চট্টগ্রাম সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

সর্বশেষ:

জাল সনদে বন গবেষণায় চাকরি, ৪ পুলিশসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

জাল সনদে বন গবেষণায় চাকরি, ৪ পুলিশসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১১:১২ অপরাহ্ণ

জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায়ে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের চার কর্মচারী এবং তাদের চাকরি স্থায়ীকরণে সহায়তাকারী চার পুলিশ সদস্যসহ আট জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক সাইদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ বন গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিএফআরআই) গাড়ি চালক খালেদ মোশাররফ রিয়াজ, সুইপার স্বপন সরকার, দারোয়ান মো. ফরিদ আহম্মদ ও আলমগীর হোসাইন। চার পুলিশ সদস্য হলেন- রামগতি থানার তৎকালীন এসআই মো. রফিক, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার তৎকালীন এএসআই মো. মনির হোসেন, খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার তৎকালীন এসআই আবদুল বাতেন ও গাইবান্ধা জেলা পুলিশের তৎকালীন ডিআইও আতিকুর রহমান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে গাড়িচালক, সুইপার ও নিরাপত্তাকর্মী পদে ৪০ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই পদগুলোর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল অষ্টম শ্রেণি পাস। পরে চারজনের সনদ জাল বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দুদক অনুসন্ধান শুরু করে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট চারজনের শিক্ষাগত সনদ জাল হলেও পুলিশের বিশেষ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সেগুলো যাচাই করে আসল সনদ বলে প্রতিবেদন দেন। পুলিশের ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চারজন চাকরি পান। পরে গত বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত তারা জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি করে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৮২ লাখ টাকা নেন। এ কাজে পুলিশ সদস্যরা তাদের সহযোগিতা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, পারস্পরিক যোগসাজশ ও অসৎ উদ্দেশ্যে দায়িত্বের অপব্যবহার করে ওই চার কর্মচারীর দাখিল করা ৮ম শ্রেণি পাসের ভুয়া প্রত্যয়নপত্রগুলোকে সঠিক বলে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন দেয় এবং এ রিপোর্টের ভিত্তিতে চার কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী হয়। সেকারণে চার পুলিশ সদস্য তাদের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট