চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

তিন আসনে নৌকার ‘বিদ্রোহী টেনশন’

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

১১ ডিসেম্বর, ২০২৩ | ২:০৮ অপরাহ্ণ

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলে তিনটি আসনে কিছুটা নির্ভার ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। কিন্তু গতকাল তিন হেভিওয়েট বিদ্রোহী প্রার্থী আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় ভোটের মাঠে গরম হাওয়া বইতে শুরু করেছে। শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে টেনশন বেড়েছে চট্টগ্রামের তিনটি সংসদয়ী আসনের নৌকা প্রার্থীদের।

 

চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১২টিতে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বাকি চারটি আসনে তিন মন্ত্রী ও এক সংসদ সদস্য বিদ্রোহী প্রার্থীর টেনশনমুক্ত ছিলেন। তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ৩২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের অন্তত আটজন হেভিওয়েট বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। আপিল শুনানি শেষে প্রথমদিনে চার শক্তিশালী প্রার্থীর মনোননয়ন বৈধতা দেয় নির্বাচন কমিশন। এরফলে তিন আসনে এখন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে ফিরে আসছেন শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী।

 

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে ভোটের মাঠে ফিরেছেন নৌকার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং অফিসার। আপিল শুনানি শেষে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। গিয়াসের প্রার্থিতা বাতিলে কিছুদিন টেনশনমুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহবুব উর রহমান রুহেল। গিয়াসের মনোনয়ন ফিরে পাওয়ায় টেনশন বেড়েছে রুহেলের। রুহেল আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে।

 

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ আংশিক) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী নোমান আল মাহমুদ বিদ্রোহী টেনশনমুক্ত ছিলেন। দলের হেভিওয়েট প্রার্থী নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সাবেক কাউন্সিলর বিজয় কুমার চৌধুরী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চুর মনোনয়ন বাতিলের পর বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কিছুটা নির্ভার ছিলেন নোমান। তিন প্রার্থীই নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন। আপিল শুনানির প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন আবদুচ ছালাম। এখন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী নোমান শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন।

 

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেবের মধ্যে বিরোধ ছিল প্রকাশ্য। দুই পক্ষের বিরোধ কাদা ছুড়াছুড়িতে রূপ নেয়। বিরোধের জের ধরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেন মোতালেব। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পুরনো বিরোধ দাউ দাউ করে জ¦লে উঠে। এরমধ্যে মোতালেবের মনোনয়ন বাতিলে স্বস্তি নেমে আসে নদভীর সমর্থকদের মধ্যে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির পর মোতালেবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে কমিশন। ভোটের মাঠে ফিরছেন মোতালেব। বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন নৌকার প্রার্থী।

চার আসনে আগে থেকে বিদ্রোহী-টেনশন

চট্টগ্রাম-১০ (খুলশী, পাহাড়তলী, হালিশহর) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু টেনশনে আছেন সাবেক মেয়র মনজুর আলমকে নিয়ে। সজ্জন ও দানশীল ব্যক্তি হিসেবে খ্যাতি রয়েছে মনজুর আলমের। দুজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার। কিন্তু নৌকা প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর মনোনয়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন মনজুর আলম। বাচ্চুর হলফনামায় ফৌজদারি মামলা ও ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করার অভিযোগ করেছেন মনজুর। নির্বাচন কমিশনের ২২৬ নং সিরিয়ালে রয়েছে আপিল আবেদনটি।

 

চট্টগ্রাম-১১ (পতেঙ্গা-বন্দর) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম এ লতিফ ও কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমনকে ঘিরে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ভোটের মাঠ। নগর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ দুই প্রার্থীকে ঘিরে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

 

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী ছাড়াও বর্তমান সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীকে ঘিরে ভোটের আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ।

 

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আটজন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী।

 

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান ও আ. লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটনকে ঘিরে টেনশনে রয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।

বিদ্রোহীমুক্ত চার নৌকা প্রার্থী

১৬ আসনের মধ্যে চারটি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা নির্ভার রয়েছেন। তারা হলেন, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তবে নওফেলের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আপিল করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সনজীদ রশীদ চৌধুরী।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট