চট্টগ্রাম সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪

৫ বছরে প্রাইভেট কার আমদানি কমেছে ৬০%

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ | ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

করোনা মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, দেশে ডলার সংকট ইত্যাদি কারণে দেশে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি ক্রমান্বয়ে তলানির দিকে যাচ্ছে। শুধু গত পাঁচ বছরেই চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে রিকন্ডিশন কার আমদানি কমেছে ৬০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

 

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ৫ বছর আগে ২০১৯ সালে সব ধরনের কার আমদানি হয়েছিল ৬১ হাজার ৪৬৭টি। অথচ ২০২৩ সালে সব ধরনের কার আমদানি হয়েছে ২৪ হাজার ১৫০টি। যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৩৭ হাজার ৩১৭টি কম। এই ৬০ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চায় রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানিকারকেরা। তাই গাড়ি আমদানির অবচয় খরচ বর্তমান ৩৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিকেলস ইম্পোর্টার্স এন্ড ডিলার্স এসোসিয়েশন (বারবিডা)। সংগঠনটির সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন বলেছেন, ডলার সংকটের কারণে দুই বছরে রিকন্ডিশন গাড়ির দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। ফলে ফিকে হচ্ছে অনেক মধ্যবিত্তের গাড়ির স্বপ্ন। তাই গাড়ি আমদানিতে অবচয় সুবিধা ৫০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছি আমরা।

 

এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০২৩ সালে সব ধরনের কার আমদানি হয়েছে ২৪ হাজার ১৫০টি। যা ২০২২ সালে ছিল ৩০ হাজার ৮৮০টি। অর্থাৎ ২০২৩ সালে ২০২২ সালের তুলনায় গাড়ি আমদানি কম হয়েছে ৬ হাজার ৭৩০টি বা ২১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের তথ্যমতে, ২০২০ সালে ২৮ হাজার ৬৯৭টি গাড়ি আমদানি হয়। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলে ২০২১ সালে ২০২০ সালের তুলনায় ৪৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে গাড়ি আমদানি হয় ৫৫ হাজার ১৫১টি। পরবর্তীতে ২০২২ সালে আবার গাড়ির আমদানি কমে যায়। ওই বছর আমদানি হয় ৩০ হাজার ৮৮০টি গাড়ি। ২০২৩ সালে গাড়ি আমদানি আরও কমে যায়।

 

গাড়ি আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ব্যাংকে শতভাগ এলসি মার্জিনে গাড়ি আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাংক এলসি দিতে পারছে না। এই সংকটের কারণে ছোট পরিসরে তারা এ ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়ছেন।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস জানায়, ২০২২ সালের নভেম্বরে কয়েকটি গাড়ি আমদানিকারক এলসি ছাড়াই ৬৫০ রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি করেন। এলসি ছাড়া আমদানি করায় পরবর্তীতে জরিমানা দিয়ে এসব গাড়ি ছাড় দেয় চট্টগ্রাম ও মোংলা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে ২০২৩ সালে কাস্টমসের কড়াকড়ির কারণে এলসি ছাড়া গাড়ি আমদানির ঘটনা ঘটেনি।

 

গাড়ি ব্যবসায়ীরা আরও জানান, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি কমলেও অনেক ব্যবসায়ী মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি করছেন। কারণ মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি ডেলিভারির ক্ষেত্রে বন্দর চার্জ কিছু কম। ফলে ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ডেলিভারি না করিয়ে মোংলা বন্দর দিয়ে করিয়েছেন।

 

বারভিডা তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের ৬০ শতাংশ গাড়ি আমদানি করা হয় মোংলা বন্দর দিয়ে। বাকি ৪০ শতাংশ হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে।

 

বাংলাদেশে আমদানি হওয়া গাড়ির প্রায় ৭৫ শতাংশ রিকন্ডিশনড বা পুরাতন গাড়ি। ১ থেকে ৫ বছরের পুরোনো এসব গাড়ি আমদানি খাতে কাস্টমসের শুল্ক বাবদ আয় হয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। আমদানির বাকি ২৫ শতাংশ গাড়িগুলো ‘ব্র্যান্ড নিউ’।

 

এক গাড়ি আমদানিকারক জানান, গাড়ি রাখার ভাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে মোংলা বন্দরে কম। বন্দরে গাড়ি আসার পর তিন দিন বিনা ভাড়ায় গাড়ি রাখার সুযোগ রয়েছে। চতুর্থ দিন থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন গাড়ি রাখার ভাড়া ৯০৫ টাকা। মোংলা বন্দরে এই ভাড়া ৩৬০ টাকা। ১৫ দিন পর এই ভাড়া আরও বাড়তে থাকে।

 

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ হাজার গাড়ি রাখার শেড রয়েছে। এছাড়া মাল্টিপল শেডেও ৩০০-৪০০ গাড়ি রাখা যায়। সব মিলিয়ে গাড়ি আমদানিকারকদের জন্য সব সুবিধা রাখা আছে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট