চট্টগ্রাম সোমবার, ২৭ মে, ২০২৪

এক সপ্তাহে আলুর দাম বৃদ্ধি কেজিতে ৮ টাকা

আরাফাত বিন হাসান

১৭ এপ্রিল, ২০২৪ | ১২:১৩ অপরাহ্ণ

ঈদের পর আবারও বাড়ল আলুর দাম। ছুটি শেষে পাইকারি বাজারে কর্মব্যস্ততার শুরুতেই এক লাফে কেজিতে আট টাকা দাম বেড়েছে সবজিটির। গতকাল মঙ্গলবার নগরীতে সবজি বিক্রির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজারে ৪৩ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়েছে আলু।

 

ঈদের ছুটির আগে পাইকারি ৩৫ টাকা কেজিদরে পণ্যটি বিক্রি করেছিলেন এই বাজারের ব্যবসায়ীরা। আলু সবজি হলেও এর ব্যবহার অনেকটা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মতোই। সবচেয়ে সহজলভ্য ও সহজে রান্নার সুবিধার জন্য বাড়তি চাহিদা থাকে এই সবজির। আবারও দাম বৃদ্ধির কারণে তাই বেকায়দায় পড়বেন প্রায় সব শ্রেণির মানুষ। হঠাৎ পণ্যটির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উৎপাদন কম হওয়ার অজুহাত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ভোক্তারা বলছেন, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বাড়তি মুনাফার লোভ আর যথাযথ তদারকির অভাবই আলুর মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

 

রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি রশীদ আহমেদ সওদাগর বলেন, এবার আলুর সরবরাহ কম, ফলন কম হয়েছে। তাই আমাদের বাড়তি দামে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আর তাতেই বাড়ছে দাম। ঈদের ছুটির আগে পাইকারি বাজারে আলু ৩৫ টাকা কেজি এবং ঈদের ছুটির পর মঙ্গলবার প্রথমদিনেই ৪৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

চট্টগ্রামে আলুর সবচেয়ে বেশি চাষ হয় চন্দনাইশের দোহাজারী এলাকায়। ওই এলাকার আলুচাষি মো. নাছির উদ্দিন বলেন, এবার ফলন কম হয়েছে। প্রতিবার প্রতিকানিতে (০ দশমিক ১৬০ হেক্টর) যেখানে ৩০ থেকে ৪০ মণ ফলন হতো, সেখানে এবার ফলন হয়েছে দুই মণের মতো। অনেকের এক মণ ফলনও হয়েছে। এতে আমাদের খরচটা বেড়ে গেছে। তাই দামও বেশি। আমরা এবার ললিতা (সাদা) আলু গড়ে ৩০ টাকা করে দিয়েছি।

 

ব্যবসায়ীরা আলুর ফলন কম ও বাড়তি দামে ক্রয়ের কথা বললেও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এই সবজির উৎপাদন খরচ কেজিতে কোনওভাবেই ১৫ টাকার বেশি নয়। চট্টগ্রাম জেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, এবার আলু কী পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে সেই পরিসংখ্যান এখনও আমরা তৈরি করিনি। তবে এবার চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৯২১ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। প্রতিকেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের ১৩-১৪ টাকা ব্যয় হয়, এটা কোনওভাবেই ১৫ টাকার বেশি না। তবে ভোক্তারা বলছেন, অতিরিক্ত মুনাফার লোভে যাচ্ছেতাই দাম রাখছেন ব্যবসায়ীরা। নেই যথাযথ তদারকিও।

 

কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ঈদের ছুটিতে এমন বড় কোন বিপর্যয় হয়নি যে আলুর দাম ২৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যাবে। মূলত ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার জন্যই যাচ্ছেতাই দাম রাখছেন। এটা তদারকিরও যেন কেউ নেই। প্রশাসনিক লোকজন সবাই শো-অফের চিন্তায় থাকেন, জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে কেউ ভাবেন না।

 

গেলো বছরের শেষ দিকে হঠাৎ বেড়ে যায় আলুর দাম। একপর্যায়ে ৮০ টাকা ছাড়িয়ে যায় পণ্যটির দাম। চলতি বছরের শুরুতেও বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছিল এই সবজি। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভারত থেকে আলু আমদানি শুরু হলে দাম কমে পণ্যটির। এরপরও আমদানির তারতম্যে কয়েক দফায় দাম ওঠা-নামা করে পণ্যটির। এখনও আলু আমদানির অনুমতি রয়েছে ব্যবসায়ীদের। আমদানির মধ্যেই দাম বাড়ছে এই সবজির।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট