চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

১৮০ ফ্ল্যাটের ১০০টিই খালি

নওশের আলী খান

৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ | ১২:৪১ অপরাহ্ণ

একটি বাসা বরাদ্দ পাওয়ার জন্য কি-না প্রতিযোগিতা। বাসা দখল নেয়ার জন্য  লাগত মোট অংকের টাকা।  বরাদ্দ পেতেও খরচ হত টাকা। সেই বাসা এখন পড়ে আছে খালি। একটি দু’টি নয়, একশ বাসাই (ফ্ল্যাট) খালি। কোন বাসিন্দা নেই। খালি ভবনে এখন নিত্য বসে মাদকের আসর। কয়েকটি ভবনে এখনো যারা বসবাস করছেন তারা ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়। নগরীর শেরশাহ সরকারি কলোনির সরকারি ভবনগুলোর এই হাল গত কয়েক বছরের।

 

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির  সরকারি কর্মচারীদের জন্য সরকার শেরশাহ এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করে ১৯৭২ সালে  চারতলা বিশিষ্ট ১৬ ফ্ল্যাটের তিনটি এবং  তিন তলা বিশিষ্ট ১২ ফ্ল্যাটের তিনটি মোট ৮৪টি  ফ্ল্যাটের ৭টি ভবন নির্মাণ করে। এরপর ১৯৭৪ সালে একই জায়গায় ৬ তলার ২৪ ফ্ল্যাটের আরো ৪টি ভবন নির্মাণ কর হয়। ১০টি ভবনে মোট ১৮০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করে   পর্যায়ক্রমে সরকারি কর্মচারিদের মধ্যে তা বরাদ্দ প্রদান  করা হয়।  ভবনগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয় হয় রহমতগঞ্জস্থ গণপূর্ত বিভাগ-২ কে। সরকারের সব সংস্থার লোক এখানে বসবাস শুরু করেন। ’৮০ ও ’৯০ দশকে এসব বাসা বরাদ্দ পাওয়ার জন্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে  চলত তীব্র প্রতিযোগিতা। কোন বাসা খালি হলে দখল পাওয়ার জন্য কে কত টাকা বেশি দেবে এ নিয়ে রীতিমত  নিলামের মত কাজ কারাবার হত। এরপর বরাদ্দ পাওয়ার জন্য  চলত দেনদরবার।  তিন রুমের একেকটি বাসার জন্য লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত লেনদেন হত। যারা সরকারি বাসায় বসবাস করেন তাদের বেতন  থেকে বাসা ভাড়ার টাকা  এবং অন্যান্য কর বাবদ আরো  ৫ শতাংশ কর্তন করে রাখা হয়ে থাকে।

 

জানা গেছে, ২০১৫ সালের পর থেকে এই সরকারি কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের বসবাসের হার কমতে শরু করে। ২০২০ সাল থেকে অনেকগুলো ভবন শূন্য হয়ে যায়। সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ৬তলা বিশিষ্ট ৪টি ভবনের ৯৬টি  বাসায় বর্তমানে বাস করছেন মাত্র ১৬টি পরিবার। অবশিষ্ট ৮০টি বাসা দীর্ঘদিন ধরে খালি। এছাড়া তিনতলা বিশিষ্ট  তিনটি ভবনের ৩৬টি বাসায় বাস ১৬টি পরিবার। ২০টি খালি। ১০টি ভবনের ১৮০ বাসার মধ্যে ১০০টি বাসা খালি। অথচ প্রত্যেকটি বাসায় রয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ। ৬তলা ১নং ভবনে প্রতিদিন মাদকের আসর বসে। বাসার জানালার গ্রিল কেটে নিয়ে গেছে চোরের দল।

 

এত বিপুল সংখ্যক বাসা খালি  কেন জানতে চাইলে শেরশাহ কলোনি সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি  মো. মাহবুব আলম বলেন, অর্ধশত বছরের পুরাতন ভবনগুলোর  সবকটি জরাঝীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আবেদনের পরও সময়মত সংস্কার করা হয় না। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বেতন বেড়ে যাওয়ায় যে বাসা ভাড়া কাটা হয় তা দিয়ে বাইরে আরো ভাল বাসা পাওয়া যায়। ফলে সরকারি কর্মচারীদের এখন আর এসব বাসায় থাকার আগ্রহ নেই। বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় কলোনিতে কোন নিরাপত্তা নেই। কলোনির বাসিন্দা সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মচারী মো. খালেদ হোসেন  বলেন,  আমার বাসার রান্নাঘর, বাথরুম ও ডাইনিংয়ের  আস্তর খসে খসে পড়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালের ১৬ আগস্টে গণপূর্ত বিভাগকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হলেও এখানো পর্যন্ত সংস্কার করা হয়নি। আমিও চলে যাব।

 

ভবনগুলো এভাবে জনমানবহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার ব্যাপারে  গণপূর্ত বিভাগি-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী রাহুল গুহের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভবনগুলোর বয়স ৫০ বছর হয়েছে। সার্ভে করা হবে। এরপর সংস্কার করা হবে। তবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বেড়ে যাওয়ায় এবং শেরশাহ এলাকায় কম ভাড়ায় ভাল বাসা পাওয়া যাওয়ায় সরকারি কর্মচারী সরকারি বাসা ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে ভবনগুলো ভেঙে আগ্রাবাদের মত আধুনিক সুবিধা সম্বলিত  বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট