চট্টগ্রাম রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামের অবদান অনস্বীকার্য : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ মার্চ, ২০২৪ | ৯:১৭ অপরাহ্ণ

সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ছয় দফা আন্দোলনের সূচনা চট্টগ্রাম থেকেই হয়েছে। চট্টগ্রাম বেতার থেকে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতার স্বাধীনতা ঘোষণা প্রচার করা হয়। অপারেশন জ্যাকপট চট্টগ্রাম বন্দরে হয়েছে। এছাড়াও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনেও চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বলা যায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামের অবদান অনস্বীকার্য।

 

আজ শনিবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১২টায় নগরীর পাহাড়তলীর উত্তর কাট্টলিতে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ ও ‘বিজয় নিশান’ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

শুরুতে ফিতা কেটে ও পুস্পস্তবক দিয়ে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন শেষে মুনাজাত করেন মন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

 

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া প্রায় ২৯ বছর ক্ষমতায় ছিল। আর স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনা মিলে প্রায় সাড়ে ২৩ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে। আপনারা তুলনা করলে বুঝতে পারবেন কোন দল দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছে। স্বাধীনতার অপশক্তিরা পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে পারেনি। তারা এখনো বাংলাদেশে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এই জায়গাটাও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন স্বাধীনতা বিরোধী বংশধরদের কাছ থেকে উদ্ধার করে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, যারা বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে না, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে না তাদের প্রতি আমার ঘৃণা জন্মে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শুধু নিজে ধারণ না করে পরিবারের সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারে সেজন্য মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

 

অনুষ্ঠান শেষে তিনি ‘বিজয় নিশান’ স্মরণিকার মোড়ক উম্মোচন করেন। এ বইয়ে ১৪ অধ্যায় ও ৩৮১ পৃষ্ঠা সংবলিত অপারেশন জ্যাকপট, বধ্যভূমি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ভাবনা ও বঙ্গবন্ধু চর্চা, চট্টগ্রাম আশ্রয়ণ ও বীরমুক্তিযোদ্ধাদের নিবাসের কথা উল্লেখ রয়েছে।

 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল-মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু, চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম আল মামুন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আ.স.ম মাহতাব উদ্দিন, জেলা পুলিশ সুপার এস. এম. শফিউল্লাহ, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সরোয়ার কামাল।

 

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগরীর থানা ও উপজেলা সংসদের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, গত বছরের ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের সময় সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী উত্তর কাট্টলীতে ৩০ একর জায়গায় নতুন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও যাদুঘর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে এটির নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামের অনন্য অবদান রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে এখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষনা দেয়া হয়। এখানে ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান ও বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাসহ অনেক কিছু চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এখানে নৌ-কমান্ডোরা কাজ করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, চট্টগ্রামে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ, স্মৃতিস্তম্ভ ও মুক্তিযুদ্ধের যাদুঘর নেই। এখানে অস্থায়ীভাবে হলেও একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ হবে-এটা চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল। সে জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে আমরা এখানে অস্থায়ীভাবে হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি স্মৃতিস্তম্ভ করেছি। জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে কম সময়ের মধ্যে অর্থ্যাৎ ২৩ মার্চের আগে এটির কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। আগামী ২৬ মার্চ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করতে পারব।

 

বধ্যভূমি সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে যে সকল বধ্যভূমি রয়েছে। সেগুলো সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। পাহাড়তলীর খুলশীতে যে সকল বধ্যভূমি রয়েছে সেগুলো সংরক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মামলাজনিত কারণে এ কাজটি শেষ করতে পারেনি। এখন মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, কিছুদিনের মধ্যে চট্টগ্রামের বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণের কাজ শুরু হবে।

 

পূর্বকোণ/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট