চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪

চট্টগ্রামে সাংস্কৃতিক বন্ধ্যাত্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে

রবউিল আলম

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ | ১২:১৭ অপরাহ্ণ

নাটক নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করে আসছি। পূর্বকোণেও বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। নাটক আমরা শুরু করেছিলাম মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বা জিয়া হায়দারের পরপর। তাদেরকে দেখে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম তা ঠিক নয়। আমার নিজের ভেতরে যে আগ্রহ উচ্ছ্বাসগুলো ছিল সেটার জন্যে আমি নাটক লেখালেখি করতাম। ছাত্রজীবন থেকেই আমি ছোটগল্প লিখতাম এবং ঢাকার পত্রপত্রিকায় ছাপাও হত।

 

চট্টগ্রামে এসে অফিসপাড়া নাটক দিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। কাজ করতে করতে নাটকের প্রতি আমার আগ্রহ উদ্দীপনা বেড়ে গেল। গল্প বাদ দিয়ে আমি নিজে নাটক লেখা শুরু করলাম। চট্টগ্রামে প্রথম যখন দল থিয়েটার তৈরি হল, তাদের নাটক দেখে মনে হল এগুলোই আমাদের করা উচিত। তখন আমরা দ্বিতীয় একটা দল তৈরি করলাম তীর্যক নাট্যগোষ্ঠী। সেটি তৈরি করার সময় আমাকে লেখালেখি করতে বলা হল। ১৯৭২ সালে ‘অথচ অন্ধকার’ নামে একটা নাটকও লিখেছিলাম। পরপর ৮-৯ বছরে আমি ৭-৮টি নাটক লিখেছিলাম। তীর্যক সেগুলো মঞ্চায়ন করে। দল নাট্যকার তৈরি করছে, নাট্যকারকে সমর্থন দিচ্ছে এবং সেটি মঞ্চায়নও করছে। তখন নাটক করার আরো কয়েকটি অনুষঙ্গও ছিল। তবে অভিনেতা-অভিনেত্রীর অভাব থাকলেও সেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেইভাবে কাজ চলছিল। এসব কাজের পেছনে আমার একটা পাগলামি কাজ করত। মানসিক অন্যরকম চাহিদাও ছিল। তখন আমার মত আরো অনেকেই শুরু করেছিলেন। সবাই স্ব প্রণোদিত হয়ে কাজগুলো করত। অনেকটা নিজস্ব দায়বদ্ধতা থেকে। বর্তমানে আমাদের মত পাগলামির পরিমাণটা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। আগে নাটক করতে খুব বেশি খরচ লাগত না। চাহিদাও খুব কম ছিল।

 

চৌধুরী জহুরুল হকের একটা আক্ষেপ ছিল। অজানা কারণে এখন তার নাটক মঞ্চায়ন করা হয় না। দল নাট্যকার তৈরির প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে। যে কাজটা পরবর্তীতে দলগুলো করেনি। সাংস্কৃতিক বন্ধ্যত্ব চলছে। সারাদেশেই চলছে তবে চট্টগ্রামে এটা প্রকট আকার ধারণ করেছে। আমরা আনুষ্ঠানিকতাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। মান নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। নাটক রচনার ক্ষেত্রে নিজের ভিতর পাগলামি থাকতে হবে। এটাকে দলের সমর্থন দিতে হবে বা যারা নাটক করতে চান তাদের। এই পাগলামি হয়নি বলে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়ে গেছে। নাটকের জন্য একটা জেনারেশন শূন্য থেকে গেছে। বর্তমানে অনেকে হাল ধরার চেষ্টা করছে। বেশি দেরি হয়তো হয়নি, কিন্তু দলগুলোর বিন্দুমাত্র সেই আগ্রহ নাই। অনেকে মনে করছে কলকাতার নাটক তৈরি করতে পারলে দর্শক ফিরে আসবে। নিজেদের মান, অভিনয়ের মান সেদিকে কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। একটা সময় শিল্পীরা দল চালাত। এখন শিল্পীর বদলে সংগঠকরা দল চালাচ্ছে। সৃজনশীল শিল্পী তৈরি করতে হবে। রাষ্ট্রের কাজগুলো সংস্কৃতির স্বপক্ষে যাচ্ছে না।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট