চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

স্বপ্ন ছুঁতে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের বাবর

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ মার্চ, ২০২৪ | ২:০৪ অপরাহ্ণ

হিমালয়ের বিভিন্ন পর্বত জয়ের পর এবার পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ শৃঙ্গ লোৎসে অভিযান শুরু করবেন চট্টগ্রামের তরুণ চিকিৎসক মো. বাবর আলী। পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া থেকে বাকি দুনিয়াটা দেখার স্বপ্ন থেকেই এই স্বপ্নযাত্রা বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে পর্বতারোহণ সংগঠন ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’র সংবাদ সম্মেলনে নিজের এভারেস্ট অভিযানের উদ্দেশ্যের বিষয়ে জানান বাবার। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. বাবার আলী বলেন, ‘এটা আসলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্পোর্টস। অন্য স্পোর্টসগুলোর যেমন অনেক বেশি গুরুত্ব থাকে, অনেক মানুষের সামনে খেলা হয়, বা টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচার করে, তবে এই স্পোর্টস কিছুটা ভিন্ন।

 

পৃথিবীর দুর্গমতম প্রান্তে এই খেলাটা প্রাক্টিস করা হয়। কোনো রেফারি, আম্পায়ার কিছুই থাকে না। উদ্দেশ্যটাও অনেকটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক। যারা পর্বতারোহণ করেন, তাদের উদ্দেশ্যই থাকেপৃথিবীর সর্বোচ্চ চ‚ড়া থেকে বাকি দুনিয়াটা দেখা। একই সেঙ্গ যেহেতু এটা একটা স্পোর্টস, স্পোর্টসের মাধ্যমে সুযোগ থাকে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার। ইতোমধ্যে এভারেস্টে আমাদের দেশের পতাকা বেশ কয়েকবার উড়েছে। গোটা পৃথিবীতে ১৪ টা ৮ হাজার মিটারের পর্বত আছে। কিন্তু লোৎসে বা এরকম একসঙ্গে দুটো ৮ হাজার মিটারের বড় পর্বতে আরোহণ এটা হয়নি। এটা যদি আমি সফলভাবে শেষ করতে পারি, এরকম খুবই ডিমান্ডিং এবং শারীরিক চ্যালেঞ্জিং স্পোর্টসে আমরা যে পারি, এটারও একটা বার্তা থাকবে।’

 

অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যে অভিযানে যাচ্ছি, সেখানে দুটো পর্বত একসঙ্গে, মাউন্ট এভারেস্ট এবং মাউন্ট লোৎসে। লোৎসে হলো পৃুথিবীর চতুর্থ সর্বোচ্চ উচ্চতার পর্বত। একই অভিযানে দুটো পর্বতে যাওয়া আসলে চ্যালেঞ্জিং। তবে আমি নিজেকে ওইভাবেই প্রস্তুত করছি গত কিছুদিন ধরে। তাছাড়া অনেকদিন ধরে আমি হিমালয়ের বিভিন্ন পর্বতে যাচ্ছি। আগামী ১ এপ্রিল (সোমবার) কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে আমার ফ্লাইট। আমার অভিযানের সময় ২ মাস, হয়তো মে’র শেষের দিকে বা জুনের শুরুর দিকে ফিরব। প্রথমদিকে কাঠমান্ডু পৌঁছার পর পারমিট বা আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ করতে ৫-৬ দিন সময় লাগবে হয়তো। এরপর আমি কাঠমান্ডু থেকে বিমানে লুকলা যাব, সেখানে বেইসক্যাম্পের ট্র্যাকিংটা শুরু হবে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে বেইসক্যাম্পে পৌঁছে যাব। বেইসক্যাম্প থেকে মূল অভিযানটা শুরু হয়। বেইসক্যাম্প থেকে ক্যাম্প-১, ক্যাম্প-২, ক্যাম্প-৩ এভাবে ধীরে ধীরে এগুতে হয়।

 

অভিযানের অর্থায়নের বিষয়ে বাবার বলেন, এই অভিযানটা একটা বড় অভিযান, এটার জন্য একটা বড় অর্থের প্রয়োজন। অনেকগুলো সামাজিক সংগঠন আমার ডাকে এগিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে অনেকে ব্যক্তিগতভাবে আমার এই অভিযানে পাশে দাঁড়িয়েছেন। পুরো অভিযানে ৪৫ লাখ টাকার মতো ব্যয় হবে। এর বড় একটা অংশ খরচ হয় নেপাল সরকারের অনুমতি নেওয়া এবং আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র কেনার কাজে।

 

সংবাদ সম্মেলনে পর্বতারোহণে নিজের আগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি দশ বছর ধরে হিমালয়ের নানা চ‚ড়ায় যাচ্ছি। ২০১০ সালের দিকে শুরুতে দেখলাম যে আমাদের চট্টগ্রামে কী আছে। এক পর্যায়ে মনে হলো যে নেক্সট লেভেলে যাওয়া দরকার, তখন ২০১৪ সালে আমি প্রথমবার নেপালে গেলাম। এরপর আমি পরিকল্পনা করে যে পর্বতগুলো আরোহণ করলাম সেগুলো ৬ হাজার মিটারের। এরপর মনে হলো নেক্সট লেভেলে যাওয়া দরকার। তখন পরিকল্পনা করলাম ৬ হাজার মিটারের পর্বতে যাওয়া দরকার। এটা একটা স্পোর্টস। এই স্পোর্টসে কিছু স্কিল লাগে। যেমন -ক্লাইম্বিং স্কিল, আইস ক্লাইম্বিং স্কিল এবং  ক্লাইম্বিং স্কিল। এই স্কিলগুলো শেখার জন্য আমি নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং, ভারতের উত্তারখন্ডে অবস্থিত- সেখানে আমি বেসিক মাউন্টেনিং কোর্স করেছি। ওটা একটা ২৯ দিনের কোর্স, এই প্রতিষ্ঠানটা ভারতীয় সেনাবাহিনী খুবই শৃঙ্খলিত পদ্ধতিতে পরিচালনা করে। এই কোর্সটা করার পর আমার স্কিল আরেকটু বাড়লো, এবার চেষ্টা করে টেকনিক্যাল মাউন্টেইনে অভিযান করেছি। এভাবে ধাপে ধাপে এগিয়েছি।

 

এসময় বাবর আলীর অভিযান সমন্বয়ক ফারহান জামান, ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’র সাবেক সভাপতি শিহাব উদ্দিন, অভিযানের পৃষ্টপোষক ভিজুয়াল নিটওয়ারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ নূর ফয়সাল ও ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, এর আগে প্লাস্টিক দূষণের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা পায়ে হেঁটে অলোচিত হন বাবর।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট