চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

আড়াই কোটি লোক এক-দুইটা হাসপাতালের ওপর নির্ভর

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ | ১:২৭ অপরাহ্ণ

একটা পরিকল্পিত চট্টগ্রাম গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন সময় নানারকম মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়। এ বিষয়গুলো নিয়ে গত দেড়-দুই যুগ ধরে নানা ফোরামে বিভিন্নভাবে আলোচনা হচ্ছে। এরমধ্যে কয়েক দফা মাস্টারপ্ল্যান হওয়ার পরও আমরা সেই অগোছালো অবস্থায়ই আছি। এখনও আমরা আলোচনার টেবিলে শুনতে পাই চট্টগ্রাম অপরিকল্পিত। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা যখন তৈরি হয় তখন আমরা কোন বিকল্প পাই না। শুধুই আলোচনা আর সমালোচনা।

সেদিক থেকে চিন্তা করে চট্টগ্রামকে যদি একটা পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়তে হয়, তাহলে কোন কোন দিক নিয়ে কাজ করা দরকার। অবকাঠামো একটা দিক আছে। পাশাপাশি গণপরিবহন, চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিনোদন বা সাহিত্য-সংস্কৃতি, সার্বিকভাবে এগুলো নিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা করে এ বছরের থিম ঠিক করা হয়েছে ‘পরিকল্পিত চট্টগ্রাম : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’।

 

আমরা যদি চ্যালেঞ্জগুলো তুলে আনতে পারি, তাহলে আমাদের করণীয় ঠিক করা সহজ হবে। চট্টগ্রাম কতটা স্বাস্থ্যবান্ধব, এ বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ আমরা তুলে ধরব।

 

আমরা আমাদের জায়গা থেকে যেটা চিন্তা করেছি, প্রতিনিয়ত আমরা নিউজের টেবিলে যেসব বিষয় দেখতে পাই, সেই বিষয়গুলো বুলেট ফর্মে আপনাদেরকে বলি। এরপর আপনারা আপনাদের ভাবনাগুলো আমাদের কাছে বিশদভাবে তুলে ধরতে পারেন। তাহলে চট্টগ্রাম কতটা স্বাস্থ্যবান্ধব তার একটা চিত্র আমরা তুলে আনতে পারবো। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আমরা যে বিষয়গুলো শুনি, তার একটা হচ্ছে কিছু হলেই ভারতে চলে যাওয়া। আবার যাদের সামর্থ্য নেই তারা চলে যান ঢাকায়। সামান্য জ¦র-সর্দি-কাশি হলেও ঢাকা চলে যায়। চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতাল, পার্কভিউ, ইম্পেরিয়াল, অনেক হাসপাতাল এখন চট্টগ্রামে আছে। এরপরও কেন হার্টের সমস্যার জন্য আমরা চলে যেতে হয় ঢাকায় ? চট্টগ্রামেও কেন আমরা এ ধরনের আস্থা বাড়ানোর মতো হাসপাতাল পাচ্ছি না, সেবা কেন পাচ্ছি না ?

 

আবার ঢাকায় অনেক স্পেশালাইজড হাসপাতাল আছে। কিন্তু চট্টগ্রাম এত বড় শহর। ষাট লাখ লোকের বাস। অন্যভাবে বললে পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, এ পুরো এলাকা চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর। আমরা যদি অনুমান করে বলি, তাহলে দুই-আড়াই কোটি লোক এক-দুইটা হাসপাতালের ওপর নির্ভর। এর পাশাপাশি কিছু প্রাইভেট হাসপাতাল আছে।

আমরা মনে করি কিছু কথাবার্তা ছাড়া সবাই অবশ্যই চেষ্টা করছেন মানুষের আস্থার জায়গায় আসার জন্য।এরপরও কেন মানুষ ঢাকায় যাবে, কেন ইন্ডিয়ায় যাবে, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে ভালো হবে। পূর্বকোণ যদি চট্টগ্রামের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একটা ভালো কিছু উপস্থাপন করতে পারে, আশা করি আমাদের নীতিনির্ধারকেরা এখান থেকে কিছু নীতি নিতে পারবেন।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে অনেকদিন আমরা পত্রিকায় লিখেছি। আপনি দেখেন সেই পতেঙ্গা থেকে মা ও শিশু হাসপাতাল পর্যন্ত আর কোন হাসপাতাল নেই। কয়েক লক্ষ লোক এখানে বাস করে। আমরা একটা হিসাব দেখিয়েছি সাড়ে চার লাখ লোকের বাস এ অঞ্চলে। ওখানে কেউ হার্ট এটাক করলে মেডিকেল পর্যন্ত আসতে আসতে তার অবস্থা ক্রিটিকেল হয়ে যায়। আরেকটা জিনিস দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে। জিইসি থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে যেতে দুই মিনিটের রাস্তা কোনভাবেই আধঘণ্টার আগে পেরোনো যায় না। এ জায়গাটা নিয়ে আমরা কেউ কথা বলি না। রাস্তার পাশে হাসপাতাল আছে, বিভিন্ন স্থাপনা আছে, ধর্মীয় স্থাপনা আছে, সবকিছু মিলিয়ে আমরা যদি একটু খোলামনে বলি, একটা সুন্দর চিত্র ফুটে উঠবে এবং চট্টগ্রামবাসী এ থেকে ভালো উপকৃত হতে পারবো বলে আশা করি।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট