চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

ঈদবাজারে এবার দাপট আলেয়া-নায়রার

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ মার্চ, ২০২৪ | ৪:১৪ অপরাহ্ণ

প্রতিবারের মত এবারও ঈদের পোশাকে রয়েছে নতুনত্ব। নগরীর বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, ঈদ পোশাকে ফ্যাশন সচেতন তরুণী এবং শিশুদের চারটি নতুন ট্রেন্ডের পোশাক এসেছে। ছেলেদের এসেছে একটি।
শিশু এবং তরুণীদের এ পোশাকগুলো হচ্ছে- ‘আলেয়া, নায়রা, ইরানি স্টাইল ও পারস্যের লম্বা এবং শর্ট সারার-গারার স্টাইল’। ছেলেদের পোশাকে খুব একটা পরিবর্তন না আসলেও এবারের ঈদ ফ্যাশেনের ট্রেন্ড ‘মিশরি স্টাইলের পাঞ্জাবি’।
মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির খোলাবাজারের এই যুগে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি ভিনদেশী পোশাকের ফ্যাশন বরাবরই যোগ হয়ে আসছে বাংলাদেশের ফ্যাশনে। মেয়েদের ঈদ ফ্যাশেনে যুক্ত হওয়া এ চারটি পোশাকের মধ্যে ভারতের ডিজাইন ‘আলেয়া’ পাকিস্তানের ডিজাইন ‘নায়রা’ এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম পোশাক ‘ইরানি স্টাইল’ ও ‘পারস্যের সারারা-গারার স্টাইলে’ তরুণীদের আগ্রহ দেখা যায়। এছাড়া পূর্বের পাকিস্তানি এবং ভারতীয় পোশাকের ডিজাইনগুলোতেও আগ্রহ রয়েছে ক্রেতাদের। গতকাল রবিবার নগরীর বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়। এসময় ভারতের আলেয়া কার্টের পোশাকটি গোল ফ্রকের মধ্যে বুক থেকে সামনে পেছনে কুচি সেলাই করা। পোশাকটির উপাদান বøক, স্ক্রিন, কটন, শিপন, নেট ও জর্জেটের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে। এ পোশাকটি শিশু থেকে তরুণী সবার সাইজের রয়েছে। শিশুদের পোশাক ৮শ’ থেকে তিন হাজার টাকায় এবং তরুণীদের পোশাকটি মিলছে ২৫শ’ টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে। এটি টু-পিস এবং ওয়ান পিস আকারে পাওয়া যায়। ‘নায়রা’ কামিজের মধ্যে দুই পাশের সাইড কাটা। সাইডে যুক্ত হয়েছে ঝুলানো পিতা স্টাইল। এ পোশাকগুলোও কটন, জর্জেট, শিপন, প্যাচওয়াক উপকরণে তৈরি করা হয়েছে। এটি টু-পিস আকারে পাওয়া যাচ্ছে। এটি মূলত তরুণীদের পোশাক। নায়রা মিলছে ১৫শ’ থেকে পাঁচ হাজারের মধ্যে। এছাড়া পারস্য স্টাইলের পোশাক সারারা শর্ট এবং লং ফ্রক ডিজাইনের এবং গারারা হচ্ছে হাঁটু থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত কুচি ডিজাইন। এ পোশাকগুলো তৈরি করা হয়েছে বিশেষ করে শিপন, জর্জেট, নেট ও টিসুর উপর কারচুপি, জারদৌসি ও এমব্রয়ডারি কাজ দিয়ে। এ পোশাকগুলো বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার থেকে দশ হাজার টাকার মধ্যে। ইরানি স্টাইলে পোশাকটি দেখা যায় কামিজ বা গোল ফ্রক হাতের বাহু থেকে কবজিতে এসে চাপা কুচি। সালোয়ারেও পায়ের নিচে এসে চারা কুচি ডিজাইন। এ পোশাকগুলো বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকা থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যে।
অভিজাত শপিংমল সানমারের সুপার নূর ফ্যাশনের বিক্রয় কর্মী মেহেরুন নেসা পিংকি বলেন, এবার ঈদে মডার্ন তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে পারস্য ও মিশরি পোশাকগুলো। শিশুদের আলেয়া পোশাকে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। নায়রা শিশু এবং তরুণী সবারই পছন্দের শীর্ষে রয়েছে।
সানমারে স্বামীর সাথে আসেন ঋতু আক্তার। তিনি বলেন, ইরানি স্টাইলেই একটা পোশাক ও নায়রা স্টাইলেই তিনটা পোশাক কিনেছি আমি ও দুই বোনের জন্য। চারটা পোশাকে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা এসেছে। শুনেছি এগুলো এবার ঈদের নতুন স্টাইল। ঈদে বরাবরই আমার নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনতে ভালো লাগে।
চকবাজার মতি টাওয়ারের নুর ফ্যাশন হাউসের সত্ত¡াধিকারী মো. রায়হান উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় নতুন ট্রেন্ড আসে মার্কেটে। ক্রেতাদের রুচি বুঝে সেই পোশাকগুলোই দোকানে উঠাতে হয়। সেই পোশাকগুলোই বেশি বিক্রি হয়। এবারে তিন-চার স্টাইলের পোশাক এসেছে। সেগুলোও বেশ বিক্রি হচ্ছে।
বালি আর্কেড শপিংমলের শৈল্পিক’র ম্যানেজার বাহাদুর ইসলাম রনী বলেন, মোটামুটি সব ফ্যাশেনের পাঞ্জাবিগুলোই বিক্রি হচ্ছে। তবে ইয়াং ছেলেদের মধ্যে ইরানি ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম পাঞ্জাবির প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এ পাঞ্জাবিগুলো পিউর কটন, শিপনের সাথে সুতি মিশ্রিত কাপতান পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে বেশি। এ পাঞ্জাবিগুলো দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া মেয়েদের পূর্বের সালোয়ার-কামিজ, স্লিভলেস, থ্রিকোয়ার্টার, কুচি দেওয়া হাতা, কুটি ও থ্রিপিস, ফোরপিসে আগ্রহ রয়েছে।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট