চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪

মেলার প্রস্তুতিতে বেচাবিক্রি শুরু

মরিয়ম জাহান মুন্নী

২৩ এপ্রিল, ২০২৪ | ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

রেশমি চুড়ির ডালা সাজাচ্ছেন ষাটোর্ধ্ব সালমা বেগম। সেই কাজে সাহায্য করছেন তার মেয়ে জামাই রমজান মিয়া। পুরোপুরি প্রস্তুতির আগেই তাকে ঘিরে আছেন তরুণীরা। দেখছেন বাহারি রঙের চুড়ি। কেউ হাতে পড়ে, কেউ রং দেখে পছন্দ হলেই করছেন দরদাম। প্রস্তুতির ব্যস্ততার মধ্যেও হাসি মুখে সেই চুড়ি ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করছেন বয়স্ক সালমা বেগম। দীর্ঘ ৪০ বছর ঢাকা থেকে এসে তিনি এমেলায় অংশগ্রহণ করে যাচ্ছেন। মেলা শুরুর বাকি আরো দু’দিন। এরমধ্যে চলছে দোকান সাজানোর কাজ। এদিকে মেলা শুরুর আগেই ভিড় বাড়ছে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের।

 

মাটির পণ্য, বেতের ফুল-ফুলের টব, ফুলদানি, ঘর সাজানোর শোপিস, শিশুদের খেলনা, পাটের পণ্য, তাতের পণ্য, পাপস, হাঁড়ি-পাতিল, দা-ছুরি, ঝাড়–, দোলনাসহ সব রকম দেশীয় পণ্যের ছোট-বড় মিলে প্রায় দুই শতাধিক স্টল সাজতে শুরু করেছে মেলায়। দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্টল সাজাতে ব্যস্ত এখন।

 

গতকাল সোমবার বিকেলে লালদিঘির ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা ও বৈশাখী মেলার ১১৫তম পর্ব শুরুর আগে দৃশ্য এটি। এরমধ্যে মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা চলে এসেছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। নিচ্ছেন তিন দিনের মেলার প্রস্তুতি।

 

এদিকে কক্সবাজার থেকে এসেছেন মো. আরাফাত। ২০ বছরের বেশি সময় তিনিও এ মেলায় অংশগ্রহণ করছেন। নানা রঙের হাত পাখা, ডালা, কুলা, ঝুঁড়ি, নিয়ে আসেন তিনি। বিক্রেতা আরাফাত ও তাঁর সহকারী নাছির, জিয়া সবাই ব্যস্ত পণ্যগুলো সাজাতে।

 

এসময় তিনি বলেন, আসছি পর্যন্ত বেশি বিক্রি হচ্ছে হাত পাখা। আমাদের কাছে চার রকমের হাত পাখা আছে। বেশি বিক্রি হচ্ছে তালপাতার হাত পাখাটি। বাঁশের হাত পাখা প্রতি পিস ১শ’ থেকে ১৫০ টাকা, তালপাতার ১৫০ টাকা, কাপড়েরটা ৮০ থেকে ১শ’ টাকায় এবং প্লাস্টিকের কাগজের হাতপাখা বিক্রি হচ্ছে ১শ থেকে ১২০ টাকায়। এছাড়া কুলা আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২শ’ থেকে ৪শ’ টাকায়। বাঁশের টুকরি বিক্রি হচ্ছে ৮০- ৩শ’ টাকায়, খাঁছি ৮০ থেকে ২শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

একইভাবে ৪০ বছর বগুড়া থেকে শিশুদের হাতে বানানো নানারকম খেলনা নিয়ে আসেন প্রায় ৭০ বছর বয়সী মো. মনছুর। তিনি বলেন, টানা ৪০ বছর এ মেলায় অংশগ্রহণ করছি। কখনো কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। তবে কখনো খুব ভালো, কখনো মোটামুটি ব্যবসা করেছি।

 

মেলার মধ্যমণি হচ্ছে মাটির তৈজসপত্রগুলো। বাহারি এ মাটির পণ্য নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের। ক্রেতাদের ভিড়ও বেশি মাটির হাঁড়ি-পাতিল, ফুলদানি, ফুলের টব, ঘর সাজানোর শোপিসের স্টলগুলোর সামনে।

 

ঢাকা মৃৎ শিল্প’র মো. মুরাদ হোসের বাবু বলেন, এখনো দোকানের চাল বাঁধা হচ্ছে। এদিকে পণ্যগুলো গাড়ি থেকে নামিয়ে রাখা হয়েছে। আরো পণ্য আসবে। তবে বেচাবিক্রি চলছে। বিশেষ করে পাইকারি পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী আমাদের থেকে কিনে নিয়ে তারা আবার বিক্রি করবেন। মাটির পণ্যের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশি। পাশাপাশি খুচরা ক্রেতারাও কেনাকাটা করছেন।

 

এখানে ক্রেতা নাজমা খাতুন বলেন, বিকেশের দিকে রোদ কমেছে। তাই এ ফাঁকে ঘর সাজানোর ফুলের জন্য এসেছি। মেলার তিনদিন খুব ভিড় হবে ভেবেই আগে আগে এসেছি। তিনপিস সূর্যমুখী ফুল কিনেছি। আরো কিছু নিব। মাটির পণ্যও কিছু কিনবো।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট