চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪

সভাপতি-সম্পাদক হতে ­­­ চান ১৪শ ছাত্রনেতা

নগর ছাত্রলীগে ‘রেকর্ড’ প্রার্থী­­­

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ | ১:২৮ অপরাহ্ণ

প্রায় দুই দশক ধরে নগর ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ এমইএস এবং সিটি কলেজ বলয়কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। এবারও নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে এই দুটি কলেজের ছাত্রদের আধিক্য বেশি। তবে, এবার নতুন কমিটির শীর্ষ দুটি পদের একটি এই দুই কলেজের বলয়ের বাইরে যেতে পারে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর বিভাগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল সন্ধ্যায় পূর্বকোণকে বলেন, ‘গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত নেওয়া হবে। শেষদিন পর্যন্ত ১৪শ জন নেতা বায়োডাটা জমা দিয়েছেন।’

নগর ছাত্রলীগের সাবেক একাধিক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও পদপ্রত্যাশী ১০-১২ জনের সঙ্গে পূর্বকোণের কথা হয়। সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের একজন বলেন, ‘দুই দশক আগে নগরে বিএনপি-জামায়াতের সহযোগী ছাত্র সংগঠনের পেশীশক্তি বেশি ছিল। নগর ছাত্রলীগের কমিটির জন্য নেতাকর্মী তৈরি করতে আমাদের গলদঘর্ম খাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। এমনকি কমিটি থেকে নাম কাটাতে লবিং-তদবির করতো। দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় ছাত্রলীগে এখন নেতাকর্মীর ভিড় পড়েছে। রেকর্ড সংখ্যক পদপ্রত্যাশী বায়োডাটা জমা দিয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি নগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ করা হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি বায়োডাটা গ্রহণের শেষদিন ছিল। পরে সময় বাড়িয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৪শ নেতাকর্মী বায়োডাটা জমা দিলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মূল দৌড়ে রয়েছেন ১০-১২ জন। তাদের বেশিরভাগই নগরের এমইএস, সিটি ও ইসলামিয়া কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগ নেতা। এবার তিন কলেজকে ডিঙিয়ে আলোচনায় ওঠে এসেছে চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ সরকারি মহসীন কলেজ। ১৯৮২ সাল থেকে সাড়ে তিন দশক ধরে ছাত্রশিবিরের দখলে ছিল চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসীন কলেজ। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শিবিরের দখলমুক্ত করে নগর ছাত্রলীগ। এরপর থেকে ছাত্রলীগের কার্যক্রম শক্তভাবে চলে আসছে।

নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ধারায় বিভক্ত। নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক মেয়র নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনকে ঘিরে দুই বলয়ে বিভক্ত। তবে মহিউদ্দিন চৌধুরী মৃত্যুর পর মহিউদ্দিনপুত্র শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে ঘিরে মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছে মহিউদ্দিন অনুসারীরা। নগর ছাত্রলীগের রাজনীতিও এই দুই ধারায় বিভক্ত। এছাড়াও বিভিন্ন কলেজ, থানা ও ওয়ার্ডকেন্দ্রিক রয়েছে গ্রুপ-উপগ্রুপ। দলীয় কোন্দলে দীর্ঘদিন ধরে জর্জরিত নগর ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের নতুন কমিটির পদ ভাগিয়ে নিতে নওফেল ও নাছির অনুসারীদের মধ্যে স্নায়ু লড়াই চলছে। নগর যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির শীর্ষ পদ ভাগিয়ে নিয়েছেন নওফেল অনুসারীরা। ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও কী নওফেল অনুসারীরা প্রাধান্য পাবে-তা এখন বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর কার্যালয়ে রুদ্ধধার বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় ও নগর ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর। ৫ জনের রুদ্ধধার বৈঠকে নগর ছাত্রলীগের কমিটির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানায় বৈঠক সূত্র।

নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর পূর্বকোণকে জানান, ‘মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি। নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের জানিয়েছি। বায়োডাটা যাচাই-বাছাই করেই দ্রুত কমিটি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর ইমরান আহমেদ ইমুকে সভাপতি ও নুরুল আজিম রনিকে সাধারণ সম্পাদক করে নগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন নুরুল আজিম রনি। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরকে।

সভাপতি-সম্পাদক পদে আলোচিত প্রার্থীরা
নগর ছাত্রলীগের কমিটির পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রায় ১৪শ ছাত্রনেতা জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। তবে কমিটির শীর্ষ দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন ১০-১২ জন। এরমধ্যে রয়েছে এমইএস কলেজের চান্দগাঁও ছাত্রলীগের সভাপতি নুরুন্নবী সাহেদ, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম, এমইএস কলেজের রাকিব হায়দার, ইউসুফ আলী বিপ্লব, মহসীন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মায়মুন উদ্দিন মামুন, ইসলামিয়া কলেজের জিএস ইমরুল ডায়মন্ড, সাধারণ সম্পাদক মীর মো. ইমতিয়াজ, সিটি কলেজের আহ্বায়ক আশীষ সরকার নয়ন, চকবাজার থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইরাক, সহ-সভাপতি মো. হানিফ, চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগের তৌহিদুল আলম বাবু, এমইএস কলেজের মিজানুর রহমান, সিটি কলেজের আরাফাত রুবেল, পাহাড়তলী থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আকাশ, ইসলামিয়া কলেজের আরাফাত হোসাইন অনিক, এমইএস কলেজের মোশাররফ হোসেন পাভেল।

 

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট