চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

‘উঠবো জেগে ছুটবো বেগে’

জুবাইর উদ্দিন

২০ জানুয়ারি, ২০২৪ | ৭:৩৩ অপরাহ্ণ

উপর থেকে হাস্যোজ্জ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নিচে বাঙালির নিজস্ব অর্থায়নে বানানো গর্বের পদ্মা সেতু, ঢাকার বুক চিরে দ্রুতগতিতে চলা মেট্রোরেল, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত টানেল, স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ, শিক্ষা-চিকিৎসা, কৃষি- তথ্যপ্রযুক্তিসহ শতভাগ বিদ্যুতায়নে এগিয়ে চলার চিত্র।

 

নগরীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চট্টগ্রাম মিলনায়তনে টাঙানো ছোট এক ছবিতেই গত ১৫ বছরে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার এমন সব দৃশ্য একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। যা এঁকেছে ঢাকার খুদে আঁকিয়ে বুশরা আনিকা ফেরদৌস। শিশু একাডেমি আয়োজিত ২য় জাতীয় শিশু চিত্রকলা প্রদর্শনীর ‘গ’ বিভাগে ছবিটির জন্য সেরা বিজয়ী হয়েছে এ খুদে শিল্পী।

 

শিশু একাডেমির আয়োজনে গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘উঠবো জেগে ছুটবো বেগে’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে শুধু আনিকার নয়-তার মতো সারাদেশের ১০০ জন খুদে শিল্পীর চিত্রিত নানা চিত্রকর্ম শোভা পায়। এরমধ্যে ছিল চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিলয় কান্তি ধর ও কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবতাহী মো. আল্ জাওয়াদের আঁকা ছবিও।

 

শুক্রবার সকালে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আনজীর লিটন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রামের জেনারেল ম্যানেজার নূর আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সরোয়ার কামাল।

 

২য় জাতীয় শিশু চিত্রকলা প্রদর্শনী উপলক্ষে সারাদেশের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার অংশগ্রহণকারীদের আঁকা ছবির মধ্য থেকে বাছাইকৃত সেরা বিজয়ী ও নির্বাচিত ১০০টি ছবির প্রদর্শনী ছিল এটি। এতে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, শিশু রাসেল, ডিজিটাল বাংলাদেশ, উৎসব, মৃৎশিল্প, নগরায়ন, সবুজায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়।

 

ব্যতিক্রমী এ প্রদর্শনী দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষ। বিশেষ করে শিশুদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদেরই একজন রুহেলা রাশমীম প্রভা। এ স্কুল শিক্ষার্থী জানায়, এতো সুন্দর সব আর্ট দেখতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। ছবি তুলে রেখেছি। স্কুলের সব বন্ধুকে বলবো এবং যারা ছবি আঁকে তাদেরকেও বলবো এ রকমভাবে আঁকার কথা। বাবার সাথে প্রদর্শনী দেখতে আসে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস ওয়ানের শিক্ষার্থী নুরাত আরিবা। কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করতেই সে জানায়, বাবার সঙ্গে দেখতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে। বড় হয়ে আমিও চিত্রশিল্পী হতে চাই। আরিবার বাবা বলেন, শিশুদের অনভ্যস্ত হাতে আঁকা ছবি। কোনোটা কারও মুখ। কোনোটা পরিচিত প্রকৃতির দৃশ্য। কোনোটায় শুধুই আঁকিবুঁকি। দেখে খুব ভালো লাগছে। প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন হলে বাচ্চাদের মানসিকতা বিকশিত হবে।

 

নাহিবা নাওয়াল নামে আরেক শিশু জানায়, আমার ছবিগুলো দেখে অনেক ভালো লাগছে। সবগুলি ছবি অনেক সুন্দর হয়েছে। আমিও ছবি আঁকতে অনেক ভালোবাসি।

 

প্রদর্শনীর কিউরেটর ও দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র আর্টিস্ট অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, প্রদর্শনীটি প্রতিবছরই হয়ে থাকে। মধ্যখানে করোনার কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন থেকে প্রতিবছরই এই প্রদর্শনী চলবে। সারাদিনে প্রায় তিন-চার হাজার দর্শক ছিলেন। প্রদর্শনী দেখতে আসা শিশুরা সারাদেশের খুদে শিল্পীদের আঁকা ছবি দেখার সুযোগ পায়।

 

তিনি বলেন, ২০২৩ সালে সারাদেশ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ছবি এসেছিল। যাচাই বাছাই শেষে ১০০টি ছবি নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ছবিগুলো নিয়ে আমরা দেশের আট বিভাগে প্রদর্শনী করব। চট্টগ্রাম থেকে শুরু হলো। প্রদর্শিত ছবিগুলো বিক্রি করা হবে। ছবির শিল্পীকে সম্মানী হিসেবে বিক্রি থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে দেয়া হবে।

 

যারা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী তারা কিভাবে জানতে পারবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন বিষয় থাকে। তিনটি গ্রুপ থাকে।

 

 

পূর্বকোণ/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট