চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

সর্বশেষ:

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ‘বরুমতির বাঁকে’র আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ‘বরুমতির বাঁকে’র আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ মার্চ, ২০২৬ | ৮:৫১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ‘বরুমতির বাঁকে ও লেখক পাঠক প্রত্যাশা’ এবং স্বাধীনতা ও আমাদের গর্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রবিবার (১৫ মার্চ) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে এই আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

বরুমতির বাঁকে-এর প্রকাশক সৈয়দ মিনহাজুর রহমান-এর সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক উত্তম কুমার আচার্য্য-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ একরাম হোসাইন।

 

তিনি বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে ধাপে ধাপে কিন্তু ১৯৭১ সাল এসেছে। এই একাত্তর এসেছিল বলেই আজকের ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান বলেন, ২৪-এর জুলাই আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান—এসব কিন্তু ৭১ থেকে। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল, সেই থেকেই আমাদের স্বাধীনতার সূচনা হয়; কাজেই সমস্ত বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের যে অবস্থান, এটার ভিত্তি কিন্তু ১৯৭১।

 

বরুমতির বাঁক ‘র সম্পাদক উত্তম কুমার আচার্য্য বলেন, “চন্দনাইশ উপজেলাটি মূলত পটিয়ারই অংশ। পটিয়া ভাগ হয়ে আরেকটি উপজেলা হয়েছে। এটার জন্য যাদের অবদান রয়েছে, আমি তাদেরকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। ইতিহাস থেকে দেখা যায়, দোহাজারী সমগ্র চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসনকার্য ছিল, সেটা বরুমতির বাঁকের প্রথম সংখ্যায় আমরা প্রকাশ করেছি। চন্দনাইশের সমস্যা-সম্ভাবনা যা কিছুই আছে, এটি মূলত চট্টগ্রামেরই সমস্যা-সম্ভাবনা তথা বাংলাদেশেরই। আমরা সকল শ্রেণীর লেখক, নতুন নতুন তরুণ লেখকদের লেখনীর মাধ্যমে সবগুলো সেক্টরের সমস্যা-সম্ভাবনা উঠে আসুক। তাই সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”

 

বরুমতির বাঁকে-এর প্রকাশক সৈয়দ মিনহাজুর রহমান বলেন, আমাদের চারপাশেই, বিশেষ করে আমাদের গ্রামে অনেক সম্পদ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এবং এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মকে স্থানীয় অর্থনীতির নতুন পথ খুঁজতে হবে। বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট চলছে, তা আমাদের ভাবিয়ে তোলে; অথচ এই আধুনিক জ্বালানি ব্যবস্থার বয়স মাত্র একশ বছর। আমাদের ভাবতে হবে এই সময়ের আগে কীভাবে আমাদের পূর্বপুরুষরা জীবন নির্বাহ করতেন এবং তাদের জ্বালানির উৎস কী ছিল।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমরা এক অদ্ভুত মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছি, যেখানে আমাদের জ্বালানি আসে আরব থেকে, শিক্ষার সিলেবাস আসে ইউরোপ থেকে আর পোশাক নির্ধারণ করে দেয় পাশ্চাত্য। এই পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে আমাদের নিজস্ব প্রাচ্যের সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার দিকে তাকাতে হবে। ‘বরুমতির বাঁকে’ উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো প্রবীণদের সাহসে আর তরুণদের উদ্দীপনায় আমাদের সেই পুরনো জ্ঞানের পরম্পরা ও ঐতিহ্যকে পুনরায় অনুসন্ধান করা।

 

অনুষ্ঠানে অপর্ণাচরন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল, এসডিজি ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহার, মাইন্ডসেট এন্ড গ্লোবাল স্কলার এর পরিচালক গৌতম সেন, দৈনিক পূর্বদেশের সিনিয়র রিপোর্টার এম এ হোসেন, শঙ্খতীর সম্পাদক মহিউদ্দীন কাদের এবং বরুমতির বাঁকে’র প্রতিবেদক তৌফিকুল ইসলাম জোহাদী উপস্থিত ছিলেন।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

 

তারা বলেন, ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের মহান স্বাধীনতা আমাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, এই স্বাধীনতা কোনো একক ডাকে বা একদিনে অর্জিত হয়নি; বরং ১৯৪৭ সালের পর থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে গিয়েছি।

 

বক্তারা সকলকে এই স্বাধীনতাকে প্রকৃত অর্থে অর্থবহ করে তুলতে এবং একটি উন্নত ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পর্বকোণ/সিজান

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট