চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

ঠেকানো যাচ্ছে না যক্ষ্মায় মৃত্যু

ইমাম হোসাইন রাজু

২৪ মার্চ, ২০২৪ | ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

২০২২ সালে চট্টগ্রামে যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৫ হাজার ৯৯১ জন। একই বছরে মারা গেছে ১৬১ জন। অথচ ঠিক পরবর্তী বছর ২০২৩ সালে আক্রান্তের হার সাড়ে ২১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৪১৭ জন। মৃত্যুর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। ওই বছর রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ২৪০ জন। যা এক বছরের তুলনায় ৪৯ শতাংশ বেশি।

 

হিসাব কষলে দেখা যায়, মৃত্যুর এ সংখ্যা আক্রান্তের তুলনায় প্রায় দুই শতাংশের কাছাকাছি। অথচ যক্ষ্মা রোগকে প্রতিহত করা যায় না কিংবা এর চিকিৎসা নেই, এমনও কিন্তু নয়। বরং যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসায় সফল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী চিকিৎসার সাফল্যের হারও ‘সন্তোষজনক’। কিন্তু এরপরও মৃত্যুর সংখ্য কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। এহেন অবস্থায় যক্ষ্মামুক্ত দেশ- এমন চলতি কর্মসূচি কতটা সফল হবে? তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন ওঠেছে। যদিও চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা মানুষের সচেতনতার অভাব। সচেতনতা না বড়লে ২০৩০ সাল নাগাদ নির্ধারণ করা যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।

 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, ২০২২ সালে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৮৯ জনের যক্ষ্মা পরীক্ষা করা হয়। যাতে যক্ষ্মা শনাক্ত হয় ১৯ হাজার ৪১৭ জন। শিশু রোগী ৭৮৯ জন। চিকিৎসা গ্রহণ করে ৯৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছেন। আর ২০২১ সালে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৮৯ জনের পরীক্ষায় ১৫ হাজার ৯৯১ জনের যক্ষ্মা ধরা পড়ে। এদের মধ্যে শিশু ছিল ৬৬৬ জন। যদিও ওই বছরে চিকিৎসায় সাফল্যের হার ছিল ৯৭ শতাংশ। তবে মৃত্যুর সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে ৪৯ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে।

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চিকিৎসকদের মতামত :

নিরাময়যোগ্য রোগ হলেও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার বিষয়ে মানুষের সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এছাড়াও নিয়মিত ওষুধ সেবন না করা, রোগ শনাক্ত না হওয়া, অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত থাকা, রোগের তথ্য গোপন করা, ড্রাগ রেজিস্ট্রেন্সসহ নানা কারণেই মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে আগের চেয়ে পরীক্ষার সংখ্যা বেড়েছে। যার কারণে শনাক্তের সংখ্যাও বেশি। যদিও মৃত্যুর সংখ্যাটা বাড়তির দিকে। তবে এ জন্য মানুষের অবহেলাই সবচেয়ে বেশি দায়ী। কেননা অনেকেই দীর্ঘদিন কাশিতে আক্রান্ত হলেও সাধারণ কাশি মনে করে চিকিৎসকের কাছে যান না। অথচ যক্ষ্মা চিকিৎসায় দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রচার প্রচারণা সত্ত্বেও মানুষের মাঝে পর্যাপ্ত সচেতনতা আসেনি। তাছাড়াও আক্রান্তদের অনেকে ওষুধের ডোজ পুরোপুরি শেষ করছেন না। যা আরও বড় সমস্যার জন্ম দিচ্ছে।

 

জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে এ রোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক বক্ষ্যব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, যক্ষ্মা রোগ একটি কমিউনিকেবল ডিজিজ। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি চিকিৎসা গ্রহণ না করে, তাহলে তার দ্বারা আরও দশজন মানুষ আক্রান্ত হবার আশঙ্কা থাকে। অনেকেই আবার রোগের তথ্যও গোপন করে থাকেন। বেশিরভাগ রোগী আছে, যাদের কাশি হলে পাড়া মহল্লার ফার্মেসিতে গিয়ে এন্টিবায়েটিক বা অন্যান্য ওষুধ গ্রহণ করে থাকেন। আবার দু-তিন ডোজ ওষুধ খেলে কাশি ভালো হয়ে যায়, যার কারণে ওষুধও আর নিয়মিত খান না। যা পরবর্তীতে তীব্র সমস্যা পোহাতে হয়। এছাড়াও সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না হওয়াটাও এ জন্য বড় দায়। তাই এসব বিষয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে। সন্দেহ হলেই অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত রোগ। প্রাথমিক লক্ষণ কাশি ও জ্বর। ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়ায় খাওয়ার রুচি থাকে না। মানুষের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। কফ পরীক্ষার মাধ্যমেই এ রোগ নির্ণয় করা সম্ভব।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট