করোনা পরবর্তী পাঁচ বছরে কয়েক দফায় চা-নাস্তার দাম দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। দেশে দুধ-চিনি ও আটা-ময়দার দাম বৃদ্ধির অজুহাতে মূল্য সমন্বয়ের নামে দফায় দফায় সহজলভ্য খাবারগুলোর দাম বাড়ালেও কমানো হয় না কখনই। গেলো এক বছরে ৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে আটা, ময়দা, লবণ, চিনি ও গুঁড়ো দুধের দাম। এসব কাঁচামালের দাম কমলেও চা-নাস্তার দাম কমানোর কোন উদ্যোগ নেই হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের।
সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, গেলো এক বছরে গড়ে ১৭ শতাংশের বেশি দাম কমেছে চা-নাস্তা তৈরির প্রধান প্রধান কাঁচামাল গুঁড়ো দুধ, চিনি, লবণ, ময়দা ও আটার। এর মধ্যে ২০২৪ সালের মার্চে সর্বনিম্ন ৭৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া গুঁড়ো দুধ এখন বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৬০০ টাকায়। সেই হিসেবে গেলো এক বছরে পণ্যটির দাম কমেছে ১৭০ টাকা বা ২২ দশমিক ০৭ শতাংশ।
একই সময়ে চিনির দাম কমেছে কেজিতে অন্তত ২০ টাকা। গেলো বছরের একই সময়ে সর্বনিম্ন ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পণ্যটি এখন সর্বনিম্ন ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে চিনির দাম কমেছে ১৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে, এক বছর আগে প্যাকেটজাত আটা ও ময়দা বিক্রি হয়েছিল সর্বনিম্ন ৫৪ ও ৬০ টাকা কেজি দরে। বর্তমানে কেজিতে সর্বনিম্ন ৪৮ ও ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে পণ্য দুটি। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে পণ্য দুটির দাম কমেছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ ও ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
এর বাইরে এক বছর আগে সর্বনিম্ন ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া প্যাকেটজাত লবণ ১২ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকায়। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কমেছে ৩০ শতাংশ। চা-নাস্তা তৈরির অন্যতম এই পাঁচ কাঁচামালের গড়ে দাম কমেছে ১৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চা-নাস্তার দাম বৃদ্ধি করা হলেও কাঁচামালের দাম কমার পর চা-নাস্তার দাম কমানোর কোন উদ্যোগ নেননি ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশি ব্যবসায়ীরাও নানা অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তখন আর তারা দাম কমান না। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে গম, আটা, ময়দা, চিনি এসবের দাম কম। দেশেও কিছুটা কমেছে। কিন্তু রেস্তোরাঁ মালিকরা চা-নাস্তার দাম কমাননি। সরকারের তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোও ঘুমে আছে। এ বিষয়ে তদারকি সংস্থাগুলোরও দৃষ্টি দিতে হবে।
তবে কাঁচামালের দাম কমলেও আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চা-নাস্তার দাম কমানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগরের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর কিছু কাঁচামালের দাম কমেছে সত্য। কিন্তু বাড়িভাড়া, কর্মচারীর বেতন, ইউটিলিটি বিল সব বাড়ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে দামের সমন্বয় করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে আমাদের জন্য। কাঁচামালের দাম কমলেও অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের দাম আরও বৃদ্ধি করতে হচ্ছে।
পূর্বকোণ/ইব