চট্টগ্রাম শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬

সর্বশেষ:

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে মগ লিবারেশন পার্টি সদস্যের মৃত্যু, আটক ১
প্রতীকী

পতেঙ্গায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

অনলাইন ডেস্ক

৪ এপ্রিল, ২০২৬ | ২:৫২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানাধীন এলাকায় মোহাম্মদ মামুন (১৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মামুন ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া গোল্ডেন ব্রিজ এলাকার মো. নেজামের ছেলে।

 

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নাজিরপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহতের মামা মো. আসকান্দর বলেন, ‘আমার ভাগিনা মামুনের সাথে সামিয়া আক্তার লাইসা নামে একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কটি তার বাবা-মা মেনে নিচ্ছিল না। কিন্তু মেয়ের মা সেটিকে প্রশ্রয় দেয়। একপর্যায়ে মামুন সম্পর্ক থেকে সরে আসতে চাইলে মেয়েটির মা নূর নাহার তার মেয়েকে নির্যাতন করেছে বলে মামুনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়। মামলায় ৬ মাস পর মামুন জামিনে বের হয়। পরে নানা কৌশলে গত তিন মাসে আগে আদালতে নিয়ে গিয়ে মামুনের সাথে ওই মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়েটির বয়স ১৬ বছর। তার তার বিয়ের বয়সও হয়নি। কিন্তু কিভাবে মেয়ের মা আমার ভাগনের সাথে তাকে বিয়ে দিয়েছে সেটি আমরা জানি না। বিয়ের পর মামুন তার শ্বশুর বাড়িতেই ছিল। মামুন বেকার থাকায় তার সাথে স্ত্রী ও শ্বাশুড়ির সাথে নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি মামুন তার শ্বশুর বাড়ি থেকে নাজিরপাড়ায় আলাদা বাসায় থাকা শুরু করে। মামুনের শ্বাশুড়ি তার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা চেয়েছিল। গতকাল মামুন জুমার নামাজ পড়ে বাসায় যায়। পরে বিকেল ৪টায় খবর পাই, আমার ভাগিনা নাকি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু মামুন ফাঁস খাওয়ার ছেলে না। বাসায় মামুনের শ্বাশুড়িও ছিল। আমার ভাগিনাকে হত্যা করা হয়েছে।’

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে পতেঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকতার হোসেন বলেন, ‘আমরা মামুনের লাশ উদ্ধার করেছি। মরদেহের গলায় ফাঁস দেয়ার চিহ্ন আছে, কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে আমাদের কিছুটা সন্দেহ আছে। তাই আমরা মামুনের পরিবারের পক্ষ থেকে দেয়া একটি হত্যা মামলা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘নিহত মামুনের (১৭) সাথে সামিয়া আক্তার লাইসা (১৬) নামে মেয়েটির দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক থাকায় মেয়েটির মা মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মামুনকে আদালত বিয়ের শর্তে জামিন দেয়। জামিনের পর তাদের বিয়ে হয়। মামুনের স্ত্রীকে আমরা হেফাজতে নিয়েছি। ময়নাতদন্তের পর বলা যাবে হত্যা নাকি আত্মহত্যা।’

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট