চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

জমেছে ঈদের আগাম কেনাকাটা

মরিয়ম জাহান মুন্নী

২ মার্চ, ২০২৪ | ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নেট কাপড়ের উপর জরি সুতোর কাজ। তারমধ্যে পাথর বসানো। দোকানি এর নাম দিয়েছেন পাকিস্তানি ‘খুবসুরাত’।

এবার ঈদের বাজারে সাড়া জাগানো এই কাপড় মেয়ে পারুল আক্তারের জন্য নিতে টেরিবাজারের রিস্তা ফ্যাশনে দর কষাকষি করছিলেন মা বিবি কুলছুম। তবে বিক্রয়কর্মীর এককথা- প্রতিগজ কাপড়ের জন্য গুণতে হবে ১৫শ টাকা। শেষ পর্যন্ত গজপ্রতি এক হাজার টাকায় তিন গজ কাপড় কিনেন পারুল ও কুলছুম।
রিস্তা ফ্যাশনের পাশের দোকানটিও থান কাপড়ের। সেখানেও বেশ ভিড় নারী ক্রেতাদের। ওই দোকানে ক্রেতাদেরকে পছন্দের কাপড় বের করে দেখাচ্ছেন বিক্রয়কর্মী সোহেল। দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না তার সঙ্গী ইলিয়াসও। ক্রেতারা পছন্দ হলে কিনে নিচ্ছেন থান কাপড় বা কাটা থ্রি-পিস। দামে না মিললে কেউ কেউ চলে যাচ্ছেন অন্য দোকানে।

 

পবিত্র রমজানের আগেই থান কাপড় ও থ্রি-পিসের দোকানে জমজমাট বিকিকিনির এমন দৃশ্য কেবল টেরিবাজরের নয়, নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, চকবাজার, সেন্ট্রাল প্লাজা, শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন মার্কেটেরই চিত্র এটি। সেলাইয়ে সময় লাগে বলে আগেভাগেই এসব কাপড় কিনতে দোকানে দোকানে ভিড় করছেন নারীরা। তবে গতবছরের তুলনায় এবার দাম বেশি বলেই অভিযোগ তাদের। অন্যদিকে, বিক্রেতারা বলছেন- দেশে ডলারের রেকর্ড দামের কারণে ভারত-পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আনা কাপড়ের দাম কিছুটা বাড়তি। এছাড়া সুতা ও কাপড়ের রংয়ের মূল্য বৃদ্ধি এবং শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচের মতো উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এ কারণে গতবারের তুলনায় বেশিতে বিক্রি করতে হচ্ছে দেশীয় পোশাকও।

 

সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, থান কাপড়, আনস্ট্রিচ থ্রি-পিস, ফোর-পিস, ছেলেদের পাজামা-পাঞ্জাবি ও শার্ট-প্যান্টের গজ কাপড় বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বিক্রেতারাও ক্রেতার হাতে পছন্দের কাপড়টি তুলে দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে নারী ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি পাকিস্তানি ও ভারতীয় সুতি কাপড়ে।
ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও এবার বিক্রি কম- এমন মন্তব্য করে দোকানিরা বলছেন, করোনার পর ভোগ্যপণ্যের মূল্যের চাপে এমনিতেই সাধারণ মানুষের খেয়েপরে বাঁচা দায়। এমতাবস্থায় পোশাক কেনায় মানুষের আগ্রহ কম থাকায় এবার ঈদ বাজারের আমেজ আশা করছেন না কাপড়ের ব্যবসায়ীরা।

 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রামের সভাপতি সালেহ আহমেদ সোলেমান বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি থাকলেও দেশের আর্থিক অবস্থা এখন খুব একটা ভালো না। ভোগ্যপণ্যের দামও বেশি। যে কারণে সাধারণ মানুষও আর্থিক সংকটে রয়েছে। সবমিলিয়ে খুব একটা আশাবাদী নই। বাকিটা সময়ের হাতে।

 

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, করোনার আগে শবে বরাতের সময় যেভাবে ঈদের বেচাকেনা শুরু হতো, করোনার পর কোন ঈদেই সেই চিত্র দেখা যায়নি বললেই চলে। তবে এখন ঈদকে কেন্দ্র করে কিছুটা জমে উঠেছে বেচাকেনা। আমরা আশা করছি ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে ক্রেতারা মার্কেটমুখী হবেন।

 

ঈদকে সামনে রেখে হাল ফ্যাশনের নতুন কাপড় আনা হয়েছে জানিয়ে টেরিবাজার রাজস্থান শপিং সেন্টারের কর্মচারী মো. রহিম বলেন, রাজস্থানে অত্যাধুনিক সেলাইবিহীন থ্রি-পিস, ফোর-পিসের কালেকশন রয়েছে। এসব পোশাক পাইকারি দামে বিক্রি হচ্ছে। এখন মোটামুটি বেচাকেনা শুরু হয়েছে। যারা সেলাই কাপড় পরতে পছন্দ করে তারা শবে বরাতের পর থেকেই শপিং শুরু করেছে।

 

রিয়াজউদ্দিন বাজারের কাদেরিয়া বেনারশি ভাণ্ডারের মহিউদ্দিন বলেন, বেচাকেনা শুরু হয়েছে এক ফেব্রুয়ারি থেকে। আমাদের সেলাইবিহীন থ্রি-পিস, ফোর-পিসের চাহিদা বেশি। রিয়াজউদ্দিন বাজারে অন্যান্য মার্কেটের চেয়ে দামে সস্তা পাওয়া যায় দেখে ক্রেতারা এখন এ বাজারে বেশি কেনাকাটা করছে বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া যেহেতু এখন অনলাইনে সব পাওয়া যায়, সেটি মাথায় রেখে আমরা দামের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখছি। আশা করছি করোনার ধাক্কা এবার কিছুটা সামাল দিয়ে উঠতে পারবো।

 

চকবাজার মতি টাওয়ারের এনা ফেব্রিকের মালিক বলেন, কাপড়ের দাম বেশি দেখে আমাদেরও সমস্যা হচ্ছে। কারণ ক্রেতারা এখন বেশি দামে কাপড় কিনতে চায় না। কিন্তু ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের সবরকমের কাপড় তুলতে হয়েছে। তবে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি অল্প দামের সুতার কাপড়ের উপর। এছাড়া বাইরের সুতার কাপড়গুলো বিক্রি হচ্ছে।

 

সেন্ট্রাল প্লাজা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, এ মার্কেটটি সারাবছরই জমজমাট থাকে। সে হিসেবে ঈদকে কেন্দ্র করে খুব যে বেশি জমে উঠেছে- এটা বলা যাবে না। তবে আগের চেয়ে থান কাপড়ের বেচাবিক্রি বেড়েছে। এখন বিশেষ করে শিশুদের কাপড়, গাউন এবং রেডিমেড কাপড়গুলো বিক্রি হচ্ছে না।

 

স্কুলশিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার শপিং করতে আসেন রিয়াজউদ্দিন বাজারে। তিনি বলেন, কয়েকদিন পর জামা সেলাই আর নিবে না। তাই আমার দুই মেয়ে ও আমার জন্য থান কাপড় কিনতে এসেছি। এছাড়া রোজা রেখে স্কুল করে মার্কেটে আসতে ভালো লাগে না। তাই ঝামেলা না পোহাতে এখনই কাপড় কিনে ফেলছি। শুধু আমাদের জন্যই নয়, আমার শ্বশুর, হাজবেন্ডের জন্যও পাঞ্জাবি ও শার্টের কাপড় কিনেছি। তবে সব কাপড়ের দাম খুব বেশি বলে অভিযোগ করেন তিনিও।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট