
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি ফ্রি ট্রেড জোন এবং মিরসরাইয়ে আগে যেখানে ইন্ডিয়ান ইকোনমিক জোন ছিল, সেখানে ‘প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চল’ তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বেজা’র গভর্নিং বডির সভায় এর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরপর এটিকে কেবিনেটে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
চৌধুরী আশিক বলেন, ‘‘নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ নিয়ে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ কনসেপ্টটা নেই। ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ বলতে আমরা কী বুঝি? ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ বলতে আমরা একটা অলমোস্ট আলাদা অঞ্চলকে বুঝাই যেখানে কাস্টমসের কোন বাধ্যবাধকতা থাকবে না এবং সেখানে রিএক্সপোর্ট করা যাবে। সেখানে স্টোরেজ করা যাবে। সেখানে ম্যানুফ্যাকচারিং করা যাবে। উদাহরণ হিসেবে বলি— আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবসময় কথা বলি যে, আমেরিকান কটন কেন বাংলাদেশে খুব একটা বেশি ইউটিলাইজেশন হয় না, তার কিন্তু একটা বড় কারণ হচ্ছে— টাইম টু মার্কেট, আমেরিকা থেকে কটন আসতে যে সময় লাগে একটা অর্ডার প্লেস করার পরে, এটা আসলে কেনার মতো পরিস্থিতি থাকে না। কিন্তু যদি আমেরিকান কটনটা বাংলাদেশের কোনও একটা জায়গায় স্টোর করা যেত, কিন্তু এজ ইফ এরকম যে, ওটা আসলে বাংলাদেশের অংশ না, যদি বাংলাদেশিদের লাগে ওখান থেকে বাংলাদেশিরা ইউজ করবে। আবার ভিয়েতনামিদের লাগলে ওখান থেকে এটা রিক্সপোর্ট হয়ে ভিয়েতনামে চলে যাবে। এরকম যদি একটা সেটআপ করা যেত, তাহলে আসলে এই টাইম টু মার্কেট ইস্যুটা সমাধান হয়ে যেত। আমরা এরকম একটা ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ এলাকা তৈরি করার জন্য নীতিগত সমর্থন আজকে এখান থেকে পেয়েছি। এটা আমরা ফাইনালি কেবিনেটে নিয়ে যাব। বাট কেবিনেটেও সিমিলার লোকজন বসেন। আমরা আশা করছি, এটা কেবিনেটে অনুমোদন হবে।
তিনি বলেন, এই ফ্রি ট্রেড জোনের লোকেশন হিসেবে ইনিশিয়ালি চট্টগ্রামের আনোয়ারাকে আইডেন্টিফাই করা হয়েছে। প্রায় ৬৫০ একর জমির ওপরে একটা ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এটাকে কার্যকর করতে হলে বেশ কিছু আইন এবং বেশ কিছু নীতিমালা বিধিমালায় পরিবর্তন আনতে হবে। সেটা আগামী সরকার ওভার দ্য টাইম করবেন এবং আমরা আশা করছি যে, চলতি বছরের শেষের নাগাদ একটা ফ্রি জোনের একটা ভালো জায়গায় হয়তো পৌঁছাতে পারবো। অ্যাটলিস্ট ইনিশিয়াল পজিশনটাতে পৌঁছে যেতে পারবো।
আশিক চৌধুরী জানান, দ্বিতীয় যে বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন যেটাকে বলে, সামরিক অস্ত্র বা সামরিক শিল্পে যে প্রোডাকশন, সেটা নিয়ে অনেকদিন ধরে আলাপ আলোচনা করছি। আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে আসলে গ্লোবাল ডিমান্ড আছে। একদম পিওর ইকোনমিক পয়েন্ট অব ভিউ থেকে চিন্তা করলেও ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি বাড়ছে এবং সেখানে বাংলাদেশ একটা পার্টিসিপেন্ট কান্ট্রি হিসেবে তাদের কাজ শুরু করতেই পারে। আর একই সঙ্গে আমরা এটাও দেখেছি, বৈশ্বিক যে অবস্থা সেখানে আসলে সমরাস্ত্র তৈরির বা কিছু ক্যাপটিভ ক্যাপাসিটি থাকা আসলে খুব জরুরি। কারণ যখন সাপ্লাই শর্টেজ হয় তখন আসলে যুদ্ধক্ষেত্রে আপনার কাছে যদি আসলে বন্দুকের গুলি না থাকে, সেক্ষেত্রে আর ওখানে গিয়ে আপনার যুদ্ধ করার কোনও সুযোগ নাই এবং অনেকগুলো রিসেন্ট যুদ্ধে দেখা গেছে, যে জায়গায় সাপ্লাই শর্টেজ সেই শর্টেজটা আসলে হাই টেকনোলজি আইটেমে না। সিক্সথ জেনারেশন ফাইটার নিয়ে শর্টেজ না শর্টেজটা হচ্ছে বুলেটে, শর্টেজটা হচ্ছে ট্যাংকের এক্সেলে। ওই জায়গাগুলোতে আমরা আসলে কোন রোল প্লে করতে পারি কিনা, এটা নিয়ে অনেকদিন ধরে আর্ম ফোর্সেস ডিভিশন বেজা এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্স সবাই মিলে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আমরা আজকে এই প্রপোজালটা বেজার গভর্নিং বোর্ডে নিয়ে গেছিলাম—মিরসরাইতে আমরা প্রায় ৮৫০ একর জমিকে আজকে থেকে ইয়ারমার্ক করছি। নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা মাস্টার প্ল্যানে এটাকে ইনক্লুড করবো, যেটা আসলে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন হিসেবে এখন থেকে ইয়ারমার্ক হবে। এই জায়গাটা এই মুহূর্তে খালি আছে। এটা গত বছরের জুন পর্যন্ত আসলে ইন্ডিয়ান ইকোনমিক জোন হিসেবে আইডেন্টিফাই করা ছিল, তো আপনারা অনেকে শুনেছেন, ওই প্রকল্পটা বাতিল হয়ে গেছে, তো ওই জায়গাটা এভেলেবল ছিল। আমরা ওই জায়গাটাকে এখন প্রিপারপাস করে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হিসেবে ইয়ারমার্ক করছি এবং সেটা আমাদের মাস্টার প্লানে বেজার মাস্টার প্ল্যানে এটাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পূর্বকোণ/রাজীব/পারভেজ