চট্টগ্রাম শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫

ফাঁকা হচ্ছে বন্দরনগরী, ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ মার্চ, ২০২৫ | ১২:৩৯ অপরাহ্ণ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে নগরীর ব্যস্ত ও যান্ত্রিক মানুষেরা ছুটছেন গ্রামের দিকে। ঈদের আগেই শহর ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ির চেনা পথে যাত্রা করছেন অনেকে। মানুষ দলে দলে বাড়ি যাওয়ায় বন্দরনগরী চট্টগ্রাম কিছুটা ফাঁকা হয়ে আসছে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন, বাস কাউন্টারগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে। একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে বাড়তি ভিড়ের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীদের অনেকে। এদিন অতিরিক্ত বগি সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম ছেড়ে যায় ১২টি আন্তঃনগর, ৬টি মেইল ও ২টি স্পেশাল ট্রেন। প্রতিটি ট্রেনেই উপচে পড়া ভিড় ছিলো বলে স্টেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

শুধু ট্রেন নয়- সড়ক পথেও গতকাল ঘরমুখী মানুষের চাপ ছিলো লক্ষ্যণীয়। গতকাল সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসের জন্য কাউন্টারে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেককে। দুপুরের পর থেকে নগরীর প্রবেশপথগুলোতে সড়ক পথের যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন একাধিক যাত্রী।

 

নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকা দিয়ে কক্সবাজার, বান্দরবান এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাসিন্দারা বাড়ি ফিরেন। গতকাল এই পথে ঘরমুখী মানুষের চাপ ছিলো বেশি। এ কারণে যানজটও তৈরি হয় বাকলিয়ার এক কিলোমিটার এলাকা থেকে নতুন ব্রিজ পেরিয়ে কর্ণফুলীর মইজ্জারটেক পর্যন্ত। তবে ভোগান্তি সয়ে আনন্দের ঈদযাত্রায় মানুষের মুখে ছিল হাসিই।

 

নগরীর আরেক প্রবেশপথ অলঙ্কার, একে খান এবং সিটি গেট এলাকার চিত্রও ছিলো প্রায় একই। দুপুরের পর থেকে এই এলাকায় ঘরমুখো যাত্রীদের বাড়তি ভিড় তৈরি হয়। ঢাকা, নোয়াখালী, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলামুখী যাত্রীদের চাপে একাধিক পরিবহন অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা করে এদিন। তবে কিছু কিছু বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়।

 

বাড়তি ভাড়া আদায় ঠেকাতে সেখানে বিআরটিএ-চট্টগ্রাম, সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত টিম নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিআরটিএ চট্টগ্রাম-১১ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকারিয়া। এ সময় তিনটি বাস কাউন্টারকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

নগরী থেকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং উত্তর চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোর বাসিন্দারা বাড়ি ফেরেন অক্সিজেন এলাকা দিয়ে। বৃহস্পতিবার এই পথে যাত্রীদের চাপ ছিলো বলে জানিয়েছেন শান্তি পরিবহনের কাউন্টারে নিয়োজিত কর্মকর্তা শাহজাহান আলী। আজ শুক্রবার থেকে এই পথে যাত্রীদের ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে জানান এই বাস কাউন্টার কর্মকর্তা।

 

পূর্বকোণ/ইব

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট