চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪

যেন পাল্লা দিচ্ছে তীব্র গরম আর লোডশেডিং, হাঁসফাঁস অবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

৫ এপ্রিল, ২০২৪ | ১:৩৬ অপরাহ্ণ

দেশজুড়ে চলছে মৃদু তাপপ্রবাহ। চৈত্রের কাঠফাটা রোদে চট্টগ্রামেও কদিন ধরে তাপমাত্রা উঠছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। এতে বেড়ে গেছে বিদ্যুতের ব্যবহার। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না মেলায় বেড়ে গেছে লোডশেডিংও। রমজানে গরম-লোডশেডিংয়ের এই পাল্লায় হাঁসফাঁস অবস্থা ছোট-বড় সবার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যা আরও বিস্তার লাভ করতে পারে। এসব এলাকায় জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে চট্টগ্রামেও তাপমাত্রার চেয়ে বেশি গরম অনুভুত হচ্ছে। যা চলতি মাসে আরও বাড়বে। এমনকি অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া কার্যালয়ের পূর্বাভাস কর্মকর্তা ও সহকারী আবহাওয়াবিদ মেঘনাথ তঞ্চঙ্গ্যা জানান, আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকায় এই সময়ে গরমের তীব্রতা বেশি অনুভব হচ্ছে। যা সামনে আরও বাড়বে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহ ধরে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিডিবি। সংস্থাটি বলছে- গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, আইপিপি কেন্দ্রে বিপুল বকেয়াসহ নানা কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। এ সময় ঢাকা লোডশেডিংমুক্ত রাখতে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।

পিডিবির দেওয়া তথ্যানুযায়ী- গতকাল দিনের ১১টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৬৪ মেগাওয়াট। গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ মিলেছে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট। দিনে লোডশেডিং ছিল ২৬৪ মেগাওয়াট। সন্ধ্যা ৭টায় চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৯৫ মেগাওয়াটে। এ সময় সরবরাহ ছিল ১ হাজার ২৫৬ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ২৩৯ মেগাওয়াট।

দিনে ও রাতে ২৫০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং থাকায় বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটা ভেঙে পড়ে। কোনো কোনো এলাকায় পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ৭-৮ বার লোডশেডিং দেওয়া হয়। শহরে কয়েক ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ মিললেও দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ ছিলো না গ্রামাঞ্চলে। গরম আর লোডশেডিং বাড়িয়ে দেয় ভোগান্তি।

নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার গৃহিণী নাজিয়া সিদ্দিকী জানান, লোডশেডিংয়ে অসহ্য অবস্থা পার করছি। একে তো অনেক গরম, এরপর বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারছে না। রাত ১টা, দেড়টায়ও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ঘুমাতে না পেরে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

গরম আর লোডশেডিংয়ে ভোগান্তির কথা জানান বাকলিয়ার সৈয়দ আরিফ হোসেনও। তিনি জানান, সরকার ইচ্ছেমতো বিদ্যুতের দাম বাড়ালো। আমরা নিয়মিত বিলও পরিশোধ করছি। তাহলে এখন কেনো গ্যাস সংকট-বকেয়া বিলের কারণে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না? আমাদের দেওয়া বিল কোথায় গেল?

 

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট