে হবে না বলে ঘোষণা দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ওই সভায় মেয়র বলেন, ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ভেন্ডররা বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করবেন। ফেব্রুয়ারির বকেয়া টাকা মার্চ মাসে ভেন্ডররা সংগ্রহ করবেন। মার্চ মাস থেকে চসিক-এর পরিচ্ছন্ন বিভাগে কর্মরত দুই হাজার পরিচ্ছন্নকর্মী বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করবেন। ফলে, আলাদাভাবে নগরবাসীকে বাসার ময়লার জন্য এপ্রিল মাস থেকে কোনো টাকা দিতে হবে না।

 

তখন মেয়র আরো বলেন, বেসরকারি ভেন্ডরদের বেশ কিছু ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্জ্য সংগ্রহে ভেন্ডররা ঠিকমতো সেবা দিতে পারছেন না-এমন অভিযোগ পাওয়ায়, আমরা ভেন্ডরদের বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছি।

 

এখন নগরবাসী মেয়রের ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান।

দৈনিক পূর্বকোণ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট