
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নূর হোসেন বিপ্লব (২৩) নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক বহিরাগত কর্মীকে রামদাসহ আটক করে পুলিশে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে শাহ আমানত হল থেকে তাকে আটক করা হয়।
বিপ্লব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ‘আইএসএস’-এর কর্মী এবং তার বাবা শাহ আমানত হলের বাবুর্চি। ক্যাম্পাসের অনেকে তাকে চেনেন ‘আতঙ্ক বিপ্লব’ নামে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী জানান, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নিজেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য আতঙ্কের হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি চোরাই মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন স্থানীয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিপ্লবের বিরোধ তৈরি হয়। টাকার অঙ্ক নিয়ে তাদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়।
একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিপ্লবের বাবা শাহ আমানত হলের বাবুর্চি হওয়ায় উভয় পক্ষ শাহ আমানত হলে বিষয়টি সমঝোতার জন্য বসার সিদ্ধান্ত নেয়।
কিন্তু শাহ আমানত হলে যাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিপ্লব একটি রামদা নিয়ে হলে প্রবেশ করেন।
হলের গেট দিয়ে বিপ্লবকে রামদা হাতে ঢুকতে দেখে শাহ আমানত হল ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি আকাইদ খান তাকে হলের নিরাপত্তা দপ্তরে নিয়ে যান। সেখানে বিপ্লব নিজেকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, ওই মোবাইল ফোনের ক্রেতারাও ছাত্রলীগের কর্মী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি মামলা করা হবে বলে প্রক্টর হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী জানিয়েছেন।
পূর্বকোণ/পিআর