চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪

মৌলিক সমস্যা সমাধান না করে সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যর্থ চেষ্টা চলছে

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ | ১:১৮ অপরাহ্ণ

প্রাচ্যের রানি চট্টগ্রাম নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন নিয়ে এখানকার পত্রিকাগুলোতে প্রায়সময়ই প্রতিবেদন লিখা হয়। সবগুলো পত্রিকারই উল্লেখযোগ্য বিষয় এটি। আমরাও লিখি। আমাদের কথা কখনও কখনও শোনা হয়, আবার কখনও কখনও শোনা হয় না। আমরা সবসময়ই জনগণের কথাই বলি, প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও নিজেদের মতো করে তাদের কাজগুলো করে যায়। নগরীতে সৌন্দর্য বর্ধনে অনেক কাজই করা হয়। এর মাঝে সবগুলো হয়তো ইতিবাচক না। তবে সৌন্দর্য বর্ধনের সবগুলো কাজ নেতিবাচক, এমনটাও বলার সুযোগ নেই। এসব বিষয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক আলোচনা হয়। সবাই নিজেদের কথাগুলো বলেন। আমরা পূর্বকোণের পক্ষ থেকে সবাইকে মতামত প্রকাশের একটা সুযোগ করে দেই। এর মাধ্যমে আমরা যেমন জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে চাই, তেমনি আবার সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণও আমাদের উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্যে আমরা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেদন করেছি এবং অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্দেশ্য সফলও হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সার্কিট হাউসের সামনে শিশুপার্ক না করে ওপেন স্পেস রাখার জন্য আমরা আন্তরিক চেষ্টা করেছিলাম। তা সত্ত্বেও এটাকে শিশুপার্ক করার জন্য রিনিউ করা হয়েছিল। তবে এখন আবার আমরা দেখছি কর্তৃপক্ষ সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে। আমরা তাদের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। কারণ পুরোটা চট্টগ্রাম যদি স্ট্রাকচারে একমোডেট করে একরকম গিজগিজে অবস্থা তৈরি করা হয়, তাহলে সৌন্দর্য বর্ধন তো হবেই না, বরং সৌন্দর্য আরও কমে যাবে। আরেকটা বিষয় আমাদেরকে বুঝতে হবে, সৌন্দর্য বর্ধন আসলে তখনই হবে যখন সৌন্দর্য থাকবে। সৌন্দর্য থাকলেই তো সেটাকে আরও এক্সিলারেট করা যাবে এবং আরও এনহ্যান্স করা যাবে। তখনই মূলত সৌন্দর্য বর্ধন হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের চট্টগ্রাম শহরে তেমনটা হচ্ছে না। আমাদের এই চট্টগ্রাম নগরীর মৌলিক বিষয়গুলোতেই সমস্যা আছে। সেগুলো ঠিক না করেই এখানে সৌন্দর্য বর্ধনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এজন্য প্রথমে রুটিন ওয়ার্কগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করা দরকার।যেমন ধরুন, ড্রেনের যে কভার দেয়া হয়, সেটার ক্ষেত্রে প্রথমেই যে বিষয়টা লক্ষ্য রাখতে হবে তা হলো, এর দ্বারা যেন কোনরকম ক্ষয়ক্ষতি না হয় বা দুর্ঘটনার কোন সম্ভাবনা না থাকে। এটাকে পুরোপুরি রিস্ক ফ্রি করার পরে কিংবা প্রাথমিক কাজগুলো সম্পন্ন করার পরই আমরা তার উপর বেসিস করে সৌন্দর্য বর্ধন করতে পারবো। আমরা রিকোয়ারমেন্ট ফুলফিল না করে সৌন্দর্য বর্ধন কীভাবে করবো? ড্রেনের কভারের বিষয়টা তো ঐচ্ছিক না। এটা হচ্ছে রিকোয়ারমেন্ট। দিস ইজ এবসলিউট রিকয়ারমেন্ট অফ দ্য সিটি।

এছাড়াও এমন আরও অনেক কিছুই আছে যেগুলো চোখ খুললেই আমাদের নজরে পড়ে এবং আমরা বুঝতে পারি যে, অনেক বেসিক বিষয় আছে যেগুলোতে আমাদের এখনও উন্নতি করার দরকার আছে। এগুলো ঠিক করে তবেই সৌন্দর্য বর্ধন করা উচিত। এজন্য আমাদেরকে প্রথমেই সৌন্দর্যের মাপকাঠি ঠিক করতে হবে। এছাড়া যারা সৌন্দর্য বোঝে, এমন প্রফেশনাল লোকদেরকে এ কাজগুলোতে ইনভলভ করা জরুরি বলে আমরা মনে করি।

চট্টগ্রাম নগরী কিন্তু খুব বেশি বড় নয়, ছোট্ট একটা শহর চট্টগ্রাম। এরপরও আমরা এখনও শহরটাকে সাজাতে পারিনি। অথচ ঢাকা শহরের কিছু জায়গা দেখলে চেনাও যায় না, সেখানে এ ধরনের ডেভেলপমেন্ট হয়েছে। তাহলে আমরা কেন পারবো না? আমরাও অবশ্যই পারবো। আমাদের সবকিছুই আছে। এখন শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংস্থাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এ ব্যাপারে। এরপরই আমরা আক্ষরিক অর্থে নগরীতে সৌন্দর্য বর্ধন করতে পারবো।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট