অভিযাত্রী ও চট্টগ্রামের একমাত্র এভারেস্ট জয়ী বাবর আলী বলেন, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাস ‘চাঁদের পাহাড়’ আমার জীবন পাল্টে দিয়েছে। ২০ বছর পর্যন্ত আমি এডভেঞ্চারাজ কিছু করিনি। পায়ে হেঁটে করা এডভেঞ্চার আমার সবচেয়ে প্রিয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ফুলকির সুবর্ণজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাবর আলী বলেন, আগে নিজের জেলা-উপজেলাকে দেখুন। কৌতুহলী হওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পর্বত আরোহণ করা একটা খেলা। এর জন্য দরকার অসীম ধৈর্য, শক্তি, সাহস। এটি ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফুলকি ট্রাস্টের সভাপতি আবুল মোমেন, সম্পাদক ওমর কায়সার ও ফুলকির শীলা মোমেন। অনুষ্ঠানে ফুলকির নানা রঙে, নানা আয়োজনে শিশু-কিশোরদের সবসময় রাঙিয়ে রাখে বলে জানান ওমর কায়সার।
আবুল মোমেন বলেন, স্বপ্নকে লালন করে শিশু কিশোররা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে আর এই যাত্রায় তাদের সহযোগিতা করবে অভিভাবক ও ফুলকির মত প্রতিষ্ঠান।
শীলা মোমেন বলেন, ফুলকি শিশু-কিশোরদের মানস জগৎ উন্মোচনের কাজটি গত ৫০ বছর ধরে করে যাচ্ছে।
গ্যালারিতে বিশ্ববিখ্যাত চিত্রকলা, শিশুদের আঁকা ছবি ও বাবার আলীর এভারেস্ট আরোহণের ছবি প্রদর্শনী ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন অতিথিরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলো ব্রতচারী, কারাতে, বিশ্ববিখ্যাত চিত্রকলা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সোনারতরীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নৃত্যাঞ্জলীর শাস্ত্রীয় নৃত্যানুষ্ঠান।
১৯৭৬ সাল থেকে ফুলকির পথচলা। শিশুকিশোরদের মানসবিকাশে প্রতিনিয়ত সৃষ্টিশীল কাজকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছে ফুলকি পরিবারের সকল কর্মী। ২০২৫-এ ফুলকি ৫০-এ পদার্পণ করেছে। সুবর্ণজয়ন্তীবর্ষ উপলক্ষে সারাবছর নানা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক উৎসব ফুলকির দ্বিবার্ষিক আয়োজন। এ বছর চতুর্থবারের মত এ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চট্টগ্রামের শিশুকিশোর ও অভিভাবকদের সমাগমে তাদের প্রাণের উৎসবে রূপ নিয়েছে। এবারের উৎসবের প্রতিপাদ্য ‘মোরা ঝর্ণার মতো চঞ্চল, মোরা প্রকৃতির মতো স্বচ্ছল’।
পূর্বকোণ/ইব