ফের অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে তেলের বাজার। খুচরা থেকে পাইকারি বাজার- কোথাও মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল। কোথাও কোথাও কদাচিৎ পাওয়া গেলেও ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম। চাহিদা অনুযায়ী ভোজ্যতেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা বোতলজাত সয়াবিন তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছেন না। পণ্যটির সরবরাহ বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই তারা ক্রেতাদের বোতলজাত সয়াবিন তেল দিতে পারছেন না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধিরা মাঝেমধ্যে অল্প পরিমাণ তেল সরবরাহ করলেও বাসমতি চাল-আটা-ময়দা নিতে হবে বলে অদ্ভুত শর্ত দিচ্ছেন।
নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকার কর্ণফুলী কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী মো. মাহবুব আলম বলেন, যে কয়টা প্রতিষ্ঠান তেল আমদানি ও পরিশোধন করে, মূলত তাদের হাতে সবাই জিম্মি। তারা বোতলজাত সয়াবিন সরবরাহ করছে না। মাঝেমধ্যে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করছে, তাতে অদ্ভুত সব শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। দিনভর ক্রেতারা তেল চায়, কিন্তু সরবরাহ না পাওয়ায় ক্রেতাদের দিতে পারি না।
ব্যবসায়ী ও ভোজ্য তেলের ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গেল ডিসেম্বরের শুরুতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৮ টাকা বৃদ্ধির পর ফের পণ্যটির দাম বৃদ্ধি করতে গোঁ ধরেছে মিল মালিকরা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে দেশের বাজারে ফের পণ্যটির দাম বৃদ্ধির জন্য গেল ৬ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
অবশ্য নানামুখী চাপের মুখে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স এন্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব ফিরিয়ে নিলেও সরবরাহ স্বাভাবিক করেননি মিল মালিকরা। এখনও সরবরাহ বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট জিইয়ে রাখছেন তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে ভোজ্যতেল আমদানি ও পরিশোধন করে বিপণন করছে শীর্ষ কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে এস আলমের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত করায় বর্তমানে প্রথম সারিতে আছে সিটিসহ চারটা গ্রুপ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই চার প্রতিষ্ঠানই নিয়ন্ত্রণ করছে ভোজ্য তেলের বাজার।
দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের তেল ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সামনে রমজান, কিন্তু মিল মালিকরা এখন তেল সরবরাহ বন্ধ রেখে সংকট সৃষ্টি করেছেন। বাজার তদারকি বৃদ্ধি না করলে রমজানে স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সরবরাহ বন্ধ রেখে বোতলজাত সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিষয়ে জানতে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করলে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় পেয়ে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তবে ভোজ্যতেলের শীর্ষ আরেকটি আমদানি ও রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে এটা সঠিক নয়। তেল আসছে, প্যাকিং হচ্ছে, মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। সংকট যেটা হয়েছে- আমাদের ধারণা কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান আমদানি বন্ধ করে দেওয়ায় সেটা সামাল দিতে একটু সমস্যা হচ্ছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ওরা ডিসেম্বরে এভাবে দেশের মানুষকে জিম্মি করে লিটারে ৮ টাকা দাম বাড়িয়েছিল। একবার সুবিধা পেয়ে এখন আবারও সেই একই কাজ করছে। একবার সুযোগ পেয়ে এটা বারবার করছে তারা।
পূর্বকোণ/ইব