চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

এক বছরে দাম বেড়েছে ৫১%

আরাফাত বিন হাসান

১২ মার্চ, ২০২৪ | ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

করোনার ধকল কাটিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে ২০২৩ সালের দিকে। সে বছর রমজানে ছোলা, খেসারি, খেজুর, বোতলজাত সয়াবিন তেল, চিনি, মটর ডাল ও পেঁয়াজ- এই সাত পণ্যের যে গড় মূল্য ছিল, এক বছরের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে গড়ে ৫১ শতাংশেরও বেশি। রমজানপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী এই প্রবণতার মধ্য দিয়েই আজ থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান।

 

ভোগ্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নানা উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তৎপরতার মধ্যেও লাগাম টানা যাচ্ছে না দ্রবমূল্যের। পাইকারি ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা রমজানপণ্যের পর্যাপ্ত আমদানি ও সরবরাহের কথা বললেও এর ইতিবাচক প্রভাব নেই খুচরা বাজারে। গতকাল রবিবার দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার খাতুনগঞ্জসহ বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

 

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সয়াবিন তেল ছাড়া গেলো এক বছরে রমজানে চাহিদা বাড়ে এমন সব পণ্যের দাম বেড়েছে। এই সময়ে ১৫-২৫ টাকা বেড়েছে ছোলার দাম। গতবছর ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে ছোলা বিক্রি হলেও

 

এবার ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি। একইসময়ে চিনির দাম বেড়েছে কেজিতে ২৫ টাকা।

 

এবার বাজারে ১৪০ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি হলেও এক বছর আগে ১১৫ টাকা ছিল পণ্যটির দাম। বাজারে মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে, এক বছর আগেও যা বিক্রি হয়েছিল ৭৫ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ বছর ঘুরতেই ৫ টাকা বেড়েছে এই ডালের দাম। এছাড়াও দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে খেজুরের দাম। গত রমজানে প্রতিকেজি সাধারণ মানের খেজুর দুই থেকে আড়াইশ টাকায় বিক্রি হলেও এবার শুক্ল বৃদ্ধিসহ নানা অজুহাতে সাড়ে তিনশ থেকে চারশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সেসব খেজুর।

 

এক বছরের ব্যবধানে প্রায় তিনগুণ বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। গত রমজানের আগে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা বিক্রি হলেও এবার সেঞ্চুরি পার করেছে পেঁয়াজ। নগরীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১১০-১৩০ টাকা। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম সয়াবিন তেল। গেলো বছর করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আকাশচুম্বী ছিল সয়াবিন তেলের দাম। তবে এবার তুলনামূলকভাবে দাম কিছুটা কমলেও বাড়তিই থাকছে পণ্যটির দাম। এরমধ্যে রমজানে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে রাখতে ১০ টাকা কমিয়ে পণ্যটির নতুন দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

 

মার্চের প্রথম দিন থেকে কার্যকরের কথা নতুন দাম। নতুন দাম অনুযায়ী খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৬৩ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেল ১৪৯ টাকা বিক্রি হওয়ার কথা। তবে সরকারি ঘোষণার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও বন্দরনগরীর একাধিক বাজার ঘুরে এখনও আগের দামেই বিক্রি করতে দেখা গেছে এই অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্যটি। নগরে বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৫ থেকে ১৭৩ টাকা লিটার দরে এবং খোলা তেল ১৫৩ থেকে ১৫৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

বাজারে রমজানপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে জানিয়ে চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, এবার প্রচুর আমদানি হয়েছে। বাজারে রমজানপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। খেসারির দাম একটু উপরের দিকে। তবে রমজান মাসজুড়েই বাজার স্বাভাবিক থাকবে। বাজারে কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

 

নগরে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম খুচরা ও পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ছালামত আলী বলেন, পর্যাপ্ত পণ্য বাজারে আছে। তবে হ্যাঁ, কাঁচাবাজারে একটু সমস্যা হচ্ছে। কিছু কিছু ব্যবসায়ী কাঁচাপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু মুদিপণ্যে কোন সমস্যা নেই, দাম বৃদ্ধির কোন সম্ভাবনাও নেই। কারণ সরবরাহ স্বাভাবিক।

 

রমজানে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, সরকারের বিভিন্ন লোকজন বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে নানা হুমকি-ধমকি দেন। কিন্তু কাজের বেলায় তারা শূন্য। তারা আসলে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করাতেই সীমাবদ্ধ, কাজের বেলায় কিছু করে না। তাই ব্যবসায়ীরা আশকারা পায়, ইচ্ছেমতো দাম বৃদ্ধি করে। সরকার যা বলে, তা যদি করে দেখায় তাহলে ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফা লাভের চেষ্টা করবে না।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট