চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

তীব্র গরমে খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকায় পানির হাহাকার  

নিজস্ব প্রতিবেদক

৮ মে, ২০১৯ | ২:৪৬ অপরাহ্ণ

খাগড়াছড়ির পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষেরা তীব্র পানি সংকটে ভুগছেন। জুমচাষে ব্যস্ত থাকা মানুষগুলো এখন দিনের অর্ধেক সময় ব্যয় করছে খাওয়াসহ সংসারের দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি সংগ্রহে।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বিভিন্ন এলাকার মানুষেরা সাধারণত ছড়া, ঝিরির উপর নির্ভর করেই বাঁচে। বর্তমানে পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। শুধু দীঘিনালা নয়, জেলার পানছড়ি, লক্ষীছড়িসহ অন্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদেরমতে, বৈশ্বিক আবহাওয়ার পরিবর্তন, অতি খরা, অব্যাহতভাবে গাছপালা কেটে ফেলার কারণে প্রাকৃতিক পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে।

পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষগুলো মূলত ঝিরি, ছড়ার উপর নির্ভরশীল। ছড়াতে কূপ খনন করে বা পাহাড় থেকে চুয়ে পড়া পানির মুখে বাঁশ বসিয়ে সেগুলো সংগ্রহ করতো। যা দিয়ে খাওয়া, রান্নাবান্নাসহ সংসারের দৈনদিন কাজ চলতো। এখন প্রাকৃতিক উৎসগুলোতে পানি নেই। এখন উৎসগুলো অনেকটা মৃত। বর্তমানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোঁটা ফোঁটা পড়া পানিগুলো সংগ্রহ করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে গভীর খাদ ও পাথুরে পাহাড় হওয়ার কারণে বসানো যাচ্ছে না টিউবওয়েল বা রিংওয়েল।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সড়কের ৮ মাইল যৌথ খামার এলাকার বাসিন্দা দেলু রাণী ত্রিপুরা বলেন, পানির অভাবে অনেক কষ্টে আছি। যে কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করতাম সেখানে এখন ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ছে। খাওয়া, স্নানসহ সংসারের দৈনন্দিন কাজে ভালো করে পানি ব্যবহার করতে পারছি না। দিনের অর্ধেক সময় এখন পানি সংগ্রহে ব্যয় করতে হয়।

এদিকে ৯ মাইল এলাকার বাসিন্দা ভূবন মোহন ত্রিপুরা বলেন, ডিসেম্বর থেকে প্রাকৃতিক উৎসগুলো অনেকটা শুকিয়ে যায়। তবে এবারের অবস্থা বিগত বছরগুলোর তুলনায় ভয়াবহ। এখনই ঝিরি, ছড়া শুকিয়ে গেছে। ২ ঘণ্টা অপেক্ষার পর এক জগ পানি পাওয়া যায়। আশপাশে ছোটখাটো পানির উৎসগুলোতে ভোর থেকে দীর্ঘ লাইন থাকে। এদিকে এলাকায় তিনটি রিংওয়েল ও টিউবওয়েল থাকলেও তা অচল হয়ে আছে। অপরদিকে পাথুরে পাহাড়, পাহাড়ের খাদ থাকার কারণে চাহিদা মোতাবেক রিংওয়েল কিংবা টিউবওয়েল স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।

শুধু দীঘিনালা নয়, জেলার পানছড়ি, লক্ষীছড়িসহ অন্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও দেখা দিয়েছে পানির তীব্র সংকট।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট