চট্টগ্রাম রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪

অপেক্ষা শুধু বৃষ্টির

রুই জাতীয় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র হালদা

মোহাম্মদ আলী

১৮ মে, ২০২৪ | ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

প্রথম দফায় কাঙ্ক্ষিত ডিম না পাওয়ায় এবার বৃষ্টির প্রহর গুনছেন হালদার ডিম সংগ্রহকারীরা। কোন কারণে এবার ডিম না পেলে বড়ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। গত ৭ মে হালদায় প্রথম দফায় সীমিত আকারে রুই জাতীয় মাছ ডিম ছাড়লেও তা আশানুরূপ ছিল না। তাতে হতাশ ডিম সংগ্রহকারীরা।

 

 

অন্যান্য বছরের মতো এবারও রেণু ফোটানোর জন্য হ্যাচারির কুয়া সংস্কার ও মাটির কুয়া তৈরি, নৌকা সংগ্রহ এবং ডিম ধরার জালসহ অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত করে রাখেন ডিম সংগ্রহকারীরা। প্রস্তুত রাখা হয় ডিম সংগ্রহকারীদেরও। যাতে রুই জাতীয় (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) মাছের ডিম ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হালদা থেকে আহরণ করা যায়।

 

 

কিন্তু গত ৭ মে হালদায় সীমিত আকারে ডিম ছাড়ে মা মাছ। তাতে প্রায় ২০০ নৌকা নিয়ে হালদায় ডিম সংগ্রহ করে পরে তা পরিচর্যা করে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি রেণু পান ডিম আহরণকারীরা। অথচ ২০২৩ সালের ১৮ জুন হালদায় রুই জাতীয় মাছ বিগত কয়েক বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ ডিম ছাড়ে। সেবার প্রায় ৩০০ নৌকায় ৭০০ সংগ্রহকারী ডিম আহরণ করেন। তাতে ডিম পাওয়া গেছে ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি। সেসব ডিম থেকে রেণু পাওয়া যায় প্রায় ৪৩৭ কেজি। কিন্তু এ বছর সেভাবে ডিম মেলেনি। তাতে অনেকে খরচও তুলতে পারেননি।

 

 

হালদা গবেষক ও ডিম আহরণকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ২০ থেকে ২৬ মে ভরা পূর্ণিমা, ২ থেকে ৮ জুন অমাবস্যা এবং ১৯ থেকে ২৫ জুন ভরা পূর্ণিমায় উপযুক্ত পরিবেশ পেলে হালদায় ডিম দিতে পারে মা মাছ। এখন এ তিনটি সময়ের জন্য অধীর অপেক্ষায় আছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। মেঘের গর্জন, মুষলধারে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল- এ তিন কাঙ্ক্ষিত প্রকৃতির দেখা মিললে হালদায় ডিম ছাড়বে মা মাছ। এরপর উৎসবের আমেজে নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করবেন আহরণকারীরা।

 

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, গত ৭ মে হালদায় সীমিত পরিমাণের ডিম ছেড়েছে রুই জাতীয় মাছ। তাতে পরিচর্যা করে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি রেণু পান ডিম আহরণকারীরা। তাছাড়া আগামী ২০ থেকে ২৬ মে ভরা পূর্ণিমা, ২ থেকে ৮ জুন আমাবস্যা এবং ১৯ থেকে ২৫ জুন ভরা পূর্ণিমায় উপযুক্ত পরিবেশ পেলে হালদায় ডিম দিতে পারে মা মাছ। এ সময়ের জন্য প্রহর গুনছেন হালদার ডিম সংগ্রহকারীরা।

 

 

প্রসঙ্গত, বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী হালদা, যেখান থেকে রুই জাতীয় মাছের সরাসরি নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। রাউজান-হাটহাজারী উপজেলার সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া হালদা নদীতে স্মরণাতীত কাল থেকে প্রতিবছর বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে ডিম ছাড়ে মা মাছ। হ্যাচারি পোনার চেয়ে হালদার পোনা দ্রুত বর্ধনশীল বলে এ পোনার কদর সারাদেশে।

 

 

ডিম সংগ্রহকারীরা হ্যাচারির কুয়া ও স্থানীয়ভাবে মাটির কুয়া তৈরি করে অপেক্ষায় থাকেন, মা মাছ কখন ডিম ছাড়বে। নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করে তা থেকে রেণু ফুটিয়ে বাজারজাতের মাধ্যমে টাকা আয় করেন আহরণকারীরা। রেণুর বিক্রি ও মাছ চাষের মাধ্যমে পুরো বছর জীবিকা নির্বাহ করেন ডিম সংগ্রহকারীরা।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট