
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১ নং ও ২ নং ওয়ার্ডসহ হাটহাজারী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৫ আসন। এই আসনের তরুণ ও বিভিন্ন বয়সের ভোটাররা অধীর আগ্রহ নিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।
এই আসন থেকে নির্বাচনে লড়ছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপি’র প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন (রিকশা), ইসলামী আন্দোলনের মতি উল্লাহ নূরী (হাতপাখা), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (মোমবাতি), বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. আলাউদ্দিন (আনারস) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমাম উদ্দিন রিয়াদ (ফুটবল)।
নির্বাচনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, মো. নাসির উদ্দীন ও মতি উল্লাহ নূরী। তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। বাকি তিনজন প্রার্থীর প্রচারণা এখনো তেমন চোখে পড়েনি বলে স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন। হাটহাজারী থেকে ১৯৭৯ সালে বিএনপির হয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেন তিনি। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টানা তিনবার এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। ২০১৪, ২০১৮, ও ২০২৪ সালে ফের নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কেউ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই বিএনপি’র প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীনের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন- চট্টগ্রাম-৫ আসন ঘিরে বিএনপিতে ৩টি ধারা বিদ্যমান ছিলো। তবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা পেয়ে সবাই এখন ঐক্যবদ্ধভাবে মীর হেলাল উদ্দিনের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। মীর হেলাল উদ্দিনও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদেরকে নিয়ে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। ধানের শীষে ভোট দিতে আহ্বান জানাচ্ছেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে এলাকার প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন।
মীর হেলাল বলেন, বিএনপি সব সময় জনগণকে দেওয়া তার প্রতিশ্রুতি পালন করেছে। ধানের শীষে ভোট দিয়ে কেউ প্রতারিত হয়নি। কারণ গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতীক হচ্ছে ধানের শীষ। ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশের কাঙ্খিত পরিবর্তন ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য আমি আহ্বান জানাই। হাটহাজারীবাসীর সেবা করতে চাই। আগামীতে হাটহাজারীই হবে দেশে উন্নত-সমৃদ্ধ, শান্তি-সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্রচারণায় পিছিয়ে নেই জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন। তিনিও নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে নিজের জন্য ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে উঠান বৈঠকে ভোটারদেরকে আশ্বস্ত করছেন।
মো. নাসির উদ্দীন বলেন, হাটহাজারীবাসী আমাকে ভোট দিয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলেন। এখন আমি সংসদ সদস্য হিসেবে প্রার্থী হয়েছি। আশা করি এবারও মানুষ আমাকেই নির্বাচিত করবেন। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের জোটের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে হাটহাজারীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে বাস্তব ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আপসহীন ভ‚মিকা রাখব। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত, মাদরাসা ও সাধারণ শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় সাধন, যুবসমাজকে নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলা এবং নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী- চট্টগ্রাম-৫ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৩টি। এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৩১টি। মোট সাধারণ ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৫ হাজার ১৪৬ জন। এরমধ্যে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৩ জন পুরুষ ভোটার। ২ লাখ ৪০ হাজার ৫২২ জন নারী ভোটার। হিজড়া ভোটার ১ জন। এছাড়া পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৬ হাজার ৭৭০ জন।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, ইতিমধ্যে নির্বাচনের সকল প্রকার প্রস্তুতি শেষের দিকে। সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি।
পূর্বকোণ/পিআর