চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪

সর্বশেষ:

উপযুক্ত প্রচারণার অভাবে দর্শনার্থী পাচ্ছে না জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর

প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে প্রচারণা নেই: উপ-পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ মে, ২০২৪ | ১:০১ অপরাহ্ণ

ইট পাথরের জঞ্জালে ভরা নগরে নাগরিকদের জন্য বিনোদনের জায়গা তুলনামূলক কমই। শহরে যে কয়টি পর্যটন স্পট রয়েছে ছুটির দিনগুলোতে সেসব জায়গায় থাকে উপচেপড়া ভিড়। প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যার শহরে চিত্তবিনোদনের অভাবের মধ্যেও দর্শনার্থী পাচ্ছে না দক্ষিণ এশিয়ায় নানা নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার সাংস্কৃতিক সামগ্রী নিয়ে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর। আর তাতে আয়ের চেয়ে এই প্রতিষ্ঠানটির পেছনে সরকারের ব্যয় হচ্ছে কয়েকগুণ অর্থ।

 

 

নগরীর আগ্রাবাদে অবস্থিত এই জাদুঘরে দর্শক খরার পেছনে প্রচারণার অভাবের কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে জাদুঘর কর্তৃপক্ষের দাবি, বার বার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় নেই যথাযথ প্রচারণা।

 

 

সরেজমিন পরিদর্শন করে গতকাল শুক্রবার ছুটিরদিনেও দর্শনার্থী খরা দেখা গেছে জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরে। এইদিন সকালে জাদুঘরের ১১ টি কক্ষে দর্শনার্থী দেখা গেছে হাতে গোনা কয়েকজন।

 

 

জাতিতাত্তি¡ক জাদুঘরের কর্মকর্তারা জানান, প্রতি সোম থেকে শনিবার সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে, তবে রোববার বন্ধ থাকে জাদুঘর। আর অন্যান্যদিন দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিরতি থাকে। জাদুঘর খোলা থাকাকালীন সময়ে স্কুলশিক্ষার্থী ১০ টাকা, সাধারণ দর্শনার্থী ৩০ টাকা , সার্কভুক্ত দেশের দর্শনার্থী ২০০ টাকা এবং বিদেশি দর্শনার্থী ৪০০ টাকা প্রবেশমূল্য দিয়ে পরিদর্শন করতে পারেন। প্রতিমাসে ৫০০-১০০০ দর্শনার্থী এই জাদুঘর পরিদর্শন করেন। তাদের মাধ্যমে রাজস্ব আসে ১ লাখ টাকার মতো। তবে এই জাদুঘরের পেছনে সব মিলিয়ে প্রতিমাসে সরকারের ব্যয় হয় ৫ লক্ষাধিক টাকা। এতে আয়ের চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় দাড়ায় কয়েকগুণ।

 

 

নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জাদুঘরের দর্শক খরার অন্যতম কারণ উপর্যুক্ত প্রচারণার অভাব। এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, প্রচারণার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। আমি একবার শহরের ৯ টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সাইনবোর্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। এরজন্য আমার ৫ লাখ টাকা দরকার, কিন্তু সেই বরাদ্দ আমরা পাইনি। প্রচারণার জন্য কোনো বরাদ্দই আমরা পাই না। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের যথেষ্ট প্রচারণা চলে, এখন যেটুকু দর্শনার্থী আসে, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণার কারণেই আসে।

 

 

তিনি আরো জানান, বর্তমানে জাদুঘরে বাংলদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩০টি জাতিগোষ্ঠীর জীবনপ্রণালির নানা সামগ্রী রয়েছে। দেশের আরও ২০ টি জাতিগোষ্ঠীর জীবনপ্রণালির নানা সামগ্রী সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। গেল দুই বছরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে কয়েকবার আবেদন জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন