চট্টগ্রাম বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যেক সংস্থার সমন্বয় ও সদিচ্ছা খুবই জরুরি

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ | ৫:০৩ অপরাহ্ণ

মাস্টারপ্ল্যান বিভিন্ন ধাপে ধাপে করার জন্য স্টেপ রাখতে হয়। একসাথে সবকিছু শুরু করলে শেষ করা যায় না। এটা আমরা দেখতে পাচ্ছি ১১ হাজার কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে। সবগুলো কাজ একসাথে ধরা হয়েছে। এজন্য এখানে প্রপার সুপারভিশন হচ্ছে কিনা আমার সন্দেহ আছে।

কারণ যে সমস্ত খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে, সেখানে যে রিটেনিং ওয়াল দেয়া হচ্ছে, ওখান থেকে যে বর্জ্যগুলো বের হচ্ছে সেগুলো আর পরিষ্কার হচ্ছে না। কিছু কিছু বর্জ্য খালেই পড়ে আছে, আবার কিছু মাটিতে পড়ে আছে। এজন্য শুধু কাজ করলেই হবে না, ওটা প্রপার ইমপ্লিমেন্টেশনে যেতে হলে একশন হচ্ছে কিনা, পারফর্ম করছে কিনা সেটা দেখতে হবে।

 

এসব দেখার জন্য আসলে কী দরকার? যেকোন প্রকল্পে ফিজিবিলিটি স্টাডি হওয়ার পরও ওটাকে একটা ক্রস চেকিং দিতে হবে। কারণ ওখানে কিছু কিছু ফ্ল থেকে যেতে পারে। ওগুলো চেকিংয়ের মাধ্যমে উঠে আসতে পারে। তাহলে বিষয়টা আরও ত্রুটিমুক্ত হবে। যারা কোন একটা স্ট্রাকচার ডিজাইন করে সেখানে আবার দেখা দরকার।

 

মেইনলি সমস্যা হয় কনস্ট্রাকশন করতে গেলে। কনস্ট্রাকশন করতে গিয়ে আমরা দেখি সুপারভিশন যথাযথভাবে হচ্ছে না। সিডিএ’র একটা প্রকল্প ছিল দুই নাম্বার গেট থেকে অক্সিজেন রোড। সেখানে আমাদের চুয়েটের একটা টিম ছিল সুপারভিশনে। কিন্তু আমরা যখন কিছু বিষয়ে আপত্তি জানানো শুরু করলাম, তখন মাস দুয়েক পর হঠাৎ করে সিডিএ থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ হয়ে গেলো।

 

বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার যখন হচ্ছিল, তখন আমরা চুয়েট থেকে কিছু সংশোধনী আর প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে আমাদের কথাগুলো শোনা হয়নি। এরপর সেখানে এক্সিডেন্টের ঘটনা ঘটলো। বহদ্দারহাট টার্মিনাল নিয়ে বলতে গেলে ওটা আসলে এখন আর টার্মিনাল নেই। সবগুলো গাড়ি এখন টার্মিনাল ছেড়ে বহদ্দারহাট মোড়ে চলে এসেছে। এটার পারমিশন কে দিলো? একইভাবে শাহ আমানত ব্রিজের মুখেও দেখবেন শতশত গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। এতে করে তীব্র ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য প্রত্যেক পর্যায়ে একটা চেকিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

 

এখন দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু রোড ডিভাইডার দিয়ে ছোট করে ফেলা হয়েছে। ডিভাইডার খুবই প্রয়োজন। তবে ডিভাইডার দেওয়ার কিছু শর্ত আছে। একদিকে যদি মিনিমাম টু লেন না থাকে, তাহলে ডিভাইডার দেয়ার কোন জাস্টিফিকেশন নেই। এতে করে ওখানে ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হয়। অক্সিজেন রোড দেখেন, ওখানে একদিকে পাঁচ মিটার রোডও নেই। তাহলে পাঁচ মিটার রোড দিয়ে দুইটা গাড়ি কীভাবে ক্রস করবে? এজন্য যেসব রোড ছোট আছে, সেগুলো কীভাবে বাড়ানো যায় তা দেখতে হবে।

 

আমাদের প্রপার প্ল্যানিং করতে গেলে প্রথমেই দেখতে হবে ল্যান্ড ইউজ প্ল্যানিং। এখন যেগুলো আছে সেগুলোকে নতুনভাবে মোডিফাই করে বর্তমানে নতুনভাবে যেগুলো হবে, ল্যান্ড ইউজ প্ল্যানিংটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আবার আছে রোড নেটওয়ার্ক প্ল্যানিং, কিছু নেটওয়ার্কে আনতে হবে। আর ইন্টারসেকশনে সবসময় রিকশা আর সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট