চট্টগ্রাম শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

চট্টগ্রাম থেকে স্থান পাচ্ছেন কারা?

বিএনপির মন্ত্রিসভা গঠনে তোড়জোড়

চট্টগ্রাম থেকে স্থান পাচ্ছেন কারা?

মোহাম্মদ আলী

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১২:০৪ অপরাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর মন্ত্রিসভা গঠনে বিএনপির মধ্যে শুরু হয়ে গেছে তোড়জোড়। এ মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে কারা স্থান পাচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। সর্বশেষ ২০০১ সালে পহেলা অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পর চট্টগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদায় বিভিন্ন পদে ৮ জন স্থান পেয়েছিলেন। ওইসময়ে মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়াদের মধ্যে ছিলেন, বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসন থেকে নির্বাচিত এম মোরশেদ খান, চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে নির্বাচিত আবদুল্লাহ আল নোমান, সীতাকুণ্ড আসন থেকে নির্বাচিত এল কে সিদ্দিকী, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও বাঁশখালী আসন থেকে নির্বাচিত আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়া পূর্ণমন্ত্রীর পদপর্যাদায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে নির্বাচিত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী পদপর্যাদায় জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। বর্তমানে এদের মধ্যে বেঁচে নেই আবদুল্লাহ আল নোমান, এল কে সিদ্দিকী, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম।

 

এবার বিএনপি সরকারে স্থান পাওয়ার আশা করছেন বর্তমানে এখানকার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ২০০১ সালে মন্ত্রিত্ব পাওয়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বর্তমানে বিএনপির রাজনীতিতে প্রভাব বেড়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত ১৭ বছর ধরে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দফায় দফায় কারাবরণ করেন তিনি। দলের নেতৃত্বের মধ্যে তাঁর একটি প্রভাব রয়েছে।

 

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের চ‚ড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৯৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হয়েছে ৬৮টি আসনে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জয় পেয়েছে ৬ আসনে। ভোটের পর এখন নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর শপথ নেবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর শুরু হবে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া।

 

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে। সরকারের একটি সূত্র জানায়, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ হতে পারে। পরবর্তী দু-দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভার শপথের মধ্যমে গঠিত হবে নতুন সরকার। নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসন পাওয়া বিএনপির সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন-এটি অনেকটাই নিশ্চিত। নির্বাচনে দল হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভ‚মিকা সংসদে কী হবে, সেটাও পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হবে। তবে জামায়াত সংসদে প্রধান বিরোধী দল হবে, এটাও অনেকটা নিশ্চিত।

 

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক বিএনপির একটি সূত্র জানায়, এবার মন্ত্রিপরিষদের আকার ছোট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এক্ষেত্রে আগের মতো চট্টগ্রাম থেকে বেশি সদস্য মন্ত্রিপরিষদে স্থান নাও পেতে পারেন। তবে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নির্বাচিত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপির মন্ত্রী পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকারী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা রাউজান থেকে নির্বাচিত আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ আরো অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে।

 

তাছাড়া বিগত সময়ে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া)  আসন থেকে যারাই জয়লাভ করে ছিলেন তাদের বেশিরভাগ সরকারের মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেয়েছিলেন। এবার এ আসনে জয়লাভ করেন বিএনপির আলহাজ আবু সুফিয়ান। অপরদিকে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে জয়লাভ করেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ এরশাদ উল্লাহ। নতুন মন্ত্রিসভায় তারাও থাকতে পারেন আলোচনায়। এছাড়া তরুণ নেতৃত্ব থেকে বিশেষ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচিত হুমাম কাদের কাদের চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১০ থেকে নির্বাচিত সাঈদ আল নোমানের নাম রয়েছে আলোচনায়।

 

প্রসঙ্গত, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতে জয়লাভ করে তাক লাগিয়ে দেয় বিএনপি। অথচ এর আগে দলটি এককভাবে নির্বাচন করে চট্টগ্রাম থেকে এতগুলো আসনে জয়লাভ করতে পারেনি। এবার নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থীরা হলেন- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোস্তাফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-আকবর শাহ) আসনে লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ) আসনে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে হুমাম কাদের কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে আলহাজ এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে আলহাজ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট) আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সরওয়ার জামাল নিজাম ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) জসিম উদ্দীন আহমেদ। চট্টগ্রামের অপর দুই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। 

 

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট