চট্টগ্রাম রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

৬০% বেড়েছে শিশু কিডনি রোগী

ইমাম হোসাইন রাজু

১৪ মার্চ, ২০২৪ | ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

২০২১ সালে কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ৩০৩ জন শিশু চিকিৎসা নেয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু কিডনি রোগ বিভাগে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- মাত্র দু’বছরের ব্যবধানে ওয়ার্ডটি রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬০ শতাংশ। বিদায়ী ২০২৩ সালে এসে একই সমস্যা নিয়ে ওয়ার্ডটিতে চিকিৎসা নেয় ৪৮৩ জন শিশু।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- বড়দের পাশাপাশি দিনদিন চট্টগ্রামে শিশুদেরও কিডনি জটিলতায় ভোগার সংখ্যা বাড়ছে। নীরবে এ শিশুদের মধ্যে কিডনি জটিলতা বাড়তে থাকলেও তা নজরের বাইরে রয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রামে এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের সেবাদানের সুযোগ-সুবিধাও খুবই অপ্রতুল। একমাত্র চমেক হাসপাতালের ১৫ শয্যার শিশু কিডনি ওয়ার্ডের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে পুরো বিভাগের শিশু কিডনি রোগীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিশুদের মধ্যে কিডনি জটিলতা বাড়তে থাকায় ২০১৪ সালের শুরুতে মাত্র ১১ শয্যা নিয়ে চমেক হাসপাতালে যাত্রা শুরু করে শিশু কিডনি রোগ বিভাগ। রোগী বাড়তে থাকায় পৃথক এ ওয়ার্ডে শয্যার সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ১৫টিতে। কিন্তু বর্তমানে ১৫ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে রোগী ভর্তি থাকে ২০ জনের অধিক।

 

চমেক হাসপাতালের শিশু কিডনি রোগ বিভাগের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মারুফ উল কাদের বলেন, ‘পূর্বের চেয়ে বড়দের মতো শিশু কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যা সত্যিকার অর্থেই উদ্বেগজনক। হাসপাতালে যে পরিমাণ শয্যা, তারচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় যদি রোগ শনাক্ত করা যায় এবং সঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে শিশুদের কিডনি রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব। এক্ষেত্রে অভিভাবকসহ সকলকে সচেতন হতে হবে।’

 

শিশুদের কিডনি রোগের লক্ষণ : জন্মগত ত্রুটি হিসেবে শিশুদের প্রস্রাব ইনফেকশন হয়। তার থেকে কিডনি রোগের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়াও ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, শরীরে পানি আসা/ফুলে যাওয়া, উচ্চরক্তচাপ দেখা দেওয়া, কিডনিতে জম্মগত ত্রুটি থাকা, খাবারে অনীহা, দীর্ঘসময় জ্বরে ভোগা শিশুদের কিডনি আক্রান্ত হবার অন্যতম কারণ।

শিশু কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মারুফ উল কাদের বলেন, সঠিক সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা শুরু করা না হলে নীরবে শিশুদের কিডনি ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে পড়ে। তাই আলোচ্য লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।

 

বড়দের ৩০ শয্যার ওয়ার্ডে রোগী থাকে তিনগুণ : ৩০ শয্যা নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থিত নেফ্রোলজি বা কিডনি রোগ বিভাগ। কিন্তু বর্তমানে গড়ে ৬০ থেকে ৯০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকে ওয়ার্ডটিতে। চিকিৎসকরা জানান, কোন কোন সময় এ সংখ্যা একশ’ ছাড়ায়। শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় একপ্রকার বাধ্য হয়ে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে অনেককেই।

 

বিশ্ব কিডনি দিবসে চট্টগ্রামে আজকের কর্মসূচি : বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্যোগে কিডনি দিবসের র‌্যালি, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এছাড়া কিডনি ফাউন্ডেশন, কিডনি রোগী কল্যাণ সংস্থার এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যেগে আলোচনা সভাসহ নানান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট