চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দীন

বটতলী রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করে কমান্ডারসহ ৩ রাজাকারকে হত্যা করি

নিজস্ব সংবাদদাতা, লোহাগাড়া

৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ | ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দীন (৭০) বর্তমানে কলাউজান ইউনিয়নের মেম্বার। তিনি পশ্চিম কলাউজানের বকসু সিকদার বাড়ির মরহুম সিরাজুল হকের পুত্র।

 

যুদ্ধকালীন সময়ে পদুয়া উচ্চ বিদ্যালযের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যোগ দিতেন। মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দীন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতার  পথে যখন এগিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক সে মুহূর্তে পশ্চিমা হানাদার বাহিনী নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড শুরু করে।

 

পশ্চিমাদের অত্যাচার-অবিচার বৃদ্ধি পেলে তরুণ কামাল উদ্দীন ও তাঁর সহযোগীরা দেশ ত্যাগ করে ভারত চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সহযোগী আহমদ হোসেন, তার বড় ভাই জালাল উদ্দীন, মোহাম্মদ ইউসুফসহ আরো কয়েকজনকে সাথে তিনি লামা উপজেলাধীন ক্যায়াজুর পাড়া হয়ে গভীর বনের মধ্য দিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এসময় তাঁরা জানতে পারেন মুক্তিবাহিনীর একটি দল ওই পথ দিয়ে এগিয়ে আসছেন। বহুকষ্টে অগ্রসরমান ওই মুক্তিবাহিনীর দলের সন্ধান নিয়ে একত্রে মিলিত হন।

 

গ্রুপ কমান্ডার ছিলেন এ.কে.এম সামশুল আলম। ওখানে তাঁরা স্বল্প সময়ে কমান্ডারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে আহমদ হোসেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইসমাইল, ইব্রাহিম, মুহিবুল্লাহ, আলী আহমদ, জালাল, জয়নাল আবেদীন ও সিরাজুল হকসহ ২০/২৫ জনের দল নিয়ে তাঁরা সেখানে অবস্থান করতে থাকেন। এরপর তারা বিভিন্ন রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেন। পরে পুটিবিলার জোড়পুকুর এলাকায় এসে অপর এক মুক্তিযোদ্ধা দলের সাথে মিলিত হন। এ এলাকায় সবাই মিলে একটি মুক্তিযোদ্ধার ঘাঁটি স্থাপন করেন। ওই ঘাঁটি থেকে বিভিন্ন রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

 

বটতলী মোটর স্টেশনস্থ একটি মার্কেটের ২য় তলায় ছিল তৎকালীন সময়ে টেলিফোন এক্সচেজ কার্যালয় এবং তৎসংলগ্ন একটি কক্ষে ছিল রাজাকার ক্যাম্প। ওই ক্যাম্প থেকে রাজাকারেরা বিভিন্ন এলাকায় অত্যাচার-নির্যাতন চালাত। অবশেষে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে পুটিবিলার জোড়পুকুর ঘাঁটির মুক্তিযোদ্ধারা নিশিরাতে উল্লেখিত রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করেন। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড গুলি বিনিময় হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে রাজাকারদের  অনেকেই ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে ধান ক্ষেত দিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু গুলি বিনিময়কালে রাজাকারের গুলিতে কামাল উদ্দীনের আপন বড় ভাই জালাল উদ্দীনের একটি চোখ গুলিবিদ্ধ হয়। মুক্তিযোদ্ধারা তাঁকে উদ্ধার করে ঘাঁটিতে নিয়ে যান এবং অতি গোপনে চিকিৎসা করেন।

 

একই সময় মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার ক্যাম্প দখল করে রাজাকার ক্যাম্প কমান্ডার আবদুল আওয়ালসহ ৩ জনকে আটক করে ঘাঁটিতে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে হত্যা করেন। এরপর কামাল উদ্দীনসহ দলের অন্যান্যরা রাজঘাটা, দোহাজারী, লামা, টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকার রাজাকার ক্যাম্পে আক্রমণ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেন। যুদ্ধ শেষে দলীয় কমান্ডারের নির্দেশে কক্সবাজার থানায় তাঁরা অস্ত্র জমা দেন।

 

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট