চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

চট্টগ্রামে অর্থের বিনিময়ে দত্তক দিয়ে উল্টো মানবপাচার মামলা, ২ শিশু উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

৯ জুন, ২০২৪ | ৭:১১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীতে যমজ সন্তান ‘দত্তক দিয়ে’ উল্টো মানবপাচার মামলা দেয়ায় ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো।

 

শনিবার (৮ জুন) রাঙ্গুনিয়া থানার রাজানগর ও নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহেদ। তিনি জানান, গত ৩ জানুয়ারি সকালে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মুন্নী আকতারের যমজ সন্তানের জন্ম হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক রোকসানা আকতার ও মামুন এরপর মুন্নীর স্বামী হাবিবুর রহমান ও অজ্ঞাতনামা তিন মহিলার সহযোগিতায় ওই যমজ সন্তানদের দুই মহিলার হাতে তুলে দেন। মুন্নী আকতারের অন্য দুই সন্তান রুমা আকতার ও রেহানা এর প্রতিবাদ করলে স্বামী হাবিবুর রহমান তাদের বাথরুমে আটকে রাখে। পরে চিকিৎসকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার স্বামী বাচ্চা দুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন। পরে মুন্নী মানবপাচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

 

তিনি জানান, মামলার তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারি মামলার বাদী মুন্নী আকতার বার্বুচির সহকারী হিসেবে কাজসহ বাসা বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। একসময় তিনি সন্তান সম্ভাবা হন। অপরদিকে শিরু আকতার ও ‍রুনা আকতার নামে দুই মহিলা নবজাতক সন্তান দত্তক নেয়ার জন্য খুঁজছিলেন।

 

এসআই মো. শাহেদ আরও জানান, ঘটনাচক্রে তাদের সাথে সীতাকুণ্ডের সলিমপুরের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী রাশেদা বেগমের সাথে পরিচয় হয়। রাশেদা বেগম তাদের টাকার বিনিময়ে পছন্দমতো সন্তান এনে দিতে পারবেন বলে জানান। রাশেদা বেগম শিরু আকতার ও ‍রুনা আকতারের সাথে মুন্নী আকতারের পরিচয় করিয়ে দেন। নবজাতক ছেলের বিনিময়ে শিরু আকতার ৩ লাখ টাকা এবং রুনা আকতার নবজাতক কন্যার বিনিময়ে ১ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। এছাড়া তার প্রসবকালীন চিকিৎসার অর্থ দিতেও রাজি হন। পরে মুন্নী তার স্বামীর সাথে আলোচনা করে ৩ লাখ টাকায় তার ২ সন্তান দত্তক দেয়ার জন্য রাজি হন। প্রসবের পর ৩ লাখ টাকায় শিরু আকতার ও ‍রুনা আকতারকে তার দুই সন্তানকে দত্তক দেন। মধ্যস্থতাকারী হিসাবে রাশেদা বেগম পান ১ লাখ টাকা।

 

ঘটনার বেশ কিছুদিন পরে মুন্নী আকতারের স্বামী হাবিবুর তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা চান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে যান। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে মুন্নী আকতার মানবপাচার ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেন।

 

 

পূর্বকোণ/পিআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট