চট্টগ্রাম শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সর্বশেষ:

দুই কারণে ওয়াসার পানি উৎপাদন কমেছে

দুই কারণে ওয়াসার পানি উৎপাদন কমেছে

মোহাম্মদ আলী

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১:০৩ অপরাহ্ণ

হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানিতে অস্বাভাবিক লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসাথে পানির স্তরও কমে গেছে এ দুটি নদীর। বর্তমানে হালদা নদীর প্রতিলিটার পানিতে সর্বোচ্চ ২৯০০ মিলিগ্রাম লবণ পাওয়া যাচ্ছে। নদীতে লবণের আগ্রাসন ও পানির স্তর কমে যাওয়ায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় ওয়াসার পানি উৎপাদন কমে গেছে দৈনিক ৫ থেকে ৬ কোটি লিটার। তাতে রেশনিং করে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে ওয়াসা। মূলত কাপ্তাই লেকের পানি কমে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এ সমস্যা চলে আসছে। তাতে হ্রাস পেয়েছে পানি সরবরাহ। আবার যেটুকু পানি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে তাতে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত লবণ। এ অবস্থায় সংবাদপত্রে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে নগরবাসীকে সতর্ক করে দিয়েছে ওয়াসা।

 

গত জানুয়ারি থেকে কর্ণফুলী ও হালদা নদীর পানিতে লবণের উপস্থিতি শুরু হয়। এরপর ফেব্রæয়ারিতে নদী দুটির পানিতে লবণের মাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এখন তা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েকদিনে হালদা নদীর ওয়াসার মোহরা পানি শোধনাগারের পানি উত্তোলন পয়েন্টে প্রতিলিটার পানিতে সর্বোচ্চ ২৯০০ মিলিগ্রাম এবং মদুনাঘাট পানি শোধনাগারের পানি উত্তোলন পয়েন্টে প্রতিলিটার পানিতে সর্বোচ্চ ১৯০২ মিলিগ্রাম লবণ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় জোয়ারের সময় ওয়াসার পানি উৎপাদনের বৃহৎ চার প্রকল্প মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্প, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-১ ও ২ এবং মোহরা পানি সরবরাহ প্রকল্পে পানি উৎপাদন দৈনিক কয়েক ঘণ্টা করে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তাতে ওয়াসার পানি উৎপাদন কমে গেছে কমপক্ষে দৈনিক ৫ থেকে ৬ কোটি লিটার।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে ওয়াসার পানিতে অসহনীয়মাত্রায় লবণ মিলছে। কাপ্তাই লেক থেকে পানি ছাড়া হ্রাস পাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে ৪টি। এ অবস্থায় উজানের স্রোত কমে যাওয়ায় জোয়ারের সময় বঙ্গোপসাগরের লবণাক্ত পানি কর্ণফুলী নদী হয়ে হালদায় প্রবেশ করছে। লবণাক্ত পানির কারণে ওয়াসার চারটি প্রকল্পে উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সহসা বৃষ্টি না হলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সূত্র জানায়, কাপ্তাই লেকে পানি বর্তমানে রয়েছে ৯৩ দশমিক ৪ মিনস সি লেভেল (এমএসএল), স্বাভাবিকভাবে পানি থাকার কথা ৯৬ থেকে ৯৭ এমএসএল। বর্তমানে হ্রদে প্রায় ৩ এমএসএল পানি কমে যাওয়ায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন কমে গেছে। দেশের একমাত্র এই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটে দৈনিক ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু লেকে চাহিদা অনুযায়ী পানি না থাকায় বর্তমানে দুটি মাত্র ইউনিট চালু রয়েছে। তাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এখন বৃষ্টি না হলে কাপ্তাই লেকের পানি আরো হ্রাস পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

 

জানতে চাইলে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যানেজার মাহমুদ হাসান পূর্বকোণকে বলেন, ‘বর্তমানে কাপ্তাই লেকে পানি রয়েছে ৯৩ দশমিক ৪ মিনস সি লেভেল (এমএসএল)। পানি কমে যাওয়ায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে ৩টি।’

 

সূত্র জানায়, ওয়াসার সবগুলো প্রকল্পের মাধ্যমে পানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি লিটার। কিন্তু হালদা ও কর্ণফুলী নদীতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে পানি উৎপাদন হচ্ছে দৈনিক প্রায় ৪৩ কোটি লিটার।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম পূর্বকোণকে বলেন, ‘কাপ্তাই লেক থেকে পানি ছাড়া হ্রাসের কারণে হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণ পাওয়া যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে হালদা নদীর মোহরা পানি শোধনাগারের পানি উত্তোলন পয়েন্টে প্রতিলিটার পানিতে সর্বোচ্চ ২৯০০ মিলিগ্রাম এবং মদুনাঘাট পানি শোধনাগারের পানি উত্তোলন পয়েন্টে প্রতিলিটার পানিতে সর্বোচ্চ ১৯০২ মিলিগ্রাম লবণ পাওয়া গেছে। এতে দৈনিক ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পানি উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। একইসাথে কর্ণফুলী নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের দুটি ইউনিটে পানি উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় জোয়ারের সময় হালদা নদীর দুটি প্রকল্পে পানি উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে রেশনিং করে পানি সরবরাহ করছে ওয়াসা।’

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট