চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪

সর্বশেষ:

জীর্ণদশায় ঐতিহ্যের জাদুঘর

পাহাড়তলী রেলওয়ে জাদুঘর

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ মে, ২০২৪ | ১২:৫০ অপরাহ্ণ

দুই দশক আগে প্রতিষ্ঠিত দেশের একমাত্র রেলওয়ে জাদুঘর দিনদিন তার জৌলুস হারিয়ে ফেলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকায়ন না হওয়ায় কমে গেছে এর দর্শনার্থী সংখ্যাও। সবমিলিয়ে এখন অনেকটাই জীর্ণদশায় পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনেক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ‘সংরক্ষণশালা’ এই জাদুঘর।

 

 

নগরীর পাহাড়তলীতে রেলওয়ে ক্যারেজ ও ওয়াগন কারখানার সামনে প্রায় ১২ একর এলাকাজুড়ে রেলওয়ে জাদুঘরের অবস্থান। জাদুঘরের মূল ভবনটি কাঠের তৈরি দোতলা বাংলো। ২০০৩ এর ১৫ নভেম্বর জাদুঘরে পরিণত হওয়ার আগ পর্যন্ত দোতলা বাংলোটি রেল কর্মকর্তাদের বাংলো হিসেবেই ব্যবহৃত হতো।

 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণমুখী এক ব্যতিক্রমী নকশার কাঠের বাংলোটি ১৮৯৪ সালে নির্মাণ করা হয়। ধারণা করা হয়, এখানকার রেলওয়ে ভবনগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে পুরনো। প্রায় ৪ হাজার ২০০ বর্গফুট আয়তনের এই বাংলোকেই ২০০৩ সালে জাদুঘরে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

 

জাদুঘরে রূপান্তরের পর এতে রেলওয়ের যান্ত্রিক, বৈদ্যুতিক, টেলিযোগাযোগ, সংকেত, ট্রাফিক ও প্রকৌশল বিভাগের অন্তর্গত বিভিন্ন জিনিসপত্র স্থান পায়। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের বাতি ও আলো, পাখা ও ঘণ্টা, স্টেশন মাস্টারের পোশাক এবং আনুষঙ্গিক, সিগন্যাল সরঞ্জাম, ট্রান্সমিটার, এনালগ টেলিফোন, মনোগ্রাম, ট্র্যাক সুইচ এবং রেলওয়ে স্লিপার রয়েছে জাদুঘরের সংরক্ষণে।

 

 

প্রথম দিকে ভালো দর্শনার্থী পেলেও সময়ের সঙ্গে আধুনিকায়ন করতে না পারায় দিনদিন তা কমে আসে। এমনকি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এর মধ্যে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জাদুঘরটি সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়। তবে এ উদ্যোগ পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় জাদুঘরটির জীর্ণদশা আর কাটেনি। ভেতরে থাকা যন্ত্রপাতিগুলোও নষ্ট হয়ে পড়ছে।

 

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের প্রত্নতাত্তিক অধিদপ্তরের সহায়তা নিয়ে রেলওয়ে জাদুঘরটি আধুনিক করা গেলে তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্পর্কে জানার সুযোগ পেতো। তারা ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে সমৃদ্ধ হতো। আবার বিপুল দর্শনার্থী টেনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও ভালো আয় করতে পারতো।

 

 

জানতে চাইলে বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) সাইফুল ইসলাম পূর্বকোণকে জানান, জাদুঘরটি আধুনিকায়নে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি দল সম্প্রতি পরিদর্শন করে গেছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ বিষয়ে একটি ইতবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আমরা আশা করছি।

 

 

রেলওয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, এখন রেলওয়ে জাদুঘর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। যে কেউ চাইলেই রেলওয়ে জাদুঘরটি ঘুরে দেখার সুযোগ আছে। তবে এটা ঠিক- পর্যাপ্ত জিনিসপত্র না থাকায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম। তারপরও আমরা দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়াতে কাজ করছি।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন