
বিগত তিনটি নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু এবার সারাদেশে জোটগত নির্বাচন করলেও ব্যত্যয় ঘটেছে চট্টগ্রামে। দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের সবক’টিতে এককভাবে নির্বাচন করছে। দল থেকে মনোনীত প্রার্থীরা ইতোমধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বাছাইয়ে তারা প্রত্যেকে বৈধতাও পান। চট্টগ্রামের একটি আসন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী ঘিরে আলোচনার শেষ নেই। শেষ পর্যন্ত দল কাকে বেছে নেয় সেটিই এখন দেখার বিষয়।
২০০১ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দেশে পাঁচবার সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২০০১ সালে অষ্টম, ২০০৮ সালে নবম এবং ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি ও জামায়াত জোট। তবে জোটটি ২০১৪ সালে দশম
ও ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি না মানায় তারা নির্বাচনে যায়নি। বিএনপি-জামায়াত জোট সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল ২০১৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনটি জামায়াত ইসলামীকে, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি এলডিপি-কে এবং চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ) আসনটি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। অবশিষ্ট ১৩টি আসনে নিজেদের প্রার্থী দেয় দলটি। কিন্তু এবার ভোটের চিত্র তার সম্পূর্ণ উল্টো। বিএনপির সাথে নেই জামায়াত ও এলডিপি। দল দুটিসহ আরো ৯টি দল আলাদা জোট করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। অপরদিকে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টিও এবার নির্বাচনী দৌড়ে নেই। বিএনপি এবার অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে নির্বাচন করলেও দলগুলোকে চট্টগ্রাম থেকে কোনো আসন ছেড়ে দিতে হয়নি। তাই চট্টগ্রামের সবগুলো আসনে এককভাবে নির্বাচন করছে বিএনপি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি দুইজনকে মনোনয়ন দেয়। এরা হলেন – আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকার। তারা দুইজনই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং বাছাইয়ে বৈধতাও পান। এখন দেখার পালা শেষ পর্যন্ত কে দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের সবক’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। তবে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর নির্বাচনী বিধি নিষেধের কারণে বর্তমানে তারা নির্বাচনী প্রচারে নেই। শুধুমাত্র সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকা-ে অংশ নিচ্ছেন।
চট্টগ্রামের ১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা হলেন- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকু–আকবরশাহ) আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ) ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকার, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম- ৮ (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ আংশিক) আলহাজ এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আলহাজ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট) আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) জসিম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) নাজমুল মোস্তাফা আমিন এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।