চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

নেপথ্যে শক্তি জোগায় কারা?

মোহাম্মদ আলী

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ | ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ

নগর পিতা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়রের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ধীরে ধীরে আবারও সড়ক দখল করে পণ্য নিয়ে বসে যাচ্ছে উচ্ছেদকৃত হকারেরা। এসব হকারেরা কাউকে মানছে না। পুলিশ প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা আবারও ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে সড়কে বসে গেছে। গতকাল (মঙ্গলবার) নগরীর নিউমার্কেট মোড়, আমতল, স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতা নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর নিউমার্কেট মোড়, আমতল, স্টেশন রোড, জিপিও অফিসের সামনেসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। অভিযানের পর সড়কের চিত্র পাল্টে যায়। ভাসমান দোকান, ঝুপড়ি, চৌকি ও ভ্যানগাড়ি উচ্ছেদ করায় সড়কগুলো আগের চেয়ে প্রশস্ত হয়ে যায়। পথচারীরা নির্বিঘ্নে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যেতে পারছে এবং সড়কেও যানজট কমে যায়। অথচ অভিযানের আগে বিআরটিসি মোড়, পুরাতন রেল স্টেশন, নিউ মার্কেট মোড়, আমতল, জিপিওর সামনের সড়ক ও কোতোয়ালী মোড়সহ পুরো এলাকার ফুটপাত হকারদের দখলে থাকতো। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কের অংশ বিশেষও চলে যেত হকারদের দখলে। এসব হকারদের ইতিপূর্বে বহুবার উচ্ছেদ করা হলেও কয়েকদিন না যেতেই ওরা আবার বসে যেত সড়কে। তাতে সড়কে যানজট লেগেই থাকতো। বছরের পর বছর ধরে নগরীর নিউমার্কেট মোড়, আমতল, স্টেশন রোডসহ নগরীর বিভিন্ন সড়কে এ চিত্র চলে আসলেও থামানো যায়নি হকারদের। এ অবস্থায় এসব ফুটপাত উদ্ধার করে পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্নে করতে গত ৩০ জানুয়ারি সিটি করপোরেশনের মাসিক সভায় ব্যাপক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী। তার এই ঘোষণার ৮ দিন পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি ব্যাপক অভিযান চালিয়ে পুরাতন রেল স্টেশন থেকে শুরু করে নিউমার্কেট মোড়, আমতল ও জিপিও এলাকার ফুটপাত থেকে প্রায় এক হাজার হকারকে উচ্ছেদ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে নগরবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা পোস্ট আর কমেন্টে মেয়রের সাহসী কাজের প্রশংসা করে যে কোন মূল্যে নিউ মার্কেট এলাকাকে হকারমুক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু এখন হকারেরা উঠেপড়ে লেগেছে ফুটপাত দখল করে বসে যেতে। এরমধ্যে কিছু কিছু এলাকা দখল করে বসতে শুরু করেছে হকাররা। তাই এখন নগরবাসীর একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে এসব হকারদের নেপথ্যে শক্তি জোগায় কারা? তাদের এখন মুখোশ উন্মোচনের সময় এসেছে। না হয় নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অতীতে নগরীর জহুর হকার মার্কেট, সিডিএ হকার মার্কেট, ছিন্নমূল মার্কেট, রেয়াজ উদ্দিন বাজার নালার উপর মার্কেটসহ নগরীর বিভিন্ন জায়গায় হকারদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও হকারের সংখ্যা কমেনি। উল্টো নগরীর নিউমার্কেট মোড়, আমতল, স্টেশন রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছাপিয়ে পুরো নগরীতে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে হকারদের দিয়ে নেপথ্যে ব্যবসা করতে নেমেছে সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট। তাতে নগরীর ফুটপাত দখলসহ যানজট বেড়েছে সীমাহীন। এ নিয়ে নাগরিকরা সোচ্চার হলেও কার্যত কোন কাজ হয়নি। এ অবস্থায় ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর উদ্যোগের ফলে আশাবাদী হয়েছে নাগরিক সমাজ। তারা চায় যে কোনো মূল্যে উচ্ছেদের সুফল অব্যাহত থাকুক। তাতে স্বস্তি মিলবে নগরবাসীর।

 

এ দিকে ফুটপাত উচ্ছেদ প্রসঙ্গে রেয়াজ উদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সেক্রেটারি আহমদ কবির দুলাল দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বছরের পর বছর ধরে তারা ফুটপাত এবং সড়ক অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। তাতে যানজটসহ জনদুর্ভোগ লেগেই আছে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করায় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও সিএমপি কমিশনারকে ধন্যবাদ জানাই।’

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট