
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আকবর খোন্দকারকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসকের নাম প্রস্তাব করা হলেও তিনি রাজি হননি বলে জানা গেছে। এখন খোঁজা হচ্ছে বিকল্প। নতুন প্রশাসক হিসেবে একজনকে নিশ্চিত করা হলে যে কোন সময় ঘোষণা হতে পারে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসকের নাম। এ নিয়ে চলছে জোর তোড়জোড় ও দৌড়ঝাঁপ। ইতোমধ্যে অনেকের বায়োডাটা জমা পড়েছে কেন্দ্রে। এখন এসব বায়োডাটা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
চট্টগ্রাম ছাড়া সারাদেশে দুই দফায় ৫৬ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই গত ১৪ মার্চ প্রথম দফায় ৪২ জন এবং সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ দ্বিতীয় দফায় আরো ১৪জন মিলে ৫৬ জন নতুন প্রশাসকদের নাম ঘোষণা করে সরকার। ইতোমধ্যে দেশের ১১ সিটি করপোরেশনেও নতুন প্রশাসক বসিয়েছে বিএনপি। এসব পদে নিয়োগ পাওয়াদের বেশির ভাগই বিগত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েও পাননি। ব্যক্তি ইমেজ ভালো, দলের মধ্যে যারা ত্যাগী হিসেবে পরিচিত এবং বিগত ১৭ বছর ধরে কারা নির্যাতিত নেতাদেরই বাছাই করা হচ্ছে প্রশাসক পদে। চট্টগ্রামে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আলোচনায় আছেন এমনই ৯ বিএনপি নেতার নাম। তারা প্রত্যেকেই চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত মুখ।
বিএনপির কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে ৯ বিএনপি নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও দলের উত্তর জেলার সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার, দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম ফজলুল হক, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ ইদ্রিস মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ আলী আব্বাস, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের বিএনপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, সদস্য সচিব লায়ন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে দক্ষিণ জেলা বিএনপির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার নামও শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও সাবেক সহ সভাপতি এডভোকেট ইফতেখার মহসিন। তবে এদের মধ্যে কেন্দ্রের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছেন গোলাম আকবর খোন্দকারের নাম। এ বিষয়ে তাঁকে কেন্দ্র থেকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি বলে জানা গেছে। তাতে ঝুলে আছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসকের নাম ঘোষণা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও দলের উত্তর জেলার সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার পুর্বকোণকে বলেন, ‘১৯৯১ সালে নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র ছিলেন মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। ওই সময়ে বিএনপি সরকার বাংলাদেশে জেলা পরিষদ চালু করার উদ্যোগ নেয়। তখন আমাকে ডেপুটি মিনিস্টার পদমর্যাদা দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু তখন জেলা পরিষদে প্রশাসক মনোনয়ন না দিতে আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদে মুভমেন্ট করে। ফলে পরে এটি আর এগোয়নি। এ অবস্থায় বর্তমান সরকার আমাকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসকের প্রস্তাব দিলেও ৩৫ বছর পর এসে এটি আমার জন্য আর ভালো মনে করিনি।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা পরিষদ নির্বাচন সহসা হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় আপাতত প্রশাসক নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। পরে সুবিধাজনক সময়ে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচন করতে চায় বিএনপি। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান ছাড়াও ১৫টি সাধারণ সদস্য ও ৫টি সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ মোট ২১টি পদ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের এটিএম পেয়ারুল ইসলাম। সেই পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ার পর পদটি শূন্য হয়ে যায়।
পূর্বকোণ/ইবনুর