চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

ক্লিংকারের প্রতি টন কাস্টমস ডিউটি ২শ টাকা হওয়া চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

৫ মে, ২০২৪ | ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সিমেন্ট উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি প্রতি টন ৭শ টাকার থেকে কমিয়ে ২শ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন আহমদ। আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০২৪-২০২৫ প্রসঙ্গে পূর্বকোণ প্রতিনিধির সঙ্গে ‘বাজেট ভাবনা’ নিয়ে আলোচনায় তিনি এ দাবি জানান।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সিমেন্ট উৎপাদনের সকল কাঁচামাল আমদানির উপর অগ্রিম আয়কর কর্তনের বিধান রয়েছে। এর মধ্যে ক্লিংকারে ২%, স্লাগে ৩%, লাইমস্টোনে ৫%, ফ্লাই অ্যাশে ৩% এবং জিপসাম আমদানি করতে গিয়ে ৫% অগ্রিম আয়কর দিতে হচ্ছে। এই সকল কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর শূন্য দশমিক ৫০% নির্ধারণের দাবি জানাই। যদিও কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর ধার্য করা এবং এটি ন্যূনতম কর হিসেবে গণ্য করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

 

এছাড়া সিমেন্ট বিক্রি পর্যায়ে বর্তমানে ২% অগ্রিম আয়কর কর্তনের বিষয়ে জহির উদ্দিন আহমদ বলেন, যেহেতু আমদানি পর্যায়ে একবার অগ্রিম আয়কর দেওয়া হয়, তাই বিক্রি পর্যায়ে আবারও ২% অগ্রিম আয়কর ধার্য করা দ্বৈত করের শামিল। তারপরও বিক্রি পর্যায়ে এই অগ্রিম আয়কর শূন্য দশমিক ৫০% নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে অগ্রিম আয়করকে কোনভাবেই ন্যূনতম কর হিসেবে গণ্য করা সমীচীন হবে না। এদিকে, ইস্পাত শিল্পের মতো সিমেন্ট শিল্পেও ভ্যাট নির্ণয়ে ট্যারিফ পদ্ধতি প্রবর্তনের দাবি জানিয়ে জহির উদ্দিন আহমদ বলেন, ট্যারিফ পদ্ধতি প্রবর্তন করলে ভ্যাট নিয়ে মতপার্থক্য দূর হবে। অনেকের ধারণা ট্যারিফ পদ্ধতির মাধ্যমে সিমেন্ট খাতে ভ্যাট নির্ধারণ করলে বর্তমান সময়ের চেয়ে ভ্যাটের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে; যা সঠিক নয়। কারণ বর্তমান আইন অনুযায়ী বিভিন্ন কোম্পানির জন্য ভিন্ন ভিন্ন মূল্যের উপর ভ্যাট ধার্য করা হয়। কিন্তু ট্যারিফ পদ্ধতি প্রবর্তন করলে সকল সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে ভ্যাটের পরিমাণ একই হবে।
সিমেন্ট রপ্তানির উপর কর রেয়াত পদ্ধতি সহজ করার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালের মূল্য সংযোজন কর আইন অনুযায়ী ‘ডিউটি ড্রব্যাক’ পদ্ধতি চালু হওয়ায় শুল্ক রেয়াত প্রক্রিয়া জটিল হয় এবং অযথা সময়ক্ষেপণ হয়। তাই রপ্তানির উপর কর রেয়াত পদ্ধতি সহজীকরণ করার দাবি জানাই।

 

সিমেন্ট শিল্পে খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির উপর মাত্রাতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সিমেন্ট উৎপাদনে মূলধনি যন্ত্র আমদানিতে ১% শুল্ক ধার্য করা হয়। অথচ ওই একই মূলধনি যন্ত্রের কোন পার্টস নষ্ট হলে সেই খুচরা যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে আদামদানি করতে ২৫% শুল্ক দিতে হয়। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। জহির উদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে সিমেন্ট উৎপাদনের সকল কাঁচামাল আমদানি মূল্যের চেয়ে অত্যধিক বেশি মূল্য ধরে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ক্লিংকার প্রতি টন ৬০ ডলার, স্লাগ ৩০ ডলার, লাইমস্টোন সাড়ে ২০ ডলার, ফ্লাই অ্যাশ ৩০ এবং জিপসাম প্রতি টন ৩৫ ডলার ধরে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান আমদানি মূল্য বিবেচনা করে ক্লিংকার প্রতি টন ৫০ ডলার, স্লাগ ২৩ ডলার, লাইমস্টোন সাড়ে ১৯ ডলার, ফ্লাই অ্যাশ ২৮ এবং জিপসাম প্রতি টন ৩০ ডলার ধরে শুল্কায়নে অনুরোধ জানাই।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট