চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

জরুরি বিভাগেও মিলছে আইসিইউ’র সুবিধা

ইমাম হোসাইন রাজু

২২ জানুয়ারি, ২০২৪ | ১২:২৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে স্থাপন করা হয়েছে আইসিইউ সাপোর্ট সম্বলিত তিন শয্যার ‘রিসাসিটেশন’ কক্ষ। যে কক্ষে তাৎক্ষণিক আইসিইউ’র সাপোর্ট প্রয়োজন হওয়া মুমূর্ষু রোগীকে সকল ধরনের আইসিইউ’র সুবিধা দিতে পারবেন চিকিৎসকরা। শয্যা ছাড়াও ইতোমধ্যে ‘রিসাসিটেশন’ কক্ষে সংযুক্ত করা হয়েছে সকল ধরনের যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীও। ফলে চালু হওয়া এ কক্ষেই আইসিইউ’র সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন রোগীরা।

 

জানা যায়, বিদায়ী বছরের শেষ দিকে এ কক্ষ চালুর উদ্যোগ নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে চলতি মাসের শুরুতেই স্থাপন করা হয় তিনটি শয্যা। যার নাম দেওয়া হয় ‘রিসাসিটেশন কক্ষ’। এ কক্ষে আইসিইউ’র সাপোর্ট দেওয়ার জন্য একজন এনেস্থেসিওলজিস্টের পাশাপাশি হৃদরোগ চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার, তিনজন নার্সসহ একটি টিম সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন।

 

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান বলেন, ‘মুমূর্ষু রোগী যারা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন, তাদের অনেকের তৎক্ষণাৎ এইচডিইউ কিংবা আইসিইউ’র সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। এ জন্য জরুরি বিভাগের মধ্যেই ৩ শয্যার রিসাসিটেশন কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে আইসিইউ’র সাপোর্ট দেওয়ার জন্য সকল কিছু প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি এ সাপোর্ট প্রদানের জন্য সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসকও নিয়োজিত আছেন। আপাতত ৩ শয্যা হলেও ভবিষ্যতে শয্যা আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।’

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইসিইউতে থাকা একজন রোগী যে ধরনের সাপোর্ট পেয়ে থাকেন, এ কক্ষেও তা পাবেন একন মুমূর্ষু রোগী। কেননা জরুরি বিভাগে আসা অনেক রোগীর তাৎক্ষণিক আইসিইউ’র সাপোর্ট প্রয়োজন হয়ে থাকে। কিন্তু শয্যা খালি না থাকায় রোগীকে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি রোগীকে রিসাসিটেশন সাপোর্ট দেওয়া যায়, তাহলে ওই মৃত্যু থেকে বেঁচে ওঠাও সম্ভব হয়।

 

তথ্য অনুসারে, ১৯৬০ সালে মাত্র ১২০ শয্যা ও অল্প কিছু রোগী নিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে বৃহত্তর চট্টগ্রামের একমাত্র টার্শিয়াল পর্যায়ের এ হাসপাতালে। প্রথম দিকে হাসপাতালটিতে মাত্র পাঁচ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম চালু ছিল। সবশেষ ২০০৫ সালে তা ১২ শয্যায় উন্নিত হয়। যদিও তখনও সাধারণ শয্যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১০ টিতে। ২০১৩ সালে সাধারণ শয্যা বেড়ে ১৩১৩ তে উন্নিত হলেও বাড়েনি আইসিইউ শয্যা। ১৫ বছর পর ২০২০ সালের অক্টোবরে বেড়ে দাঁড়ায় ২০ শয্যায়। তবে দীর্ঘ বছর পর ২০ শয্যায় উন্নিত করা হলেও বর্তমানে ১৮টি শয্যা দিয়েই মুমূর্ষু রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের একমাত্র টার্শিয়ারি পর্যায়ের বৃহৎ এ হাসপাতাল।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট